লহড়াপাড়া দখল – সন্ত্রাস, রিফাতের পায়ের রগ কেটে দেওয়া, রুস্তমালীর বাবাকে হত্যা – প্রশাসন নীরব
লহড়াপাড়া গ্রাম, কাহালু উপজেলা, বগুড়া—এই গ্রামের নাম এখন আতঙ্কের প্রতীক। বহু বছর ধরে এখানে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির রাজত্ব। ১৯৯৬ সালে আনসার আলী মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই দুষ্টচক্রের কার্যক্রম। আনসারের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই হারুন মেম্বার বা হারুন বাহিনী প্রধান বিদেশে থাকলেও আগে থেকেই ছিল লটখটে সন্ত্রাসী স্বভাব। মেম্বার হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অত্যাচারের কারণে এক সময় সে দীর্ঘদিন এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন তালুকদার বেলালের পরোক্ষ সহায়তায় এবং হারুনের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে নারহট্ট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ মোঃ জোবায়দুর রহমান জিহাদসহ তার বাহিনী নতুন করে সক্রিয় হয়। যদিও হারুন স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দেখালেও আসলে সে বেলালের এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করত।
জনপ্রিয়তার কারণে বেলাল গ্রুপ নানাভাবে বাধা দিলেও ইউনিয়নবাসী তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। তরুণ সমাজ ও মুরুব্বিদের সমর্থনে রুস্তম আলী তার সহযোগিতায় এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নেন। তিনি এলাকার চলাচলের জন্য আটটি রাস্তা নির্মাণ, ইটসোলিং ও পাকা রাস্তা তৈরি করেন, স্থানীয় মসজিদের জন্য এক লক্ষ টাকার ইট ক্রয় করে দেন, এমনকি খাস পুকুরে মাছ চাষ করে উন্নয়নে কাজ করেন।
কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর হারুন বাহিনী আবার তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। তারা রুস্তম আলীর বাবাকে হত্যা করে, রুস্তম আলীর নিজস্ব পুকুর থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে। তারা মজিদের বাড়ি, বাদলের বাড়ি, গোফফারের বাড়ি, নজুর বাড়ি, টুকুর বাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। রুস্তম আলীর গোয়ালে থাকা গরু, ধান মাড়াই কল ছিনতাই করে এবং মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
হারুন বাহিনী অসহায় নিরীহ রিফাতের ওপর বর্বর হামলা চালায়, তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এ ঘটনায় তোহা খান (পিতা মৃত আব্দুর রহমান) ও দীন মোহাম্মদ (পিতা গোলাম রব্বানী) সহযোগিতা করে। রিফাতের বাবা-মাকে বেধড় মারপিট করে উল্টো রুস্তমের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসন কার্যত নীরব, সঠিক তদন্ত করছে না, কারণ পুরো গ্রামবাসী এই বাহিনীর কাছে জিম্মি। হারুন বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের উপর নেমে আসে নির্যাতন।
এ এলাকার গ্রাম কমিটির বর্তমান সভাপতি ও লহড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীর নামও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, হারুন বাহিনী সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, চাঁদা না দেওয়ায় তার ছেলেকে বেধড় মারপিট করে। অসহায় এই পরিবার এলাকা ছাড়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে এবং তিনটি পরিবার থেকে মোট তিন লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়।
হারুন বাহিনীর সদস্যরা হলেন—হারুন মেম্বার, পিতা মৃত মুসলিম, মেহেদী হাসান, পিতা শাহজাহান আলী, শেখ মোঃ জোবায়দুর রহমান জিহাদ, পিতা শাহজাহান আলী, মোঃ রহিম, পিতা বসির, মোঃ সেলিম, পিতা ইদ্রিস, লাল মিয়া, পিতা ইদ্রিস, মোঃ জোব্বার, পিতা গনি মন্ডল, হায়দার, পিতা রমজান মন্ডল, আজমল, পিতা কিনু মন্ডল, মোঃ রহিম, পিতা কিনু মন্ডল, হুদাইফা, পিতা হায়দার আলী, তোহা খান, পিতা আব্দুর রহমান, দীন মোহাম্মদ, পিতা গোলাম রব্বানী, আতা, পিতা জোব্বার—সকলের সাং লহড়াপাড়া, কাহালু, বগুড়া।
রুস্তম আলী বলেন, “তারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এরও সুস্থ তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। রিফাতের কি অপরাধ ছিল? আজ যারা রিফাতকে মেরেছে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমরা তাদের শাস্তি চাই।” তিনি এই বিষয়ে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও র্যাবের সহযোগিতা কামনা করেন।














