সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

হযরত বেলাল (রাঃ) ও মদিনার অশ্রুসিক্ত স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ পিএম | 73 বার পড়া হয়েছে
হযরত বেলাল (রাঃ) ও মদিনার অশ্রুসিক্ত স্মৃতি

🕌 মদিনার আকাশ-বাতাস আজ বড় বেশি স্তব্ধ। প্রিয় নবী -এর ইন্তেকালের পর মদিনার প্রতিটি অলিগলি যেন হযরত বেলাল (রাঃ)-এর বুকে তীরের মতো বিঁধছে। যে মিনারে দাঁড়িয়ে তিনি আজান দিতেন, সেখানে উঠলেই তাঁর চোখ ভিজে আসে। আজানে যখনই তিনি বলতেন, “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ”, তখনই তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যেত, তিনি কান্নায় ভেঙে পড়তেন।
অবশেষে শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি খলিফা আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে আরজি জানালেন, “হে খলিফা! নবীজিকে ছাড়া এই মদিনা আমার কাছে অন্ধকার মনে হয়। আমাকে সিরিয়ায় জিহাদে যাওয়ার অনুমতি দিন।” অনুমতি পেয়ে তিনি মদিনা ছেড়ে চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর রূহ পড়ে রইল প্রিয় নবীর রওজায়।
নবীজির ডাক ও মদিনায় প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘদিন পর সিরিয়ায় এক রাতে বেলাল (রাঃ) স্বপ্নে দেখলেন—নবীজি (সাঃ) তাঁকে বলছেন, “হে বেলাল! তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ? আমাকে দেখতে আসার সময় কি তোমার এখনও হয়নি?”
অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে বেলালের ঘুম ভেঙে গেল। তিনি আর এক মুহূর্তও স্থির থাকতে পারলেন না। মরুভূমির তপ্ত পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ছুটে এলেন মদিনায়। মদিনায় খবর ছড়িয়ে পড়ল—“বেলাল এসেছেন! আমাদের মুয়াজ্জিন ফিরে এসেছেন!”
সেই ঐতিহাসিক আজান
নবীজির দুই আদরের নাতি হাসান ও হোসাইন (রাঃ) দৌড়ে এসে বেলালকে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁরা মিনতি করে বললেন, “চাচা বেলাল! একটিবার সেই আগের সুরে আজান দিন। আমরা আমাদের নানাজানের আমলের সেই স্মৃতি ফিরে পেতে চাই।”
নাতিদের আবদার আর মদিনাবাসীর আকুলতায় বেলাল (রাঃ) অনেকদিন পর মসজিদে নববীর মিনারে উঠলেন। তিনি যখন গভীর দরাজ কণ্ঠে বললেন— “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার!”, তখন মদিনার মানুষেরা স্তম্ভিত হয়ে গেল। কিন্তু যখনই তাঁর কণ্ঠ দিয়ে বের হলো— “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ…”
মুহূর্তেই মদিনায় কান্নার রোল পড়ে গেল। পর্দানশীন নারী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। সবার মনে হলো, নবীজি যেন আজই পর্দা করেছেন। চারদিকে শুধু হাহাকার আর আর্তনাদ। বেলাল (রাঃ) আর আজান শেষ করতে পারলেন না; কান্নায় তাঁর বুক ফেটে যাচ্ছিল। তিনি বললেন, “নবীজির নাম নিলে আমার জিহ্বা আটকে যায়, আমি আর পারছি না!”
শেষ বিদায়
সেই কান্নারত অবস্থায় তিনি প্রিয় নবীর রওজা মোবারকে গিয়ে সালাম পেশ করলেন। মদিনার স্মৃতি তাঁকে এতটাই ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল যে, তিনি আবার সিরিয়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ২০ হিজরিতে দামেস্কে এই মহান আশেকে রাসূলের মহাপ্রয়াণ ঘটে।
শিক্ষা:
১. ইশকে রাসূল: হযরত বেলাল (রাঃ)-এর জীবন আমাদের শেখায় যে, নবীপ্রেম কেবল মুখের কথা নয়, তা হৃদয়ের গভীরতম আবেগ। ২. স্মৃতির মর্যাদা: মুমিনের কাছে নবীজির সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত পৃথিবীর সব সম্পদের চেয়ে দামী। ৩. ধৈর্য ও মহব্বত: নবীজির বিরহ সহ্য করা ছিল সাহাবীদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, আর বেলাল (রাঃ) ছিলেন সেই বিরহের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম

অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার মানবিক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছেন শিশু আঁখি আক্তার -১০। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং সোমবার বিকেলে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান শিশু আঁখি আক্তারের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন,
“মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে আঁখি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!