শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

নির্বাচনী সমঝোতা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:০১ পিএম | 107 বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনী সমঝোতা

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সকলেই অপেক্ষায় ছিল নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা শোনার জন্য। অবেশেষে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাত্রা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত এই নির্বাচন। হাতে রয়েছে প্রায় দুই মাস সময়। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় জোর দিলেও এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। নির্বাচনকে ঘিরে আলোচিত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি আগে-ভাগেই প্রার্থী বাছাই ও ঘোষণার কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখেছে। এই তিনটি দলই ইতোমধ্যে তাদের বেশিরভাগ আসনের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি জোট গঠন ও আসন সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর কৌশল এবং সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক সমঝোতাই রয়েছে এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নির্বাচনী রাজনীতিতে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর একটি সিদ্ধান্ত। দলটি প্রথমবারের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।

অন্যদিকে, কয়েকটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রকাশ্য বিক্ষোভ ও অসন্তোষ দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে নির্বাচনে অংশ নিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা এনসিপিতে যোগ দেবেন নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে তফসিল ঘোষণার পর রাজনীতির মাঠে তৎপরতা বেড়েছে। প্রার্থী, জোট ও নেতৃত্বের সমীকরণে কোন দল কোথায় দাঁড়িয়েÑ সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল। তফসিল ঘোষণার পর রাজনীতির মাঠে দলগুলো কে কোন অবস্থায় আছে? এক নজরে দেখে আসা যাক;

বিএনপি
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের তাগাদা দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। অবশেষে ১৬ মাস পর সেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও শারীরিক জটিলতা নিয়ে দলীয় প্রধান হাসপাতালে থাকায় এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে অবস্থান করায় দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলটি কতটা গুছিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম করতে পারবে সেটি নিয়ে সংশয় আছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে। যদিও এরইমধ্যে দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশের মতো নানা কর্মসূচি দিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে বিক্ষোভ ও নানা সমালোচনার মুখে মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পরই ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থী বদল করে দলটি।

এদিকে জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই ১৭ বছর ধরে লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও এখনও দেশে ফেরেননি তিনি, যার কারণ হিসেবে আলোচনায় আছে তার নিরাপত্তা ইস্যুটি। তারেক রহমান এখন পর্যন্ত দেশে ফিরে না আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দলের নেতৃত্ব নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে, যার প্রভাব ভোটের মাঠেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন পর্যবেক্ষকরা। তার ওপর মনোনয়ন নিয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর দ্বন্দ্বের যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তা জনমনে যেমন বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তেমনি প্রচার-প্রচারণার গতিও ধীর করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এছাড়া জোটের বিষয়েও দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যে আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেখান থেকে কাউকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে জোট বা আসন সমঝোতার জন্য এখন পর্যন্ত ২৮টি আসন ফাঁকা আছে বিএনপির।

মনোনয়ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থের দুটি আসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপির সভাপতি অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক এবং পটুয়াখালী ও ঝিনাইদহে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি।

এছাড়া জোট ও মিত্র দলগুলোর মধ্যে পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার প্রার্থী হতে পারেন। এই আসনও ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। এদিকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসা বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম দল বিলুপ্ত করে দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। তবে মামুনুল হকের ঢাকা ৭ আসন প্রথমে ফাঁকা রাখলেও দ্বিতীয় দফায় সেই আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালেই ঘোষিত ৩১ দফা অনুযায়ী বেশ আগে থেকেই জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলে আসছিল বিএনপি। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেখানে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জামায়াতে ইসলামী
শুরু থেকেই নির্বাচনের আগে সংস্কার, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন বা পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবি তুলে আসছিলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে প্রার্থী ঘোষণার দিক থেকেও সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল দলটি। এই বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন জেলায় জেলায় সমাবেশ করে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই মাস নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২৯৬-এ। যদিও পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। সর্বশেষ তফসিল ঘোষণার দিন পর্যন্ত মোট ২৯৮টি আসনে এই দলের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের জন্য ধর্মভিত্তিক আটটি দলের সাথে আসন সমঝোতার কথা ভাবছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ জানান, তফসিল ঘোষণার পর আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তিনি বলেন, যেহেতু নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হলো, এখন আমরা আট দল বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনার সূত্রপাত করে কে কোন আসনে প্রার্থী হলে সে এলাকায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেটিকে সামনে রেখে প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবো। অর্থাৎ ঘোষিত তালিকা থেকেও অনেক প্রার্থীর বাদ পড়ার সুযোগ আছে। তবে আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ শুরু করার কৌশলের কারণে ভোটের মাঠে দলটির বাড়তি সুবিধা পাবার সুযোগ আছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। এছাড়াও প্রথমবারের মতো খুলনা ও কিশোরগঞ্জের দুইটি নির্বাচনী আসনে হিন্দু সম্প্রদায় থেকে দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এটিকে ভোটের মাঠে তাদের জয়ের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এনসিপি
নির্বাচন, পিআর পদ্ধতি আর সংস্কারের মতো ইস্যুতে ঐকমত্য থাকলেও তফসিল ঘোষণার দুই মাস আগে থেকেই জুলাই সনদ কিংবা নির্বাচনী সমঝোতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে দেখা যায় জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দ্বারা গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির। মাঝে বিএনপির সঙ্গে এবং পরে গণঅধিকার পরিষদের সাথেও দলটির জোটে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তবে সবশেষ সাতই ডিসেম্বর ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং এবি পার্টির সঙ্গে মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠনের ঘোষণা দেয় এনসিপি। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আরও বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে এবং আগামী নির্বাচনে ‘একসঙ্গে, একই মার্কায়’ লড়াইয়ের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। এর তিনদিন পর ১০ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। জুলাই আন্দোলনে স্যালুট দিয়ে পরিচিতি পাওয়া একজন রিকশাচালক এনসিপি থেকে ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়নপত্র নেন যা নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো মনোয়ন দেওয়া হয়নি। একে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্স’ বলেও সমালোচনা করেন কেউ কেউ।

দুই উপদেষ্টার গন্তব্য নিয়ে নানা গুঞ্জন
নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন গণঅভ্যুত্থানের সময় সম্মুখ সারির ছাত্র নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অবশেষে তফসিল ঘোষণার আগের দিন উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। শোনা যাচ্ছিলো, এনসিপিতে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা ছিল আসিফ মাহমুদের। তবে পদ নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। পরে গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও ওঠে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সবশেষ শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেইজে ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের কথা জানান তিনি। এর আগে, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার আলাপও এসেছিল। বিশেষ করে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার আসনটি থেকে প্রথম দফায় দলটি কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপির হয়ে এই আসনে তার প্রার্থী হবার আলোচনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে দ্বিতীয় দফায় আসনটিতে বিএনপির তরফে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের আরেক ছাত্র প্রতিনিধি মাওফুজ আলমও। লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে তার নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। আসনটিতে তার পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে তার বড় ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমকে। তবে মাহফুজ আলম নিজে কোনো দলে যোগ দেওয়া কিংবা নির্বাচন করার বিষয়ে কথা বলেননি। শুরু থেকেই এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মাহফুজ আলমের সখ্য ছিল। দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও তার প্রভাবের কথা আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সে প্রভাব হ্রাস পেয়েছে বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তাই এনসিপিতে তিনি যোগ দেবেন কি না সেটি নিয়েও নানা সংশয় আছে।

জাতীয় পার্টির একাংশের নির্বাচন
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তকমা দিয়ে জাতীয় পার্টিকেও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির মধ্যেও ভাঙন ধরেছে। আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে একটি অংশ কাউন্সিল করে কমিটি গঠন করেছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশটি এই নেতাদের বহিষ্কার করেছে। উভয়পক্ষই নিজেদের ‘মূল জাতীয় পার্টি’ দাবি করছে এবং দলীয় প্রতীক লাঙ্গলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ঐকমত্য কমিশন জাতীয় পার্টিকে কোনো আলোচনায় ডাকেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের আলোচনায়ও ডাক পায়নি জাতীয় পার্টির কোনো পক্ষ। জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশ ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ) নামে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি)সহ মোট ১৮টি দল থাকছে এই জোটে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ কে গুলি করে হত্যা।

মোঃ ওমরফারুক(সানি), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৩ এএম
ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ কে গুলি করে হত্যা।

 

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী সাড়া গোপালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঈশ্বরদীর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মহান্নবীপাড়া গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে।

তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের একটি পক্ষের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ছাত্রদল সদস্য ইমরান হোসেন সোহাগ তার বন্ধুদের নিয়ে গোপালপুর রেললাইনের পাশে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এসে তাকে এলোপাথাড়ি কুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় গুলির শব্দও শোনা যায় বলে জানায় স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সোহাগ।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তার মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তার মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মোঃ ওমরফারুক(সানি)
স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা
মোবাঃ ০১৭৪৫১৮৫৪৫৪

নরসিংদীর মনোহরদীতে মাদকসহ নারী আটক, পলাতক স্বামী

তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০১ এএম
নরসিংদীর মনোহরদীতে মাদকসহ নারী আটক, পলাতক স্বামী

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিনুল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই শাহিনুর ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শেখের বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে তথ্যের ভিত্তিতে বড়চাঁপা ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামের জুয়েল রানার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল রানা (৩৫) পালিয়ে যায়।
পরে তার স্ত্রী অপু (৩০)-কে আটক করা হয়। নারী পুলিশের মাধ্যমে তল্লাশি চালিয়ে তার দেহ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত নারী ও তার পলাতক স্বামী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক অপুকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পলাতক জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

মোঃ সুজন বেপারী

মুন্সিগঞ্জ মিরকাদিমে স্টেডিয়াম মাঠ কমিটি দায়িত্ব পদে আগামী সংশ্লিষ্ট বার্তা

মোঃ সুজন বেপারী প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ এএম
মুন্সিগঞ্জ মিরকাদিমে স্টেডিয়াম মাঠ কমিটি দায়িত্ব পদে আগামী সংশ্লিষ্ট বার্তা

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ওস্তাদ মোতালেব পাটোয়ারী সুপরিচিত মিরকাদিম পৌর রিকাবী বাজার মিনি স্টেডিয়াম মাঠ কমিটি গঠনে দায়িত্ব পদে আগামী সংশ্লিষ্ট বার্তা জানিয়েছেন মিরকাদিম পৌর সোনালী অতীত এর সাংগঠনিক-সম্পাদক মোঃ আরিফ হিলালী সবুজ।

মিরকাদিম পৌর সোনালী অতীত এর সাংগঠনিক-সম্পাদক নতুন মিনি স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে জনাব মোঃ আরিফ হিলালী সবুজ বলেন, সারাবাংলাদেশে ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্প নিয়েছে এটা একটা উল্লেখযোগ্য কারণ আমাদের জাতি কে ও সমাজ কে যারা উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে আমাদের তরুণ সমাজ উপকৃত হবে, রাষ্ট্রীয় উপকৃত হবে, তবে আমি আশাবাদী এজন্যই আল্লাহ্ রহমতে খেলাধুলা তরুণদের লক্ষ্য এগিয়ে যাওয়ার সহায়তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

মিরকাদিম মিনি স্টেডিয়াম এর ক্রিকেট ও মাঠ পরিচালক ও জেলা সহ-সভাপতি ক্রিকেট এসোসিয়েশন ক্রীড়া মোঃ রনি খাঁন বলেন, ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল, আমরা শুধু ভালো ক্রিকেটার তৈরি করতে চাই না, আমরা ভালো মানুষও তৈরি করতে চাই। বাংলাদেশে আমরা ক্রিকেটের মাধ্যমে ভালো তরুণ খেলোয়াড় খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দেওয়া প্রজন্মেদের গড়ে তুলতে চাই।

রনি খাঁন কথাতেই বোঝা যায়, তিনি ক্রিকেটকে জাতীয় আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখেন। তার ভাবনায় মিরকাদিম স্টেডিয়াম ক্রিকেট শুধু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, আচরণ ও মূল্যবোধ দিয়েও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করবে। বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ঐক্যের জায়গা। এখান থেকেই আমরা শিখতে পারি পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম। এই গুণগুলোই আমাদের ভালো তরুন প্রজন্মেদের হতে সাহায্য করবে।’

মিরকাদিম পৌর মিনি স্টেডিয়াম মাঠের ফুটবল কোচ এর পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার নিজেরই সঁপ্ন ছিলো অনেক বড় পিলিয়ার হওয়া যেটা আমি যখন দেখেছি যে একটা সময় ভালো জায়গায় পোঁছাতে পারিনি তো সেটা আমার নিজেরই ব্যার্থতা।

ফুটবল এর কোচ তিনি আরও বলেন, তবে আমরা আপনারা মাধ্যমে সবাইর কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যদি অনেকেই বলে যে মাদক ছেরে মাঠে আয় আসলে এটা সবাইর মুখেমুখেই বাস্তবে সেটা হয়না। বাস্তবে অনেক ছেলেবেলেরা দেখি এন্ড্রয়েড বড় বড় মোবাইল নিয়ে বসে থাকে এবং গেমস খেলে যদি বলি মাঠে আসতে তো আমি অনেক চেষ্টা করি সবাইকে মাঠে আনার জন্য নিজেকে ফুটবল বা ক্রিকেট একটা খেলার সাথে সম্পৃক্ত রাখার জন্য যাতে ফুটবল বা ক্রিকেট খেললে মনমানসিকতা এবং শারীরিক সুস্থ্যতা অনেক ভালো থাকে।

মিরকাদিম মিনি স্টেডিয়াম মাঠের দায়িত্ব পদে ক্রিকেট পরিচালক রনি খাঁন ও ফুটবল কোচ এর পরিচালক মোহাম্মদ মোজ্জামেল হোসেন বলেন, আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেন, আমরা পৌর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলোয়াড়দের এমন উচ্চতায় নিয়ে যাব, যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ফুটবল নিয়ে গর্ব করতে পারি মিরকাদিম পৌরবাসী ইনশাআল্লাহ্।

error: Content is protected !!