শেষ নবীর উম্মতের মর্যাদা
একদিন হযরত ঈসা (আঃ) একটি পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি আটকে গেল একটি বিশাল এবং অপূর্ব সুন্দর ধবধবে সাদা পাথরের ওপর। পাথরটি থেকে যেন এক অলৌকিক নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। ঈসা (আঃ) বিস্ময়ভরা চোখে পাথরটি দেখে মনে মনে বললেন, “সুবহানাল্লাহ! এত সুন্দর পাথর আমি পৃথিবীতে আগে কখনো দেখিনি।”
তিনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, “হে আমার প্রতিপালক! এই পাথরের রহস্য কী?”
১. পাথরের ভেতর এক অন্য জগৎ
আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিলেন, “হে ঈসা, তোমার লাঠি দিয়ে এই পাথরে একটি আঘাত করো।” আল্লাহর আদেশ পেয়ে ঈসা (আঃ) তাঁর মোজেজাসম্পন্ন লাঠি দিয়ে পাথরটিকে আলতোভাবে আঘাত করলেন। সাথে সাথে পাথরটি দু’ভাগ হয়ে ফেটে গেল।
পাথরটি ফাঁক হতেই ঈসা (আঃ) এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখলেন। পাথরের ভেতর এক বৃদ্ধ লোক বসে আছেন। তাঁর পাশে সতেজ আঙুরের থোকা এবং জান্নাতি ফলমূল। বৃদ্ধ লোকটি অত্যন্ত শান্ত মনে আল্লাহর জিকিরে মগ্ন।
২. দুইশত বছরের ইবাদত
ঈসা (আঃ) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর বান্দা! আপনি এই পাথরের গহ্বরে কীভাবে এলেন?” বৃদ্ধ মুচকি হেসে বললেন, “হে আল্লাহর নবী! আমি এখানে দীর্ঘ দুইশত বছর ধরে ইবাদতে মগ্ন আছি। আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন একজন ফেরেশতার মাধ্যমে আমার জন্য জান্নাতি খাবার পাঠান। আমি এই নির্জনতায় তাঁর জিকির করেই সময় কাটাই।”
৩. শেষ নবীর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব
ঈসা (আঃ) মুগ্ধ হয়ে আল্লাহর কাছে বললেন, “হে মাবুদ! এই বৃদ্ধ কতই না সৌভাগ্যবান! দুইশত বছর ধরে সে পাথরের ভেতরে থেকেও জান্নাতি নেয়ামত পাচ্ছে। আপনার কাছে নিশ্চয়ই এ এক পরম মর্যাদাবান ব্যক্তি!”
তখন আল্লাহ তাআলা এক গোপন রহস্য উন্মোচন করলেন। তিনি বললেন:
“হে ঈসা! এই বৃদ্ধের মর্যাদা অনেক। কিন্তু শোনো, তোমার পরে এমন একজন নবীর (মুহাম্মদ ﷺ) আগমন ঘটবে, যার উম্মতের সম্মান এই বৃদ্ধের চেয়েও বেশি হবে। এই বৃদ্ধ দুইশত বছর ইবাদত করে যে মর্যাদা পেয়েছে, আমার সেই প্রিয় নবীর উম্মত যদি ভক্তি ও ভালোবাসা নিয়ে একবার তাঁর ওপর ‘দরুদ’ পাঠ করে এবং ক্ষমা চায়, তবে আমি সাথে সাথে তাদের ক্ষমা করে দেব এবং জান্নাত নসিব করব।”
৪. ঈসা (আঃ)-এর আরজি ও উম্মত হওয়া
আল্লাহর মুখে শেষ নবীর উম্মতের এই বিপুল মর্যাদার কথা শুনে ঈসা (আঃ) অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। তিনি দুহাত তুলে মোনাজাত করলেন, “হে আল্লাহ! আমাকে সেই মহিমান্বিত নবীর উম্মত হিসেবে কবুল করে নিন।” আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর এই দোয়া কবুল করলেন। একারণেই কিয়ামতের আগে হযরত ঈসা (আঃ) পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন—তবে নবী হিসেবে নয়, বরং হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর একজন অনুসারী বা উম্মত হিসেবে।
গল্পের শিক্ষা:
দরুদ শরীফের ফজিলত: মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি ইবাদত।
উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদা: আমরা শেষ নবীর উম্মত হতে পেরেছি কেবল আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে।
ঈমান ও ভালোবাসা: আমল কম হলেও যদি নবীজির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকে, তবে আল্লাহ জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।














