বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ভূঞাপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি 

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৪ পিএম | 138 বার পড়া হয়েছে
ভূঞাপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সহকারী শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিন এই কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের আহ্বায়ক ও ভূঞাপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাসেল পারভেজ নিশ্চিত করেন, সোমবার ও মঙ্গলবার সহকারী শিক্ষকবৃন্দ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা প্রধান শিক্ষকের তত্ত্বাবধানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, শহীদ সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের আত্মত্যাগসহ দেশের দুই শতাধিক প্রাথমিক শিক্ষকের সংগ্রাম ও রক্ত কোনোক্রমেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তারা অভিযোগ করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রদত্ত আশ্বাস সত্ত্বেও বাস্তবে একাদশ গ্রেড বাস্তবায়নসহ তাদের তিনটি মৌলিক দাবির কোনটিরই সন্তোষজনক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা তাদের দাবিসমূহের ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট ও অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, দশ ও ষোড়শ বছরে উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ একযোগে ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তারা তাদের এই প্রতিবাদী অবস্থান থেকে কোনোরূপ সরে আসবেন না। ফলে, ভূঞাপুরের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান এই অচলাবস্থা নিরসনের কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

বহুল জনপ্রিয় পোর্টাল দৈনিক উজ্জ্বল বাংলাদেশ পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা -কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও সংগঠক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২:০১ এএম
বহুল জনপ্রিয় পোর্টাল দৈনিক উজ্জ্বল বাংলাদেশ পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা -কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও সংগঠক

এ এস এম সাদেকুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ, যাহা বলতে চাই অন্তিম পয়গামে ” বইটি অমর একুশে বইমেলা-২০২৬
উচ্ছ্বাস প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত স্টল নম্বর ৬৩৮ এ পাওয়া যাচ্ছে।

সুলভ মূল্যে বই কিনুন উচ্ছ্বাস প্রকাশনী আপনাদের পাশে।

দালাল সিন্ডিকেটের কবলে ময়মনসিংহ বিআরটিএ

মামুনুর রশীদ মামুন,ময়মনসিংহ থেকে: প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৭ এএম
দালাল সিন্ডিকেটের কবলে ময়মনসিংহ বিআরটিএ

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে—দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অফিসে দালাল ছাড়া সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি,নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিয়েও নিয়ম অনুযায়ী সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে; বরং দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে খুব সহজেই সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে,দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র অফিসটিকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে। অফিসের ভেতর-বাইরে প্রকাশ্যেই এসব দালালের তৎপরতা চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দালাল ছাড়া আবেদন করলেই শুরু হয় হয়রানি! ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,কেউ যদি সরাসরি অফিসে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে চান,তাহলে নানা অজুহাতে তার আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। কখনো কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি দেখানো হয়, আবার কখনো ড্রাইভিং পরীক্ষায় অযৌক্তিকভাবে ফেল দেখানো হয়। ফলে নিরুপায় হয়ে অনেকেই শেষ পর্যন্ত দালালদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন।
একাধিক আবেদনকারীর অভিযোগ,লাইসেন্স পেতে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও দালালদের মাধ্যমে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়াই কিংবা নিয়মের তোয়াক্কা না করেই লাইসেন্স পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অফিস কক্ষেই দালালদের অবাধ বিচরণ: সরেজমিনে দেখা গেছে, বিআরটিএ অফিস চত্বরে দালালদের অবাধ বিচরণ। এমনকি কিছু দালালকে সরাসরি অফিস কক্ষে ঢুকে কম্পিউটার অপারেটিং থেকে শুরু করে সরকারি নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতেও দেখা গেছে। তাদের আচরণ দেখে অনেক সময় সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না—তারা কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন,বরং অফিস বহির্ভূত দালাল চক্রের সদস্য। স্থানীয়দের ভাষ্য,বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই “ওপেন সিক্রেট” হয়ে আছে। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে মোটরযান পরিদর্শক! অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই দালাল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিসের মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। অভিযোগ রয়েছে, তার কক্ষেই দালালদের নিয়মিত আনাগোনা এবং সরকারি নথিপত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“দালালদের সরকারি নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটির বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি রোধে আমার কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি,এমন কোনো উদ্যোগ এখনো বাস্তবে দৃশ্যমান হয়নি। ফলে অভিযোগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সহকারী পরিচালকের পদক্ষেপের আশ্বাস,বাস্তবে অগ্রগতি নেই! এদিকে সংশ্লিষ্ট অফিসের সহকারী পরিচালক (এডি) আনিসুর রহমান যোগদানের পরপরই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে,সেই আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে দালালদের তৎপরতা আগের মতোই বহাল রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। চিহ্নিত কয়েক দালালের নাম: অনুসন্ধানে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কয়েকজন কথিত দালালের নামও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—মোফাজ্জল,হীরা,শান্ত,কামাল, খোকন,রিপন,ভুট্টো,শাহ কামাল,সেলিম ও তপন সহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, এসব দালাল ভুক্তভোগীদের “হয়রানিমুক্ত সেবা” দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আদায়কৃত টাকার একটি অংশ ‘অফিস খরচ’ নামে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এবং ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট কমিটি (ডিসিটিসি)-এর সভাপতি আসাদুজ্জামান বলেন,“বিষয়টি আমাদের
নলেজে না থাকলেও–অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দ্রুত তদন্তের দাবি: সচেতন মহল বলছে,দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাদের মতে,বিআরটিএ অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের প্রভাব বন্ধ করা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

তেজগাঁওয়ে ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার, মানব কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

দিশা আক্তার ঃ স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৫ এএম
তেজগাঁওয়ে ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার, মানব কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধারসহ একটি সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫), মোঃ আবুল কালাম (৩৯), আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ (৩২) এবং মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ (২৬)। তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে রাখা অবস্থায় ৪৭টি মাথার খুলি এবং মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়।
তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া এলাকার ১ নম্বর গেটের সামনে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। পরে গত ৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে সেখানে অভিযান চালিয়ে কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে মোঃ আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে আরও দুটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দুপুর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ‘Sapporo Dental College & Hospital’-এর হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মোঃ ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হোস্টেলের ৪০২ নম্বর কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চড়া দামে বিক্রি করত।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে ।

error: Content is protected !!