সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪৮ এএম | 210 বার পড়া হয়েছে
ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

সংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ভুয়া সাংবাদিকদের তৎপরতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যত্রতত্র ফেসবুক লাইভ, নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইনের প্রেস লেখা স্টিকার ও আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অবাধে চলাচল করছে সাংবাদিক নামধারী ভুয়া ব্যক্তিরা। পেটে বোমা মারলেও দু’লাইন লেখার যোগ্যতা নেই, অথচ রিপোর্টার পরিচয়ে তারাই খুলে বসেছে বহুমুখী প্রতারণার বাণিজ্য।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনিবন্ধিত ভুঁইফোঁড় নিউজ পোর্টালের নামে কিছু আসাধু লোক সাংবাদিক পরিচয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তারা যখন যেখানে ইচ্ছে হানা দিচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে।
এতে সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশার মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে। ভুয়া সাংবাদিকদের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকেরা। পাশাপাশি বিরক্ত হচ্ছেন প্রশাসনের লোকজন। তবে এসব প্রতারকের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে দু-একজন গ্রেপ্তার হলেও জেল থেকে বের হয়ে ফের একই অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে তারা।
সাংবাদিকতার নামে প্রতারকদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন তারা। তবে ভুয়া সাংবাদিক শনাক্তের পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধীরাও নিজেকে বাঁচাতে গলায় ভুঁইফোঁড় অনলাইন ও পত্রিকার কার্ড ঝুঁলিয়ে সাংবাদিক বনে গেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারি ও দেহব্যবসায়ীদের সহযোগী বানিয়ে প্রশাসনিক সহায়তা নিয়ে গড়ে উঠেছে ভুয়া সাংবাদিকদের ভয়ংকর সিন্ডিকেট। এরা প্রায়ই থানার দারোগাদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডায় মত্ত থাকে। পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে তারাই বিশ্বস্ত, ঘুষ বাণিজ্যে পুলিশের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। থানায় আসা-যাওয়া ভুক্তভোগী মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্তা করা, আসামি ধরানো-ছাড়ানো, বিচার-সালিশের মাধ্যমে যে কোনো অপরাধের মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য দালালিতে মেতে উঠেছে এসব প্রতারক। এ ছাড়া এই চক্রগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। মিথ্যা-বানোয়াট সংবাদ প্রচারের কথা বলে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকে।
বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিথ্যা সংবাদ করার কথা বলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প সাজিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক ও ভুঁইফোঁড় অনলাইনে প্রকাশ ও প্রচার করছে ভুয়া সাংবাদিকেরা। এদের অপতৎপরতা থেকে বাঁচতে অন্তর্বর্তী সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সাইবার-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যারা সরকারের অনুমোদন ছাড়া নিউজ পোর্টাল চলাবে, একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করে মানুষকে বিব্রত করবে অথবা অনৈতিকভাবে নিউজ করে মানুষকে হয়রানি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুয়া সাংবাদিকদের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর বলেন, এদের প্রতারণার কথা আমাদের কানেও আসে। নামধারি এসব সাংবাদিকের কারণে যাতে পেশাদার সাংবাদিকদের কোনো ক্ষতি বা বদনাম না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এরই মধ্যে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আমাদের কাজ শুরু করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। শিগগিরই ঢাকার সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভুয়া ও অপসাংবাদিকতা রুখতে কিছু কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই আরও বড় পরিসরে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পারব।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ে চক্রগুলো ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানপাট দখল, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে। চক্রে নারী সদস্যও থাকেন। এরা মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে ‘প্রেস’ কিংবা ‘সংবাদপত্র’ লিখে পুলিশের সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে দাবড়ে বেড়ায়। এদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনও থাকে চোরাই এবং সম্পূর্ণ কাগজপত্রবিহীন।
রাজধানী ঢাকার ডেমরা, গুলশান-বনানী, উত্তরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলীসহ ঢাকার আশপাশ এলাকায় ভুয়া সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি দৌরাত্ম্য।
এ ছাড়া ঢাকার আশপাশ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কথিত সাংবাদিকেরা নানা সিন্ডিকেটে বিভক্ত হয়ে অভিনব সব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। প্রতিটি সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকেই তথাকথিত ‘অনলাইন নিউজ পোর্টাল’ তৈরি করে তার আওতায় নিজেদের আইডি কার্ডও বানিয়ে নেয় তারা। গণ্ডমূর্খ একেকজন রাতারাতি চিফ রিপোর্টার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নিউজ এডিটর, এডিটর পদবি ধারণ করে রংবেরঙের ভিজিটিং কার্ড বিলিয়ে বেড়ান, যত্রতত্র গড়ে তোলেন প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি ইত্যাদি নামের ভুঁইফোঁড় সংগঠন। এসব সংগঠনের ব্যানারেও চলে নানা অজুহাতের চাঁদাবাজি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) জানিয়েছে, বেশ কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অসংখ্য অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে কিছু স্বল্পশিক্ষিত লোক ‘সাংবাদিক’ সেজে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ ও ‘সাংবাদিক’ লিখে বোকা বানাচ্ছেন বিভিন্ন মহলকে। ঢাকা থেকে বেশির ভাগ অনলাইন পোর্টাল ও দৈনিক পত্রিকা নামমাত্র সংখ্যায় মাঝেমধ্যে প্রকাশ করা হয়। কোনো বেতনক্রম নেই তাদের। একটি পরিচয়পত্র দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমন ‘পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের’ সঙ্গে অপরাধ জগতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগে যে কেউ ঘরে বসে একটি সংবাদমাধ্যম খুলে বসার সুযোগ পাচ্ছে। অল্প খরচে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু করে যে কেউ অললাইন মিডিয়ার ‘মালিক’, ‘সম্পাদক’, ‘সাংবাদিক’, ‘রিপোর্টার’ বনে যাচ্ছে। ভুয়া সাংবাদিকদের সাধারণ মানুষ সহজে চিহ্নিত করতে পারে না। এমনকি পেশাদার সাংবাদিকেরাও মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত হন।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর বলেন, অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করে মানুষকে বিব্রত করা অথবা যারা অনৈতিকভাবে নিউজ করে মানুষকে হয়রানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে তথ্য অধিদপ্তর কাজ শুরু করেছে।
ভুঁইফোঁড় অনলাইন বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে নিজামূল কবীর বলেন, সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করতে দেওয়া হবে না। অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলো একসঙ্গে দুটো অপরাধ করছে, এক হচ্ছে সরকারের অনুমোদন না নিয়ে নিউজ পোর্টাল চালাচ্ছে। আর দ্বিতীয়তটি সাংবাদিকতার নামে মানুষকে হয়রানি করছে। এটা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। তাই অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে দ্রæতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, একশ্রেণির নামসর্বস্ব পত্রিকার সম্পাদকেরা ভুয়া সাংবাদিকদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে ব্ল্যাকমেইলিং করে থাকেন। তাদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মানহানি হচ্ছে। এই চক্রগুলো প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি এদের যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাথরুমে পড়ে গুরুতর আহত চট্টগ্রামের এসপি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
বাথরুমে পড়ে গুরুতর আহত চট্টগ্রামের এসপি

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নাজির আহমেদ খান তাঁর সরকারি বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। ২৯ মার্চ (সোমবার) সকালে নগরের সিআরবি এলাকায় অবস্থিত এসপির সরকারি বাংলোতে তিনি এ দূর্ঘটনার শিকার হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এসপি নাজির আহমেদ খান। পরে বাসার কর্মচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর বাম পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
তিনি আরও জানান, সোমবার বেলা দুইটার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর)-এ ভর্তি করা হয়েছে।

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম

অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার মানবিক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছেন শিশু আঁখি আক্তার -১০। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং সোমবার বিকেলে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান শিশু আঁখি আক্তারের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন,
“মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে আঁখি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

error: Content is protected !!