রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

সুলেখা আক্তার শান্তা

আলোছায়ার পথ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:২৪ পিএম | 188 বার পড়া হয়েছে
আলোছায়ার পথ

এক রোদেলা দুপুর। অফিসে নিজের কাজে মগ্ন ছিল নাফিজা। হঠাৎ চোখ তুলতেই দেখে সহকর্মী রিফাত গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। নাফিজা মুহূর্তে থমকে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে, এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? সে অস্বস্তি ঢাকতে টেবিলের উপর কলম দিয়ে টুং টাং শব্দ করে। রিফাত মাথা ঝাঁকিয়ে হেসে ফেলে। ইশারায় নাফিজা জানতে চায়, কী হয়েছে? রিফাত হেসে বলে, কিছু না। অফিসে তাদের টেবিল পাশাপাশি। কিন্তু তেমন কথা হয় না।
পরদিন টেবিলে বসেই নাফিজা দেখে একটি সতেজ সবুজ পাতা, হালকা কুড়ানো, যেন টেবিলের উপর রেখে যাওয়া এক নিঃশব্দ বার্তা। প্রথমে ভেবেছিল, বাতাসে এসে পড়েছে। কিন্তু পরপর কয়েকদিন একইরকম পাতা দেখে। নাফিজা পিয়ন দুলালকে ডাকে, এই পাতা তুমি রাখো?
দুলাল অবাক, না ম্যাডাম, আমি জানিনা!
তাহলে কে?
দুই হাত প্যান্টের পকেটে, চোখে একরাশ উদ্বেগ নিয়ে রিফাত এগিয়ে এলো নাফিজার দিকে। সে হাসিমুখে বলল, এই পাতা কে রাখে ভাবছো?
হ্যাঁ।
জানতে চাও?
জানতে চাই? কিন্তু বুঝে উঠতে পারছি না কে রাখে।
রিফাত একটু থেমে বলল, অফিস শেষে বের হয়ে বলবো।
সন্ধ্যার আলোয় দুজনে হাঁটছে পাশাপাশি। হঠাৎ রিফাত থেমে বলল, এই পাতাটা যতক্ষণ জীবনের রস ধরে রাখতে পারে, ততক্ষণ সতেজ থাকে। ঠিক সেরকম, যতক্ষণ তুমি আমার দৃষ্টির সীমানায় থাকো, আমি সতেজ থাকি। আর তুমি যখন চোখের আড়ালে যাও… আমি ও পাতার মতো শুকিয়ে যাই। তুমি আড়ালে গেলে ঠিক এই শুকনো পাতার মতো আমি। প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলি।
নাফিজা বিস্ময়ে হয়ে বলে, বা! আমি কারো প্রাণশক্তি? রিফাত হেসে ওঠে, তোমাকে না দেখলে আমি প্রাণহীন হয়ে পড়ি। এটুকুতেই সমস্ত অপ্রকাশিত অনুভূতির ঢেউ আছড়ে পড়ে নাফিজার মনে।
পরদিন অফিসে টেবিলে সে একটি পাতা দেখে, রিফাতের দিকে তাকায়, এবার তার ঠোঁটে হালকা এক হাসি। দুজনে মাঝে মাঝেই চোখে চোখ রাখে, শব্দহীন ভালোবাসার ভাগাভাগি।
সন্ধ্যায় রাস্তার মোড়ে দিয়ে দু’জনে হেঁটে যাচ্ছিলো হঠাৎ রিফাত ধীরে বলে উঠলো, আমি তোমাকে ভালোবাসি নাফিজা। এক পলকের নীরবতা। নাফিজার কাছ থেকেও ভালোবাসার সম্মতি। উদার মনে বলে রিফাত, ভালোবাসা শুধু অনুভব নয়, তা দায়িত্বও বটে।
মাস তিনেক পর একদিন, রিফাত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। নাফিজা একটু চমকে গিয়ে বলে, এখনি? বিয়ে তো করব, তবে পরিবারের সম্মতি ছাড়া নয়। পরিবারকে জানিয়ে। ঠিক আছে পরিবারকে জানিয়েই বিয়ে হবে। আমি আমার দিকে বলবো তুমি তোমার দিকে বলো। আমার তো শুধু মা আছে, বলে নাফিজা। ঠিক আছে তুমি তাঁকে জানাও।
দুজনই পরিবারের সম্মতি নেয়। নাফিজার মা রেবেকা বলেন, যদি তোমরা একে অপরকে বিয়ে করতে চাও, ঠিক আছে। আশীর্বাদ রইলো।
বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়। নাফিজা সবকিছুর প্রস্তুতি নিজেই নিচ্ছিল। নাফিজা তার মায়ের একমাত্র মেয়ে সবকিছু তার নিজেরেই করতে হয়। স্বপ্ন তার বাস্তব হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায়। মার্কেট থেকে ফেরার পথে, হঠাৎ একটি গাড়ি ধাক্কা দেয় নাফিজাকে। রাস্তায় রক্তে ভেসে যায় তার স্বপ্ন। আর পথচারীরা ছুটে নিয়ে যায় নাফিজাকে হাসপাতালে। চিকিৎসা চলে। অনেক চেষ্টা করেও ভালো করা যায় না তার একটা পা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা নাফিজা চোখ মেলে দেখে, রিফাত পাশে দাঁড়িয়ে। সে হাত ধরে বলে, তোমার কিছুই হয়নি নাফিজা। তুমি এখনো সেই মানুষ, যাকে দেখলে আমার মন আনন্দে থাকে। পা থাক বা না থাক, তাতে কি আসে যায়?
হাসপাতালের বিছানায় নিস্তব্ধ শুয়ে থাকা মেয়েকে দেখে রেবেকা ভেঙে পড়েন। দু’চোখ দিয়ে ঝরে পড়া অশ্রুর সঙ্গে কণ্ঠ ফেটে বেরিয়ে আসে হৃদয়ের আর্তনাদ। আমার মেয়ের এমন কেন হলো আল্লাহ্? এখন আমি কীভাবে বাঁচব? আমার তো ও ছাড়া আর কেউ নেই! রিফাত চুপচাপ দাঁড়িয়ে, চোখে জল, কিন্তু মুখে স্থিরতা। সে ধীরে বলে, ভেঙে পড়বেন না মা। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। রেবেকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, হ্যাঁ, তাঁরই উপর তো ভরসা আছে। এই কষ্ট কীভাবে সইব জানি না।
দীর্ঘ হাসপাতালে কাটানো দিন শেষে নাফিজাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু জীবন আর আগের মতো নেই। দেহে এখন এক পায়ের শূন্যতা, আর মনের কোণে বেদনার ঘূর্ণি। পঙ্গুত্বের কারণে চাকরি চলে যায়, সংসারের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। রেবেকা অসহায় হয়ে ভাবেন। মেয়ের কী হবে! কে হবে আশ্রয়? এই বাস্তবতার মুখে কেমন করে চলবে দিন?
নাফিজা–রিফাত যখন একসাথে সুখের স্বপ্ন বুনছিল, তখনই এক কালো মেঘ এসে ঢেকে দিলো তাদের আকাশ। রিফাত পরিবারের কাছে বলে, আমি নাফিজাকে বিয়ে করতে চাই। বাবা, মোহন খান শব্দের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বললেন, পঙ্গু মেয়েকে ঘরের বউ করা যাবে না। ওর তো চাকরিও নেই এখন। তুমি ওর জীবন থেকে সরে দাঁড়াও, ওর বোঝা আমাদের ঘাড়ে তুলে নিব কেন? রিফাত বলল, বাবা, এমন স্বার্থপর কেন হচ্ছেন? ভালোবাসা তো দয়া নয়। আমি নাফিজাকে ভালোবাসি ওর দেহকে নয় ওর মানসিকতাকে। মোহন খান ধমকের স্বরে বললেন, তর্ক করো না! আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাও।
রিফাত নাফিজার সামনে হাজির হয়। কিন্তু কণ্ঠে স্থিরতা, বলল রিফাত, নাফিজা আমরা বিয়ে করব। নাফিজা একটু থেমে, মুখ ঘুরিয়ে বলে, রিফাত, তুমি এখন বিয়ে করতে চাও, সেটা করুণা। আমি কারো করুণা চাই না। রিফাত হতভম্ব হয়ে বলল, করুণা? ভালোবাসা করুণার নয় একটি সম্মানের সম্পর্ক। তোমাকে ভালোবাসি, সম্মান করি। তুমি আজও আমার প্রাণশক্তি, আমার জীবন। নাফিজা গম্ভীর গলায় বলে, তোমার পরিবার যখন আমায় গ্রহণ করছে না, তখন তুমি কীভাবে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবে? রিফাত নিঃশ্বাস ফেলে বলে, আমি তোমাকে ছুড়ে ফেলতে ভালোবাসি নেই। তোমাকে ভালোবেসেছি আমার জীবন সাথী হিসেবে পাওয়ার জন্য। তোমাকে ছেড়ে যাওয়া মানে আমার আত্মাকে অস্বীকার করা। তোমার পাশে থাকব এই দুঃসময়ে এটা দায়িত্ব নয়, এটাই আমার ভালোবাসা। রেবেকা পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছিলেন। মুগ্ধ হয়ে মেয়েকে বলেন, মা, ছেলেটা সত্যিই ভালো। এমন ভালোবাসা জীবনে খুব কম পাওয়া যায়। ওকে গ্রহণ কর মা। মা রেবেকার চোখে জল, কিন্তু তাতে আনন্দের ঝিলিক। ও তোকে ভালোবাসে মা। এমন ছেলে ভাগ্যে কজনের জোটে? তুই ওকে গ্রহণ কর, সে তো তোকে হারাতে চায় না। নাফিজার চোখে তখন ভীষণ প্রশান্তি। রিফাতের ভালোবাসা, তার সংকল্প, তার সমস্ত দুর্বলের ওপর এক অটল আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে রিফাতের হাত ধরে বলে, আমি চাই… আমি চাই তোমার সঙ্গে বাকি জীবনটা কাটাতে। নাফিজার মুখে এ কথা শোনার পর রিফাতের যেন এক অচিন্তনীয় উচ্ছ্বাস। সে নিজেই বিয়ের সমস্ত আয়োজন করে। শাড়ি থেকে অলঙ্কার, নিজে হাতে ফুল দিয়ে বাসর ঘর সাজিয়ে তোলে।
বিয়ের দিনে, যখন ঘোমটার আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো নাফিজা, রিফাত নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে। “মাশা’আল্লাহ! কী অপূর্ব লাগছে তোমায়।” দুজন মধুময় বাসরে রাত কাটায়, নয়নজুড়ে স্নিগ্ধ ভালোবাসা আর হৃদয়ে অটুট প্রতিশ্রুতি।
বিয়ের কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন… মোহন খান সোজা এসে দাঁড়ান রিফাতের সামনে, চোখে স্নিগ্ধতা। আমার বউমাকে নিয়ে যেতে এসেছি, বলেন তিনি নিঃশব্দ গলায়। চলো বাবা, বউমাকে নিয়ে ঘরে। রিফাত এক মুহূর্ত স্তব্ধ, চোখ ঝলমলিয়ে ওঠে আনন্দে। সে ধীরে নাফিজার দিকে এগিয়ে যায়। হাত ধরে বলে, চলো, আমার ঘরের আলো। নাফিজা এক বিন্দু অশ্রু নিয়ে বলে, আজ নিজেকে বড় ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা কল্পনারও বাইরে। ঘরভর্তি আনন্দ, চোখভর্তি স্বপ্ন, জীবনে যেন বসন্তের পুণর্জন্ম। তাদের সংসার হয়ে ওঠে ভালোবাসার ঠিকানা।
নাফিজার মনে এক গভীর প্রশান্তি। যে জীবন থেমে যেতে পারতো, সেই জীবনই এখন বেঁচে আছে এক অনন্য ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে। আমি ভাগ্যবতী, কারণ এমন একজন মানুষকে পেয়েছি, সে আমার পাশে ছায়া মতো দাঁড়িয়ে আছে। সম্পর্ক টিকে সম্মান, ভালোবাসা আর পারস্পরিক আস্থার উপর। সব ভালোবাসা পূর্ণতা পাক। থাক বিশ্বাস, সম্মান আর ভালোবাসার মলাটে বাঁধা।

মো:মুন্না শেখ

বাগেরহাটের কচুয়ায় গাঁজাসহ আটক-২

মো:মুন্না শেখ প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
বাগেরহাটের কচুয়ায় গাঁজাসহ আটক-২

বাগেরহাটের কচুয়ায় শনিবার (২৮ শে মার্চ) দিবাগত রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাব্বির হোসেন।অন্য‌জন মোঃ ইকবাল হোসেন (৩৩): পিতা- মোঃ আবুল হোসেন, মাতা- রাজিয়া বেগম।​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ) কচুয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গোপালপুর এলাকা থেকে মাদক বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়।উভয় আসামির বাড়ি কচুয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ০১ নম্বর ওয়ার্ডে।
​পুলিশি তল্লাশিকালে আসামিদের নিকট থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।​মামলা নম্বর: ১৩,​জিআর নম্বর: ৩৯,​তারিখ: ২৮/০৩/২০২৬ খ্রি.।
​কচুয়া থানা পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে

নড়াইলে তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক দিয়ে পিষে হত্যা

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
নড়াইলে তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক দিয়ে পিষে হত্যা

নড়াইলে তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক দিয়ে পিষে হত্যা আহত আরেক কর্মী পলাতক ট্রাকচালককে ধরতে অভিযান। নড়াইলে পেট্রোল পাম্পে তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বাগবিতণ্ডার জেরে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকায় মের্সাস তানভীর ফিলিং স্টেশনের পাশে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত নাহিদ সর্দার (৩৩) ওই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার এবং তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের বাসিন্দা আকরাম সর্দারের ছেলে। পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিমউদ্দীন জানান, ট্রাকচালক মো. সুজাত তেল নিতে এসে পাম্পে তেল না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ম্যানেজার নাহিদ সর্দারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুজাত প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে, তোরে আজ ট্রাকের নিচে চাপা দিমু।
পাম্পের কর্মচারী সোহান ইসলাম জানান, হুমকি দেওয়ার পরও ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিল। পরে রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে নাহিদ সর্দার তার পরিচিত জিহাদুল ইসলামকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুক্ষণ পর সুজাত ট্রাক ঘুরিয়ে তাদের পিছু নেয়। সন্দেহ হলে পাম্পের দুই কর্মী মোটরসাইকেলে তাদের পিছু নেন। গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রাকচালক সুজাত নাহিদ সর্দারকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাস্থলেই নাহিদ সর্দারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত জিহাদুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার অভিযোগ করে বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হুমকি দিয়েই ট্রাকচালক ইচ্ছাকৃতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দার আলী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ট্রাকচালক ও ট্রাকটি আটকের জন্য অভিযান চলছে। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেওয়া এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্থানীয়দের।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে গ্রেফতার এড়াতে আসামীর অভিনব কৌশল

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
চট্টগ্রামে গ্রেফতার এড়াতে আসামীর অভিনব কৌশল

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে গ্রেফতার এড়াতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ডোবায় লাফ দেন এক পরোয়ানাভুক্ত আসামী। কাদায় কোমর পর্যন্ত আটকে পড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডোবায় অবস্থান করেন তিনি। এ সময় ধারালো রামদা হাতে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পুলিশকে ঘিরে রাখেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাকে জীবিত উদ্ধার করে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নগরের হালিশহর থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্কাইভিউ টাওয়ারসংলগ্ন একটি ডোবায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার মো. রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে দুপুর ১২টার দিকে রুবেলকে ধরতে অভিযান চালায় হালিশহর থানা পুলিশ। এ সময় একটি দোকান থেকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে পাশের একটি ভবনে উঠে যান। পরে সেখান থেকে নেমে পাশের ডোবায় লাফ দিলে কাদায় কোমর পর্যন্ত আটকে পড়েন।
একপর্যায়ে তার স্ত্রী ছাতার আড়ালে একটি ধারালো রামদা এনে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রামদা হাতে নিয়ে তিনি পুলিশকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন এবং আত্মহত্যার হুমকিও দেন। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তবে হাতে রামদা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় বুঝিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে ডোবা থেকে তুলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে রুবেল পালিয়ে ডোবায় পড়ে যান। পরে আত্মহত্যার হুমকি দিলে পরিবারের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করে তাকে উদ্ধার করা হয়।

error: Content is protected !!