সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

কর্ণাটদেশ থেকে বঙ্গদেশ: সেনবংশের রহস্যময় উত্থানের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৮ এএম | 68 বার পড়া হয়েছে
কর্ণাটদেশ থেকে বঙ্গদেশ: সেনবংশের রহস্যময় উত্থানের ইতিহাস

সেনরাজগণের পূর্বপুরুষেরা মূলত দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটদেশের অধিবাসী ছিলেন। প্রাচীন কর্ণাটদেশ বলতে আজকের মহীশূর রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিমাংশ এবং বম্বে প্রদেশ ও হায়দ্রাবাদ রাজ্যের দক্ষিণ ভাগকে বোঝানো হয়। সেনরাজগণের নিজস্ব শিলালিপিতে তাঁরা নিজেদের চন্দ্রবংশীয় এবং ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলে পরিচয় দিয়েছেন। সুতরাং জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের নিজেদের বক্তব্যকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে মানতে হয়।
যদিও বাংলার প্রাচীন কুলজী গ্রন্থে সেনদের বৈদ্য জাতিভুক্ত বলা হয়েছে, আবার আধুনিক কালে তাঁদের কায়স্থ বা অন্যান্য পরিচিত জাতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে—তবু সমসাময়িক লিপিতে এই দাবির কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। ফলে সেনরাজগণ যে আদিতে ব্রহ্মক্ষত্রিয় ছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহ করার বিশেষ কারণ নেই। তবে বঙ্গদেশে বসতি স্থাপনের পর বৈবাহিক সূত্রে তাঁরা অন্য কোনো জাতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন—এ বিষয়টি অনুমানসাপেক্ষ।
ব্রহ্মক্ষত্রিয় একটি পরিচিত সামাজিক গোষ্ঠী। অনেকে মনে করেন, যাঁরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং পরে ক্ষত্রিয় জীবনে প্রবেশ করেন, তাঁদের এই নামে পরিচিত করা হয়েছে। সেনরাজবংশের এক পূর্বপুরুষকে শিলালিপিতে ‘ব্রহ্মবাদী’ বলা হয়েছে—যা এই ধারণাকে আরও জোরালো করে।
এই প্রসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমান উঠে আসে। কর্ণাটদেশে, বিশেষ করে বর্তমান ধারওয়াড় জেলায়, ‘সেন’ উপাধিধারী বহু জৈন আচার্যের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা নিজেদের সেনবংশীয় বলেই উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন, বাংলার সেনরাজগণ এই জৈন আচার্যবংশ থেকেই উদ্ভূত। সম্ভবত প্রথমে তাঁরা জৈনধর্ম পালন করতেন, পরে শৈবধর্ম গ্রহণ করেন এবং শেষে ধর্মচর্চার পরিবর্তে শস্ত্রচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তবে এই ধারণার পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
সেনরাজগণ ঠিক কখন বঙ্গদেশে আসেন—এই প্রশ্নে শিলালিপিতে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা যায়। বিজয়সেনের দেওপাড়া শিলালিপিতে বলা হয়েছে যে সামন্তসেন কর্ণাটদেশে বহু যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়ে শত্রু দমন করেন এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে গঙ্গাতীরে পুণ্যাশ্রমে বাস করতে শুরু করেন। এই বিবরণ থেকে মনে হয়, সামন্তসেনই প্রথম কর্ণাট থেকে বঙ্গদেশে এসে বসবাস শুরু করেন।
কিন্তু বল্লালসেনের নৈহাটি তাম্রশাসনে বলা হয়েছে যে চন্দ্রবংশীয় বহু রাজপুত্র আগে থেকেই রাঢ়দেশে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং সেই বংশেই সামন্তসেনের জন্ম। প্রথম দৃষ্টিতে এই দুই বক্তব্য পরস্পরবিরোধী মনে হলেও, আসলে এদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। সম্ভবত কর্ণাটদেশের একটি সেনবংশ বহুদিন ধরেই রাঢ়দেশে বসবাস করছিল, যদিও কর্ণাটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বজায় ছিল। সামন্তসেন যৌবনে কর্ণাটদেশে গিয়ে যুদ্ধবিদ্যায় কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং সেই সাফল্যের ফলেই তাঁর পুত্র হেমন্তসেন রাঢ়দেশে একটি স্বাধীন রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হন।
কর্ণাটদেশ থেকে আগত এই সেনগণ কীভাবে বাংলায় ক্ষমতায় এলেন—তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। একদল মনে করেন, তাঁরা প্রথমে পালরাজাদের অধীনে উচ্চ সামরিক বা প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত ছিলেন। পরে পালরাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ধারণার পক্ষে যুক্তি হিসেবে পাল শাসনামলের তাম্রশাসনে ‘কর্ণাট’ সৈন্যদলের নিয়মিত উল্লেখ পাওয়া যায়।
অন্য একদল ঐতিহাসিকের মতে, কর্ণাটদেশীয় সেনরা কোনো দাক্ষিণাত্য আক্রমণকারী রাজার সঙ্গে বঙ্গদেশে আসেন এবং প্রথমে শাসক বা সামন্তরূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। পরে ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন—যেমন বহু পরে সিন্ধিয়া ও হোলকাররা করেছিলেন।
এই প্রসঙ্গে চালুক্য রাজাদের বঙ্গাভিযানের কথাও গুরুত্বপূর্ণ। চালুক্য যুবরাজ বিক্রমাদিত্য একাদশ শতাব্দীতে গৌড় ও কামরূপ আক্রমণ করে জয়লাভ করেন। তাঁর শিলালিপিতে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, গৌড়, মগধ ও নেপাল জয়ের উল্লেখ রয়েছে। ফলে এই সামরিক অভিযানের সূত্রেই সেনবংশীয়রা বঙ্গদেশে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পেয়েছিলেন—এ কথা অস্বীকার করা যায় না।
কিছু ঐতিহাসিক সেনদের চোল সম্রাট রাজেন্দ্রচোলের সঙ্গে বঙ্গদেশে আগমনের কথা বলেন। কিন্তু রাজেন্দ্রচোল কর্ণাটদেশের বাসিন্দা ছিলেন না। তাই এই মত অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলেই বিবেচিত হয়।
যাই হোক, সামন্তসেনের আগের সময় সম্পর্কে সেনবংশের কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস পাওয়া যায় না। সামন্তসেন কর্ণাটদেশে বীরত্ব প্রদর্শন করলেও তিনি কোনো স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। কারণ তাঁর নামের সঙ্গে কোনো রাজকীয় উপাধি ব্যবহৃত হয়নি। অপরদিকে তাঁর পুত্র হেমন্তসেনকে ‘মহারাজাধিরাজ’ বলা হয়েছে। সুতরাং হেমন্তসেনই সেনবংশের প্রথম প্রকৃত শাসক ছিলেন—এমনটাই ইতিহাসের সাক্ষ্য।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!