বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

ঈদে মেরাজ শরিফ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২২ পিএম | 51 বার পড়া হয়েছে
ঈদে মেরাজ শরিফ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

দয়াময় আল্লাহতাআলা স্থান কালের উর্ধ্বে মানব জ্ঞানের অতীত অচিন্তনীয় উর্ধ্ব জগতে তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে দূরত্ত্বহীন নৈকট্যে উপনীত করে তাঁর প্রিয়তম মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামকে সাক্ষাত দান মেরাজ শরীফ। দয়াময় আল্লাহতাআলা তাঁর মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামকে সাক্ষাত দানের মাধ্যমে সর্বসৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম অতুলনীয় মহাপ্রকাশের চির গৌরবময় মহাউপলক্ষ পবিত্র ঈদে মেরাজ শরীফ।

সত্য ও জীবনের উপলব্ধির জন্য অতি অপরিহার্য মৌলিক ঈমানী বিষয় ঈদে মেরাজ শরীফের মহান তাৎপর্য্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে আজ ঢাকা প্রেসক্লাব সম্মুখে সমাবেশ ও সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ব সুন্নি আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দয়াময় আল্লাহতাআলার সাথে আমাদের প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের মোবারক প্রত্যক্ষ সাক্ষাত মহান মেরাজ শরীফ সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার সংযোগ ও বন্ধন এবং অসীম করুনার উৎস।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মহান মেরাজ শরীফ প্রিয়নবীর নিকট স্বয়ং আল্লাহতাআলার মহিমাময় প্রত্যক্ষ প্রকাশ এবং প্রিয়নবীর মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির নিকট রহমতময় পরোক্ষ প্রকাশ। তিনি বলেন, আল্লাহতাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতায় মহান প্রিয়নবীকে স্থান কালের উর্ধ্বে তাঁর পরম নৈকট্যে পৌঁছিয়ে তাঁর পবিত্র মহাসত্তার নূর ও তাজাল্লিতে মিলিত করে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সত্যের আলো, জীবনের কেন্দ্র এবং সর্বজ্ঞান, সর্বগুণ ও সর্বকল্যাণের উৎসরূপে প্রকাশ করেছেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মেরাজ শরীফ মহান প্রিয়নবীর সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের মাধ্যমে আল্লাহতাআলার স্বয়ং প্রকাশ যা সমগ্র সৃষ্টির জন্য সত্য ও মুক্তির উৎস। তিনি বলেন, সঠিক পথে মেরাজ শরীফের শোকরিয়া ও উদযাপন না হলে জীবন মিথ্যার আধাঁরে নিমজ্জিত হবে। তিনি বলেন, ঈদে আজম ও ঈদে মেরাজ হুকুমগত বিধিবদ্ধ ঈদ নয় কিন্তু ঈমানী হৃদয়ের ঈদ-ঈমানী প্রাণের ঈদ-অসীম প্রেমের ঈদ, যার সাথে অন্য কোন আমলগত বিষয়ের তুলনা চলেনা, যা অন্য সব ঈদের উৎস।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাথে আল্লাহতাআলার প্রত্যক্ষ সাক্ষাত মেরাজ শরীফের মূল বার্তা আল্লাহতাআলার সাথে যুক্ত হওয়ায়ই অস্তিত্ব রক্ষা এবং সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার সাথে যুক্ত হওয়ার মূল কেন্দ্র আল্লাহতাআলার প্রত্যক্ষ বন্ধন প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম।

আল্লাহতাআলার প্রকাশ মেরাজ শরীফ প্রাণাধিক প্রিয়নবীর মাধ্যমে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার অসীম করুণা ও সুরক্ষা এবং ভালোবাসা উল্লেখ করে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দয়াময় আল্লাহতাআলা ও প্রাণাধিক প্রিয়নবীর ভালোবাসায় সব মানুষকে ভালোবাসা ও সব মানুষের দোজাহানের কল্যাণ ও মুক্তি সাধনাই ঈদে মেরাজ শরীফের অসীম শিক্ষা ও নির্দেশনা, যার বাস্তব রূপায়ণ সত্য ও মানবতার রাষ্ট্র ও অখন্ড মানবতার দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, জীবনের দয়াময় স্রষ্টার গুণ-জ্ঞান-আলো রেসালাতের রহমতের ধারায় আলোকিত জীবন ও সকল মানুষের জন্য নিরাপত্তা-অধিকার-স্বাধীনতা-মর্যাদা-ভিত্তিক সর্বকল্যাণময় সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও অখন্ড মানবতার মুক্ত দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত (Authority of life & state & world of humanity) গড়ে তোলার দিকদর্শন মহান মেরাজ শরীফ।

পরিশেষে তিনি দুনিয়াব্যাপী মিথ্যা ও অবিচারের ধারক নানাবিধ অপশক্তির গ্রাসে রূদ্ধ সত্য ও বিপন্ন জীবনের মুক্তি সাধনায় মহান ঈদে মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ও নির্দেশনার বাস্তবায়নে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদত্ত সর্বজনীন মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সত্য ও মানবতায় বিশ্বাসী সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে ঈদে মেরাজ শরীফ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটির দাবি জানান আল্লামা_ইমাম_হায়াত।

 

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত

শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, আরব আমিরাত প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
শারজাহ্ এয়ারপোর্ট আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, শারজাহ্ আজ থেকে শারজাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমিত আকারে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

শারজাহ্ মিডিয়া ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপটি একটি নির্ধারিত কর্মসূচীর অধীনে এবং বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।

যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাদের বিমান সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করে প্রস্থানের সময় নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে বজায় রেখে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে, মসৃণ কার্যক্রম এবং দক্ষ পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

কবি ও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম
শরিফ ওসমান হাদি : এক অদম্য উচ্চারণ

নলছিটির ভোরের আলোয় যে শিশুর প্রথম কান্না,
কে জানত সেই কণ্ঠ একদিন হয়ে উঠবে জনতার ডাক।
ঝালকাঠির নদী-হাওয়ায় বড় হওয়া সেই তরুণ
বুকের ভেতর লালন করত এক অদম্য স্বপ্নের আগুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে
তিনি শুধু পাঠ নেননি—
রাষ্ট্র, ন্যায় আর মানুষের অধিকারের মানে
নিজের ভেতর গেঁথে নিয়েছিলেন শপথের মতো।
শ্রেণিকক্ষে ছিলেন শান্ত, যুক্তির দীপ্তিতে উজ্জ্বল,
কিন্তু রাজপথে ছিলেন বজ্রকণ্ঠ—
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার
এক দৃপ্ত প্রতিজ্ঞা।
জুলাইয়ের উত্তাল দুপুরে
যখন শহর জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের ঢেউয়ে,
তিনি দাঁড়িয়েছিলেন সামনের সারিতে—
চোখে আগুন, কণ্ঠে অদম্য সাহস।
তিনি বলেছিলেন,
মানুষের অধিকার কোনো দয়া নয়,
এটা জন্মগত—
এটা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ইনকিলাবের পতাকা উড়িয়ে
তরুণদের ডেকেছিলেন জাগরণের পথে,
বৈষম্যের দেয়ালে লিখেছিলেন প্রশ্ন—
“কেন নয় সমতা, কেন নয় ন্যায়?”
তারপর একদিন—
পল্টনের ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গুলির শব্দ।
রক্তে ভিজে গেল স্বপ্নের শার্ট,
নীরব হয়ে গেল এক জাগ্রত কণ্ঠ।
দূরদেশের হাসপাতালের শীতল কক্ষে
১৮ ডিসেম্বর থেমে গেল হৃদস্পন্দন,
কিন্তু থামেনি উচ্চারণ—
শহরের বাতাসে আজও তা প্রতিধ্বনি তোলে।
শাহবাগের পথে, মিছিলের ভিড়ে,
বিচারের দাবিতে কাঁপা স্লোগানে
তিনি ফিরে আসেন বারবার—
রক্তমাখা জুলাইয়ের প্রতিটি স্মৃতিতে।
মৃত্যু তাঁকে নিভিয়ে দিতে পারেনি,
বরং ছড়িয়ে দিয়েছে অগণিত হৃদয়ে।
তিনি এখন এক প্রজন্মের সাহস,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নাম।
শরিফ ওসমান হাদি—
তুমি কেবল একজন মানুষ নও,
তুমি এক সময়ের জ্বালা,
একটি জাতির বিবেকের রক্তাক্ত উচ্চারণ।

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর

ভবদহের কথকতা

জেমস আব্দুর রহিম রানা কবি ও সাংবাদিক, মণিরামপুর, যশোর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ভবদহের কথকতা

রাস্তা দিয়ে নৌকা চলে
নদীতে নাই জল,
খেলার মাঠে মাছ ধরে সব
ভাসে শেওলা দল।
বলতে পার গল্প এসব
কেমন করে হয় ?
নদীর বুকে গরু চরে
পথে নৌকা বায় !
হ্যা-রে ভাই ! সত্যি এসব
দেখতে যদি চাও-
বাংলাদেশে যশোর জেলার
ছিয়ানব্বই যাও।
দেখবে সেথায় মানুষগুলো
আধেক মরে গেছে
সব হারিয়ে শুন্যপ্রাণে
কেবল বেঁচে আছে।
স্রোতের ভাঙন, বন্যা প্লাবন
সেসব কিছু নয়
বৃষ্টির জল জমে জমে
ঘটছে বিপর্যয়।
পলিমাটির উজান স্রোতে
ভবদহের বুক
ভরাট হয়ে নিলো কেড়ে
ছিয়ানব্ব‌ই এর সুখ।
নদীতে তাই সবুজ ডাঙা
গরু বাছুর চরে,
বর্ষা এলে কোমর জল হয়
চলার পথের পরে।
জল সরেনা সাতাশ বিলের
মাঠের ফসল নাই
গাছ গাছালি উজাড় হলো
দেনার দায়ে তাই।
গবাদিসব পশুগুলো
হাড় চামড়া সার
জলের দামে বেচতে হলো
রাখবে কোথায় আর ?
দুমুঠো ভাত, গরুর খাবার
পানের শুদ্ধ জল
অভাব সবি, নাইকো জাগি
একটি টিউবয়েল।
বুকটা সমান ডুবে আছে
কোথাও পানির নীচে,
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে হয়
তুলসী পিড়ি সেঁচে।
শিশুর মুখে বাড়তি খাবার
একটু গরুর দুধ
কে জোগাবে, কোথায় পাবে?
নেই সে সুযোগটুক।
কেউ বেচে খায় শাপলা শালুক
কেউবা শামুক খোটে-
বস্তা টেনে কেউ খেটে খায়
নওয়াপাড়ার ঘাটে।
মাছ ধরা এক কমোন পেশা
বউ বেটাতে মিলে
সারাটা রাত বশা ফেলে
কাটাতে হয় বিলে।
পুষ্টিহীনা মায়ের কোলে
রুগ্ন ছেলে কাঁদে
পেটে যে তার রয়ে গেছে
আজন্মের খিদে।
মেটেনা তার পেটের ক্ষুধা
শুকনো বক্ষ চুষে,
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
মায়ের বক্ষদেশে।
চালের গুড়ো গুলে তাহার
হতভাগ্য মা
বুকের দুধের অভাব মিটায়,
তৃষ্ণা মিটেনা।
পাখীর কুজন যায়না শোনা
বাড়ির আঙিনায়
এ যেন কোন বিরান ভূমি
শ্যামল শোভা নাই।
স্বাস্থ্যহীন ঐ কুকুরগুলো
দল বাধিয়া চলে
ক্ষুধার লাগি মাছ ধরে খায়
ঝাপ মারিয়া জলে।
বাশের সাঁকো প্রতিবাড়ি
খাটের পায়া জলে
মাচা বেধে কেউবা থাকে
পলিথিনের তলে।
তালের ডোঙা আছে বাধা
ঘরের খুটির সাথে
যোগাযোগের একটা বাহন
দিবস, মধ্য রাতে।
শিশুর মাজায় আঁচল বেধে
ঘুমায় রাতে মা,
চমকে উঠে থেকে থেকে
ঘুমতো আসে না।
এই বুঝি তার কোলের ছেলে
পড়লো না কি জলে
থেকে থেকে চমকে উঠে
মাছে পাখাল দিলে।
বৃদ্ধ, শিশু এক বিছানায়
কাটায় রাত্রিদিন
জন্ম -মৃত্যু খাটের পরে
দুঃখ সীমাহীন।
প্রসব ব্যথায় কাতর মাতা
সেইসে খাটের পরে,
বৃদ্ধ শ্বশুর শুয়ে আছে
যাহার একটি ধারে।
রান্না বান্না এক খাটেতে
পূঁজা-ভেলার পর,
শ্রাদ্ধ -বিয়ে স্কুল ছাদে
উপায় কি বা আর।
খেজুরভাঙা হয়না হেথায়,
রথযাত্রার মেলা
পোষ পাবনে পিঠা-পুলি
সখের যাত্রাপালা।
বিদ্যাদেবীর মন উচাটন
লক্ষ্মী তাহার সাথে,
বাস্তদেবীর চোখ ভরা জল-
উঠতে হবে পথে।
সাপের কামড়, পোকা মাকড়
করোনার নেই ভয়,
মরণ দিয়ে মরনভীতি
করছে এরা জয়।
শুন্য গোয়াল, দেবমন্দির
দেবতা সেই সাথে-
নিত্যপূঁজার কাঁসর ঘন্টা
নিথর হয়ে গেছে।
শ্মশান ঘাটে উঠেছে জল
বিদ্যালয়ের দ্বার
আধেক বছর বন্ধ থাকে
দেখবে কেবা আর?
পদ্মা নদীর উপর দিয়ে
রেলগাড়ি যায় চলে,
আমরা কি সব ভাসবো জলে
ছিয়ানব্বই বলে ?
এই পরিবেশ আর ক’বছর
থাকলে বহমান,
কালের খাতায় রইবে শুধু
ছিয়ানব্ব‌ই এর নাম।
স্তব্ধ হবে এই জনপদ
উজাড় হবে গাঁ
পেটের দায়ে ছাড়তে হবে
জন্মভূমির মায়া।
এরই মধ্যে কয়েক হাজার
গিয়েছে দেশ ছেড়ে
বাকীরা সেই পথ ধরেছে
যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কতরাজা এলো গেলো
প্রতিশ্রুতি সার-
ভবদহ তেমনি আছে
হয়নি সংস্কার।
…. ….

(ছিয়ানব্বই, এক বর্ধিষ্ণু জনপদের নাম।বাংলাদেশের যশোর- খুলনা জেলার সীমান্তবর্তী পাশাপাশি ৯৬ টি হিন্দু অধ‍্যুষিত গ্রাম মিলে এই জনপদের ধারণা প্রতিষ্ঠিত । শিক্ষা সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য দেশ বিদেশের অনেকের কাছেও ছিয়ানব্বই নামটি খুবই পরিচিত। বিগত১৯৮৮ সাল থেকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় এই বিস্তৃত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করে যাচ্ছে। )

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।

error: Content is protected !!