শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএনপিতে অনৈক্য

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ও সমাধান

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৫ পিএম | 227 বার পড়া হয়েছে
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ও সমাধান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করেছিল ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। স্বাধীনতার পর জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যয়ে বিএনপির জন্ম হয়। “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” ছিল দলের মূল আদর্শ, যার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ইসলামি মূল্যবোধ, এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
দলের লক্ষ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯৯১, ২০০১ ও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে বিএনপি প্রশাসনিক দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও, সমালোচনার মুখে পড়ে দুর্নীতি, দলীয়করণ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি এক জটিল সঙ্কটে আবদ্ধ। একদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততার অভাব, অন্যদিকে দলীয় ঐক্যের ঘাটতি ক্রমে রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি বিশেষ করে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসবাস কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সিদ্ধান্তহীনতা সৃষ্টি করেছে।
এই শূন্যতায় আভ্যন্তরীণ কোন্দল স্পষ্টত দৃশ্যমান। মনোনয়ন বণ্টনে অসন্তোষ, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আস্থাহীনতা এবং দলীয় পদবণ্টনে বঞ্চিত নেতাদের ক্ষোভ আজ বিএনপিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যেসব নেতা “তারেক-ঘনিষ্ঠ” বা “বদরুদ্দোজা ঘরানার” ট্যাগে বিভক্ত হচ্ছেন, তারা মাঠে একে অপরের বিপক্ষে কাজ করছেন—যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন্দ্র ও তৃণমূলে সম্পর্কহীনতা এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অনেক সময় স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগ্রহী নন, কারণ তাদের মনে হয়, কেন্দ্র মাঠের বাস্তবতা বোঝে না। দলীয় কাউন্সিল বা নিয়মিত আলোচনা না থাকায় এই দূরত্ব আরও বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় নেতারা জনগণের দুর্ভোগ বা আন্দোলনের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেন না।
এমন পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে “কাদা ছড়াছড়ি” রীতিমতো জনসমক্ষে চলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের পরস্পরের প্রতি তীর্যক মন্তব্য ও দোষারোপ বিএনপির ভাবমূর্তিকে ক্রমশ ক্ষয় করছে। যে ঐক্যের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা এখন ব্যক্তিগত ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।
এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি আগামী জাতীয় নির্বাচনে। বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ কৌশল তৈরি না করে, তাহলে মাঠ পর্যায়ে প্রার্থী একাধিক হওয়া, ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত এজেন্টের অভাব এবং প্রচারে সমন্বয়হীনতা দলের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। তৃণমূলের হতাশা ও বিভক্তির কারণে ভোটারদের আস্থাও ক্ষুণ্ণ হবে—যা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা এনে দেবে।
তবে এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় এখনো আছে, যদি বিএনপি দলীয় আত্মসমালোচনা ও গবেষণাভিত্তিক সংস্কারের পথে হাঁটে। নিচে কয়েকটি গবেষণামূলক পরামর্শ উল্লেখ করা হলো—
১. দলীয় কাঠামোর পুনর্গঠন: কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে স্বচ্ছ যোগাযোগ স্থাপন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
২. মনোনয়ন নীতির সংস্কার: ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, যোগ্যতা ও জনআস্থাভিত্তিক প্রার্থী নির্ধারণের মানদণ্ড প্রবর্তন।
৩. প্রবাসী নেতৃত্বের কার্যকর সম্পৃক্ততা: বিদেশে থাকা নেতৃত্বের অনলাইন কাউন্সিল বা ভার্চুয়াল নীতিনির্ধারণী সভার নিয়মিত আয়োজন।
৪. রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সেল: তরুণ কর্মীদের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষাক্রম চালু করা।
৫. দলীয় গণতন্ত্র জোরদার: নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচন ও মতবিনিময় সভা আয়োজন।
৬. ডিজিটাল যোগাযোগ কাঠামো: কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে দলীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রচার।
৭. নারী ও তরুণ নেতৃত্বের উত্থান: নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনতে সংরক্ষিত পদ ও সুযোগ।
৮. গণআন্দোলন পুনর্গঠন: দলীয় কর্মসূচিকে জনগণের মৌলিক সমস্যা—মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, দুর্নীতি—এর সঙ্গে যুক্ত করা।
৯. মিডিয়া ব্যবস্থাপনা: নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক ও গবেষণামূলক প্রতিক্রিয়া টিম গঠন।
১০. ঐক্যের জন্য ‘সংলাপ ফোরাম’: দলের প্রবীণ ও তরুণদের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্ল্যাটফর্ম তৈরি।
বিএনপির সামনে এখন সময় অল্প, কিন্তু সুযোগ যথেষ্ট। যদি তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে একক লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জনের—তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু তাদের জন্য নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও এক নতুন সূচনা হতে পারে।

এম. এ. কাদের (শিক্ষক ও গবেষক)

ময়মনসিংহে ১,৫১০ পিস ইয়াবাসহ ১ নারী মাদক কারবারী গ্রেফতার

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১:১৩ এএম
ময়মনসিংহে ১,৫১০ পিস ইয়াবাসহ ১ নারী মাদক কারবারী গ্রেফতার

 

 

ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, ময়মনসিংহ এঁর মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে ১৫১০পিস ইয়াবাসহ ১নারী মাদককারবারি কে গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ কাওসারুল হাসান রনি স নেত্তৃতে আজ ১৩ মার্চ শুক্রবার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন শম্ভুগঞ্জ সবজিপাড়া এলাকায় ময়মনসিংহ টু হালুয়াঘাট মহাসড়কের উপর মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে- সুমাইয়া মনি (১৯), পিতামৃত- রুহুল আমিন, মাতা- লুৎফুন নাহার , সাং- রঘুনাথপুর (ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অফিসের দক্ষিণ পাশে), ওয়ার্ড নং- ০৮ হালুয়াঘাট পৌরসভা, থানা- হালুয়াঘাট, জেলা- ময়মনসিংহকে ১,৫১০(এক হাজার পাঁচশত দশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আসামীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

লালমনিরহাট বাসীকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারুণ্যের আইকন ছাদেকুল হক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১:১০ এএম
লালমনিরহাট বাসীকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারুণ্যের আইকন ছাদেকুল হক

 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৫ নং হারাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী ছাদেকুল হক পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইউনিয়নবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের এই আনন্দ যেন সকলের জীবনে শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে—এ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সকলকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান

মোঃ শাহ্ আলম সরকার

কালিয়াকৈর উপজেলায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ শাহ্ আলম সরকার প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
কালিয়াকৈর উপজেলায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় সফিপুর আন্দার মানিক পশ্চিম পাড়া আব্দুল্লাহ মডেল পাবলিক স্কুল এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মোঃ শামসুদ্দিন শাহীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে আলোচনা করেন। মাওলানা জাকির হোসাইন সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন মুনাফিকের বিষয় নিয়ে,,মোনাফেক কত প্রকার ও কি কি,,মুনাফেক চার প্রকার। তাদের লক্ষণ
(১) মিথ্যা কথা বলে।
(২)ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা বরখেলাপ করে।
(৩)অল্পতে রেগে যায়।
(৪)আমানত খেয়ানতকারী।
এই বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

(৫)নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল মালেক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা সামাজিক দায়বদ্ধতার উপর অবিচল থেকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান। এ সময় (৫) নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং তার আলোচনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
সফিপুর সমবায় সমিতির মেম্বার মোঃ ফজলুল হক মৃর্ধা উপস্থিত ছিলেন।

১০০ থেকে ১৩০ জনের মত উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জনাব মোঃ ইব্রাহিম বায়তুলমাল এর সম্পাদক।

এর পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহ সহ আক্রান্ত ইরান ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল মান্নান সাহেব।

error: Content is protected !!