সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

বর্ম্মরাজবংশ: পাল-পরবর্তী বাংলায় এক বিস্মৃত রাজশক্তির উত্থান ও অবসান

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৯ এএম | 81 বার পড়া হয়েছে
বর্ম্মরাজবংশ: পাল-পরবর্তী বাংলায় এক বিস্মৃত রাজশক্তির উত্থান ও অবসান

একাদশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন পালরাজ্যের শক্তি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল, ঠিক সেই রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যেই পূর্ববঙ্গে আত্মপ্রকাশ করে এক নতুন রাজবংশ— বর্ম্মরাজবংশ। এই বংশের ইতিহাস জানার প্রধান অবলম্বন ঢাকা জেলার বেলাব গ্রাম থেকে প্রাপ্ত একটি তাম্রশাসন, যা আমাদের সামনে এক বিস্ময়কর অথচ বিতর্কিত রাজবংশের ছবি তুলে ধরে।
বেলাব তাম্রশাসনের বংশপরিচয়ে পৌরাণিক ধারা অনুসরণ করে ব্রহ্মা থেকে শুরু করে অত্রি, চন্দ্র, বুধ, পুরূরবা, যযাতি ও যদু—এই দীর্ঘ যদুবংশের উল্লেখ আছে। এই বংশেই কৃষ্ণের জন্ম, এবং কৃষ্ণের জ্ঞাতি বলেই বর্ম্মবংশ নিজেদের পরিচয় দিয়েছে। বৈদিক ধর্মের পৃষ্ঠপোষক এই বংশ সিংহপুর নামক স্থানে রাজত্ব করত বলে শাসনে দাবি করা হয়েছে।
এই বংশের প্রথম উল্লেখযোগ্য শাসক বজ্রবর্ম্মা—যিনি বীর, কবি ও পণ্ডিত বলে প্রশস্তিতে বর্ণিত। তাঁর পুত্র জাতবর্ম্মা ছিলেন বর্ম্মরাজবংশের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক। প্রশস্তি অনুযায়ী তিনি অঙ্গদেশে কর্তৃত্ব স্থাপন করেন, কামরূপ জয় করেন, কৈবর্ত্তনায়ক দিব্য ও গোবর্দ্ধন নামক রাজাকে পরাজিত করেন এবং কলচুরি রাজ কর্ণের কন্যা বীরশ্রীকে বিবাহ করেন। তবে এগুলি প্রশস্তির অতিশয়োক্তি না কি ঐতিহাসিক সত্য—তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
আধুনিক গবেষকদের মতে, জাতবর্ম্মা সম্ভবত কলচুরি রাজ গাঙ্গেয়দেব ও কর্ণের অধীনস্থ সামন্তরাজ ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে পালরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেন। এই সুযোগেই তিনি পূর্ববঙ্গে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। কেবলমাত্র সিংহপুরের মতো একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের অধিপতি হয়ে একক বাহুবলে অঙ্গ, কামরূপ ও বরেন্দ্র জয় করা বাস্তবসম্মত নয়—এই যুক্তিতেই এই অনুমান গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়।
সিংহপুর কোথায় অবস্থিত ছিল, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কেউ পঞ্জাবের সিংহপুর, কেউ কলিঙ্গের সিংহপুর (বর্তমান সিঙ্গুপুরম), আবার কেউ রাঢ়দেশের সিঙ্গুরের সঙ্গে একে যুক্ত করেন। তবে কলিঙ্গে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সিংহপুর রাজ্যের অস্তিত্বের প্রমাণ থাকায় অনেকেই মনে করেন—জাতবর্ম্মা কলিঙ্গের সিংহপুরেরই অধিপতি ছিলেন।
জাতবর্ম্মার পরে রাজ্য পরিচালনার প্রশ্নে জটিলতা দেখা দেয়। বেলাব তাম্রশাসনে তাঁর পুত্র সামলবর্ম্মা-র নাম থাকলেও, বজ্রযোগিনী গ্রামে প্রাপ্ত একটি তাম্রশাসনের খণ্ডাংশ থেকে অনুমান করা যায় যে জাতবর্ম্মার পরে প্রথমে হরিবর্ম্মা রাজত্ব করেন। হরিবর্ম্মার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই—কারণ তাঁর রাজত্বের ১৯ ও ৩৯ বর্ষে লিখিত দুইটি বৌদ্ধ পুঁথি, সামন্তসার গ্রামে প্রাপ্ত তাম্রশাসন এবং তাঁর মন্ত্রী ভবদেব ভট্টের শিলালিপি—সব মিলিয়ে তিনি এক ঐতিহাসিক বাস্তবতা।
হরিবর্ম্মার রাজধানী সম্ভবত বিক্রমপুরে ছিল এবং তিনি প্রায় অর্ধশতাব্দী রাজত্ব করেন। ‘রামচরিত’-এ উল্লিখিত হরি নামক বর্ম্ম নরপতির সঙ্গে হরিবর্ম্মার অভিন্নতা থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হরিবর্ম্মার পর তাঁর পুত্রগণ রাজত্ব করলেও তাঁদের রাজ্যকাল সম্পর্কে বিশেষ তথ্য পাওয়া যায় না।
এই সময়ে বর্ম্মরাজবংশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম হল ভবদেব ভট্ট—হরিবর্ম্মার মন্ত্রী ও বাংলার এক অসামান্য ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। সিদ্ধান্ত, তন্ত্র, জ্যোতিষ, ধর্মশাস্ত্র, মীমাংসা থেকে শুরু করে কবিকলা ও আয়ুর্বেদ—প্রায় সব শাস্ত্রেই তাঁর অসাধারণ দখল ছিল। তাঁর রচিত মীমাংসা ও স্মৃতিগ্রন্থ আজও সংস্কৃত সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা পায়।‘বালবলভীভুজঙ্গ’ উপাধির মধ্যেই তাঁর বাল্যকালীন মেধার কিংবদন্তি লুকিয়ে আছে।
হরিবর্ম্মার পরে পুনরায় সামলবর্ম্মা রাজা হন। কুলজী গ্রন্থ অনুযায়ী তাঁর আমন্ত্রণেই বৈদিক ব্রাহ্মণদের বাংলায় আগমন ঘটে (প্রায় ১০৭৯ খ্রিস্টাব্দ)। কিছু কুলজীতে এই কৃতিত্ব হরিবর্ম্মার বলেও উল্লেখ আছে। যাই হোক, বাংলায় বৈদিক ব্রাহ্মণ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বর্ম্মরাজবংশের সঙ্গেই গভীরভাবে যুক্ত।
সামলবর্ম্মার পর তাঁর পুত্র ভোজবর্ম্মা রাজত্ব করেন। বিক্রমপুর থেকে প্রদত্ত বেলাব তাম্রশাসনে ভোজবর্ম্মাকে ‘পরমবৈষ্ণব’, ‘পরমেশ্বর’, ‘পরমভট্টারক’, ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে—যা ইঙ্গিত করে যে তিনি একজন স্বাধীন ও শক্তিশালী শাসক ছিলেন। কিন্তু তাঁর পরেই বর্ম্মরাজবংশ ইতিহাসের অন্ধকারে হারিয়ে যায়। সম্ভবত দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সেনবংশীয় বিজয়সেন এই বংশের অবসান ঘটান।
এইভাবেই পাল-পরবর্তী বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বর্ম্মরাজবংশ এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে—যার বহু অংশ আজও অনুমান ও বিতর্কের আবরণে ঢাকা।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!