সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ন্যায়বিচারের শক্তি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০১ পিএম | 67 বার পড়া হয়েছে
ন্যায়বিচারের শক্তি

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ছিলেন ন্যায়পরায়ণতা ও শাসন পরিচালনার এক মূর্ত প্রতীক। তিনি ছিলেন এতটাই বিনয়ী যে, একদিন তিনি মদীনায় নিজের হাতে একটি সাধারণ মাটির দেয়াল মেরামত করছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে এক ইহুদি ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে ফরিয়াদ জানাল। লোকটি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলল:
“হে আমীরুল মুমিনীন! বসরার গভর্নর আমার কাছ থেকে এক লক্ষ দিরহামের মালামাল কিনেছেন, কিন্তু এখন তিনি সেগুলোর মূল্য পরিশোধ করতে গড়িমসি করছেন।”
হযরত উমর (রাঃ) তার কথা শুনে শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কি এই দেনার কোনো লিখিত কাগজ বা প্রমাণ আছে?” ইহুদি লোকটি হতাশ হয়ে বলল, “না, আমার কাছে কোনো কাগজ নেই।”
খলিফা উমর (রাঃ) তখন আশেপাশে তাকালেন এবং মাটি থেকে একটি ভাঙা মাটির পাত্রের টুকরো (খাপরা) কুড়িয়ে নিলেন। তিনি সেই মাটির টুকরোর ওপর লিখলেন:
“তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর সংখ্যা অনেক, কিন্তু তোমার কাজের কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারীর সংখ্যা নেই বললেই চলে। অভিযোগের কারণগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখো, অথবা শাসনের গদি থেকে নেমে যাও।”
চিঠির শেষে তিনি লিখলেন—‘ইতি, উমর ইবনুল খাত্তাব’।
এই চিঠিতে কোনো রাজকীয় সিলমোহর ছিল না, ছিল না কোনো আড়ম্বর। ছিল শুধু খলিফার হাতের লেখা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার।
মাটির টুকরোর ক্ষমতা
ইহুদি লোকটি সেই মাটির টুকরো নিয়ে বসরার উদ্দেশে রওনা হলো। যখন সে বসরার শাসকের হাতে সেটি দিল, তখন এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটল।
বসরার শাসক তখন ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দূর থেকে লেখালেখিবিহীন একটি মাটির টুকরো দেখলেও, তাতে খলিফা উমর (রাঃ)-এর নাম ও হাতের লেখা দেখামাত্রই তাঁর শরীর ভয়ে কাঁপতে শুরু করল! তিনি তৎক্ষণাৎ ঘোড়া থেকে নেমে পড়লেন এবং সম্মানের আতিশয্যে মাটির সেই টুকরোটি চুম্বন করলেন।
ইহুদি ব্যক্তিটি তখনও ঘোড়ায় চড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বসরার শাসক মুহূর্ত বিলম্ব না করে সাথে সাথে তার সমস্ত পাওনা কড়ায়-গণ্ডায় পরিশোধ করে দিলেন।
আল্লামা জামী (রহঃ) এই ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন:
“শাসকের সম্মান এবং কঠোর শাসনক্ষমতা যদি না থাকে, তবে তাকে বেয়াদব ও ধৃষ্ট লোকদের হাতে অপমানিত হতে হয়। যেমন, সিংহের যদি দাঁত ও নখ পড়ে যায়, তবে তাকে শেষ পর্যন্ত এক ল্যাংড়া শিয়ালের হাতেও থাপ্পড় খেতে হয়।”
হযরত উমর (রাঃ)-এর এই ঘটনা প্রমাণ করে, সত্যিকারের শাসনক্ষমতা রাজকীয় আড়ম্বরে নয়, বরং শাসকের ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যেই নিহিত থাকে।
শিক্ষা:
ন্যায়বিচারের সাথে কঠোরতা না থাকলে শাসন বেশি দিন টেকে না। শাসকের ক্ষমতা ও সম্মান তার নীতির দৃঢ়তা থেকেই আসে, কোনো সিলমোহর বা আড়ম্বর থেকে নয়।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ

কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌরসভার আলমপুর এনএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে কবিহার পর্যন্ত এক কিলোমিটার আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। ১ কোটি ২২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জিন্না এন্টার প্রাইজ।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম লিটন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে পক্ষে সাইফুল ইসলাম।
ইউএনও বলেন, “ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বেড-এ-২) এর আওতায় এই রাস্তাটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার পৌরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কাজটি ড্রইং, ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।” (ছবি আছে)

 

error: Content is protected !!