মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

অর্ডার যাচ্ছে প্রতিবেশি দেশে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ২:০২ পিএম | 110 বার পড়া হয়েছে
অর্ডার যাচ্ছে প্রতিবেশি দেশে

পোশাক খাতের কারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষে চরম দুর্দশা বিরাজ করছে। জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কার্যাদেশ বাতিল হয়ে গেছে। কারখানার মালিকরা বলছেন, কার্যাদেশ কমে যাওয়ার চেয়েও বড় শঙ্কা অপেক্ষা করছে সামনের দিনে। তাদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে ইন্ডাস্ট্রিই চলবে না।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। জুলাই জুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে নৈরাজ্য, সহিংসতা আর সংঘাতের পর কারফিউ জারি হয়। প্রথমবারের মত দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ে সারা পৃথিবীর সঙ্গে দেশের বাণিজ্য যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ব বাজারে তৈরি হয় ‘আস্থার সংকট’।

আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে হাল ধরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক থাকায় আশার আলো দেখেছিলেন পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। তবে আশার প্রদীপ নিভে যায় ক্ষমতার পালাবদলের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে।

বিভিন্ন শিল্প কারখানায় হামলা হয়। ঝুট ব্যবসার দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি নিয়ে এ খাতে ফের অস্থিরতা তৈরি হয়। আর শ্রমিক অসন্তোষ যেন কফিনে ‘শেষ পেরেক’ ঠোকে। প্রতিযোগিতামূলক দেশগুলো এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বা ক্রেতারাও তাদের দিকে ঝুঁকছে।

এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলছেন, ৩০ শতাংশের মত কার্যাদেশ অন্যান্য দেশে চলে গেছে।

স্প্যারো গ্রুপের শোভনও একই কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, যখন ক্রেতারা বলছেন এখন আর লাগবে না। আমরা বুঝি তারা অন্য দেশে এ কার্যাদেশ দিয়েছেন।

এক কোটি ৭০ লাখ পোশাকের একটি কার্যাদেশ হাতছাড়া হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পোশাকের মূল্য ৪ ডলার করে হলেও সবগুলোর মূল্য কত হয় তা হিসাব করে দেখুন। এ আদেশটি ২-৩টি কোম্পানি মিলে পেত। দ্য এন্টায়ার অর্ডার হ্যাভ অলরেডি মুভড।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাতছাড়া হওয়া কার্যাদেশগুলো বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানে যাচ্ছে।

কার্যাদেশ বাতিল হওয়ার বিষয়টি ১২ সেপ্টেম্বরের হওয়া সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও বলেছেন।

বাংলাদেশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি থেকে আয় করে ৫ হাজার ৫৫৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে পোশাক রপ্তানি থেকেই আসে ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

পোশাক খাতের সবচেয়ে রমরমা সময় যায় জানুয়ারি-মার্চ সময়ে। ওই সময়টায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে ছুটি ও ভ্রমণের আমেজ থাকায় তখন বাংলাদেশের পণ্যের বিক্রি বাড়ে।

ওই সময়ের পণ্যের কার্যাদেশ পেতে নমুনা পাঠাতে হয় আগস্টের ছুটির আগে। কিন্তু দেশে জুলাই থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা ঘিরে কারখানা বন্ধ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাক আউটের কবলে পড়ে অনেকেই নমুনা পাঠাতে সমস্যায় পড়েছেন বা পিছিয়ে পড়েছেন।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ‘আস্থার’ যে সংকট প্রথমে হয়েছিল, তার মাশুল এমনিতেই গুনতেই হত। এখন শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অচলায়তন তৈরি হল।

এর জেরে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত রপ্তানি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শোভন ইসলাম।

তাছাড়া রপ্তানিকারকরা যে ৩০ শতাংশ কার্যাদেশ বাতিলের কথা বলছেন, তাতেও একই পরিমাণ রপ্তানি কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে চলতি কার্যাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সঠিক সময়ে না করা গেলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।

জানা গেছে, গাজীপুর ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংগঠনের উত্তরা কার্যালয়ে ‘বিশেষ সাধারণ সভায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রেদওয়ান আহমেদ বলেন, সমস্যার শুরু হয়েছিল নাসা গ্রুপ থেকে।

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট’ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রেদোয়ান বলেন, শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে শ্রম অসন্তোষ তৈরি করছেন তারা। সমস্যা তো সামলানো গেছিল, শুরুতেই ওখানে হাত দিলে এত বড় হত না। এখন নজরুলরা কোটি কোটি টাকা ঢালছেন শ্রমিকদের পেছনে ভাঙচুর করতে, কারখানা বন্ধ করতে। সরকার ও শিল্পকে ধ্বংস করতে।

বিজিএমইএ সভাপতি রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের নামে ‘বিভিন্ন ফেডারেশন ও আন্তর্জাতিক চক্র’ ১৮ দফা দাবি তুলেছে।

সেই সভায় উপস্থিত সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, নতুন করে মজুরি বৃদ্ধি এবং বছর শেষে ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না।

এদিকে শ্রমিকদের দাবি সব বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধ; হাজিরা বোনাস (২২৫ টাকা), টিফিন বিল (৫০ টাকা), নাইট বিল (১০০ টাকা) সকল কারখানায় সমান হারে বাড়ানো; সকল কারখানায় প্রভিডেন্ড ফান্ড চালু; বেতনের বিপরীতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ন্যূনতম ১০ শতাংশ করা; শ্রমিকদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করা; বিজিএমইএ নিয়ন্ত্রিত বায়োমেট্রিক ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ করা; বায়োমেট্রিক তালিকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা। (বায়োমেট্রিক লিস্টিং হল আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে কারখানায় প্রবেশাধিকার। আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ না করলে কারখানায় প্রবেশ করতে পারেন না কর্মীরা।)

সকল প্রকার হয়রানিমূলক এবং রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার; ঝুট ব্যবসার আধিপত্য বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; কলকারখানায় নিয়োগ বৈষম্যহীন করা (নারী-পুরুষ সমান হারে নিয়োগ); জুলাই বিপ্লবে ‘শহীদ’ এবং আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা সেবা; রানা প্লাজা এবং তাজরীন ফ্যাশন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ; শ্রম আইন অনুযায়ী সকল কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন; অন্যায্যভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা এবং নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ১২০ দিন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের দাবির ‘যৌক্তিকতা’ তুলে ধরে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, বেশকিছু কারখানা বকেয়া দিচ্ছিল না। তাদের আন্দোলনের কিছু অংশ জেনুইন। এর বাইরে যা হচ্ছে, তার পেছনে ‘আগের সরকারের সঙ্গে মালিকের সংশ্লিষ্টতা’ একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন জলি।

তিনি বলেন, বিক্ষোভ বেশি হচ্ছে আগের সরকারের সাথে যাদের সম্পর্ক তাদের কারখানায়। মালিকরা দুর্নীতি, ঘুষ, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

শ্রমিকরা অনেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে হতাহত হয়েছেন দাবি করে তাদের জন্য ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান জলি।

তিনি বলেন, এই সরকারের প্রথম গুলি হয়েছে শ্রমিকের ওপর। এর তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ খাত অস্থিতিশীল থাকলে দেশের ক্ষতি, রপ্তানির ক্ষতি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আগের সরকারের সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা করছে। এ খাত স্বাভাবিক করতে সরকারকে তাই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি হয়েছে।

‎সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার তিনতলা বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

‎মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বাহিনী প্রধানের বাড়িতে চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। চোর শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বাগেরহাট শহরের একজন ভাঙ্গারি দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাই তার কোনও ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করা হতে পারে।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাগেরহাটে ঝোড়ো বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোর চক্র বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার নজর এড়িয়ে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত প্রায় দুই কয়েল তামার তার কেটে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া এই তারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনের জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

মানিকগঞ্জের শিবালয় আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্নানে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকেও অনেকে স্নানে অংশ নিতে আসেন।

এদিকে বারুণী স্নানকে ঘিরে আরিচা ঘাট-সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত এই মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এ বছর ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জাসামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খই, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় সামগ্রীর দোকান শিশুদের কাছে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপমোচন হয়। গঙ্গা যেমন সবার পাপ বহন করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিণী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তদের পাপ থেকে মুক্তিলাভের বিশ্বাস রয়েছে। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বারুণী স্নানকে ঘিরে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।

ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।

এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।

অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

error: Content is protected !!