মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

গামছা পোশাক ও অলংকারে দেশীয় আইকন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ এএম | 61 বার পড়া হয়েছে
গামছা পোশাক ও অলংকারে দেশীয় আইকন

বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। দিনটি ঘিরে কত পরিকল্পনা, কত-না আয়োজন! পরিকল্পনার অনেকটা জুড়েই রয়েছে পোশাক ও বিভিন্ন অনুষঙ্গ। এখন নববর্ষ উৎসবের ফ্যাশনে আইকনে পরিণত হয়েছে গামছা প্রিন্ট বা গামছা ডিজাইনের নকশা করা পোশাক ও অনুষঙ্গ। এ যেন আশ্চর্য সমাপতন।

আজ থেকে তিন শ বছরের বেশি সময় আগে লিখিত কবি নারায়ণ দেবের ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে গামছার উল্লেখ পাওয়া যায়। এ কারণে গামছা যে বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন পোশাক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই প্রাচীন পোশাক কালক্রমে আমাদের নববর্ষ উৎসবের অন্যতম আইকন হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের।

তাই বর্তমান কালের ফ্যাশন ডিজাইনাররা ধন্যবাদ পেতে পারেন। শুধু পোশাকেই নয়, গামছা এবং তার চৌখোপা নকশা এখন ফ্যাশনের বিভিন্ন অনুষঙ্গেও প্রাধান্য পাচ্ছে একেবারে নিজেদের মোটিফ হিসেবে।

নববর্ষে ঝলমলে পোশাক যতই থাকুক, লাল-সাদা জুটির যেন কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু গরমের শুরু এখান থেকেই, তাই নববর্ষের পোশাক যেন সুতিই হয়, সেদিকে মন থাকে সবার। আরামের জন্য সুতি কাপড়ের বিকল্প নেই। তবে সুতির মধ্য়ে বর্তমানে গামছার কাপড় এবং গামছা প্রিন্টের সুতির শাড়ি ও পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কাটিংয়েই শুধু নয়, ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে গামছার কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলো হয়ে উঠছে অনেক বেশি যুগোপযোগী।
মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা
মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা

নববর্ষের সাজে নতুন মাত্রা

ফ্যাশনে প্রতিনিয়ত যোগ হতে থাকে নতুন মাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় এক অনন্য সংযোজন গামছার তৈরি পোশাক। গামছা শুধু শরীর মোছার কাজে ব্যবহারের দিন বহু পেছনে ফেলে এসেছি। বর্তমানে গামছা দিয়ে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ থেকে শুরু করে ওড়না, টপস, শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি—সবই তৈরি হচ্ছে। তরুণ ডিজাইনারদের অনেকে গামছা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন এর বিভিন্ন সুবিধার কারণে। গামছার কাপড় বেশ পাতলা এবং আরামদায়ক। সুতরাং গরম আবহাওয়ায় বেশ আরামদায়ক গামছার তৈরি পোশাক। তাই পয়লা বৈশাখের সারা দিন গামছার পোশাক পরে আরাম

পাওয়া যাবে—এই ভাবনা থেকে অনেকে গামছা প্রিন্টের পোশাক কেনেন। দেশীয় বিভিন্ন উৎসবের পোশাক হিসেবে সহজে মানিয়ে যায় এটি। লাল ও সাদার মিশ্রণে কিংবা যেকোনো রঙে তৈরি গামছার শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া পরতে যেমন আরাম, তেমনি একেবারে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো।

মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা
মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা

গামছার কাপড়ের বাহার

গামছার কাপড়ের নজরকাড়া দিক হলো, এর ব্যতিক্রমী চেক মোটিফ আর ঝলমলে রং। ঐতিহ্যবাহী গামছার এই মৌলিক দুই বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা হচ্ছে এ থেকে তৈরি পোশাকে। তবে পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গামছার কাপড়ের মান স্বাভাবিকভাবে নৈমিত্তিক ব্যবহারের গামছার তুলনায় উন্নত। সেই সঙ্গে আধুনিক প্রজন্মের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে গামছার কাপড়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অনেক ডিজাইনার আবার ভিন্ন ধরনের কাপড়ের সঙ্গে গামছার কাপড় যোগ করে তৈরি করছেন ফিউশন। গামছার পোশাকের ক্ষেত্রেও ফিউশন ধরনের ডিজাইন বেশ জনপ্রিয়। মেয়েদের লেহেঙ্গা কিংবা ছেলেদের ফতুয়া—সবই হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে ফিউশন ডিজাইনে।

গামছা চেকের পোশাক

এখন সুতির পাশাপাশি সিল্ক ও হাফসিল্ক শাড়িতেও গামছার চেক দেখা যায়। তবে তাঁতের শাড়ির মধ্যে গামছার চেক বেশি। অনেকে গামছা কাপড়ের ব্লাউজ ব্যবহার করছেন। কিছু শাড়ির পাড়ে আবার গামছার প্যাচওয়ার্কও করা হচ্ছে ইদানীং। গামছার কুর্তিও রয়েছে। এ ছাড়া কটি, কাফতান, টপস, ফতুয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে গামছার ব্যবহার রয়েছে। ভিন্নতা আনার জন্য কড়ি কিংবা কাঠের তৈরি পুঁতির ব্যবহার করা হচ্ছে এসব পোশাকে। গামছা কিংবা এর ডিজাইনে তৈরি এসব পোশাকে কিছুটা হাতে করা সুতার কাজ দেখা যায়। এসব দিয়ে এখন নারীদের পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের জন্যও তৈরি করা হচ্ছে শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে গামছার ব্লেজার ও কটি। কটিগুলো সাধারণত একরঙা পাঞ্জাবির ওপর পরা হয়।

ছবি: জাদুর বাক্স
ছবি: জাদুর বাক্স

গামছার অলংকার

শুধু পোশাকই নয়, এখন বিভিন্ন অলংকারও তৈরি হয় গামছার নকশাকে কেন্দ্র করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চুড়ি, কানের দুল, নেকলেস, আংটি, হেয়ার স্ট্রিং ইত্যাদি। মূলত গামছার সঙ্গে পুঁতি, মেটাল কিংবা পাথর বা কড়ি বসিয়ে ভ্যালু অ্যাড করে এসব অলংকার তৈরি করা হয়। এককভাবে তো পাওয়া যায়ই, তা ছাড়া এসব অলংকার এখন পাওয়া যায় সেট হিসেবেও।

দরদাম এবং কোথায় পাবেন

গামছার পোশাকের দাম নির্ভর করে ডিজাইন এবং ফ্যাশন হাউসের ওপর। পণ্য ও ধরনভেদে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে এই পোশাক পাওয়া যায়। বিবিআনা, নিপুণ, যাত্রা, টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির, তাঁতি ছাড়াও দেশীয় অনেক ফ্যাশন হাউস গামছার বিভিন্ন ফিউশনধর্মী পোশাক তৈরি করছে।

এ ছাড়া জাদুর বাক্সসহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজেও গামছার কাপড়ে তৈরি পোশাক পাওয়া যায়। গামছার অলংকার পাওয়া যায় ৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক বা দেড় হাজার টাকায়। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস এবং অনলাইন পেজ থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন এসব অলংকার।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সেনবাগ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সেনবাগ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে সেনবাগ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ বৈশাখী মেলা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম বৈশাখী মেলায় উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী লোকজ বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী চলতে থাকে নববর্ষের আনন্দ আয়োজন।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সেনবাগে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন বছরের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সুলেখা আক্তার শান্তা

নব উদ্যম

সুলেখা আক্তার শান্তা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
নব উদ্যম

ওই ডাকে কে যায় বৈশাখী সকালে,
আলো মেখে বাতাসে নাচে পলাশ-পাতার ঢেউ।
ঘরের কোণে জমে থাকা আবিলতা সরিয়ে,
আজ নতুন বরণে বুক বাঁধি
আনন্দের রঙে আজ রাঙাব সব দিক।
যা ছিলাম গত বছর, সে আমি আছি জাগ্রত,
নেই কোনো আফসোস, নেই পুরোনো ক্ষত।
নতুন পথ দেখায় হাতে ধরা রোদ্দুরের শপথ
কালের চাকা চিনি, তবু সৃষ্টির আহ্বান মিথ্যে নয়।
হে বৈশাখ, তোমারই লাগি সাজাই হৃদয় মাঠ
আশার বীজ ছড়াই চারদিকে ফসল উঠুক।
এবারের গান যেন নিঃশব্দ ব্যথা নয়
বরং সম্ভাবনার ঝলক যেন চোখে লাগে স্পষ্ট।
এসো হে বৈশাখ।

কামরুল ইসলাম

টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কামরুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক চোরাচালান চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৫।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর কাঞ্জরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ওই এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হাতবদলের উদ্দেশ্যে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মোঃ রাশেদ (প্রকাশ রাসেল) (২৫),
মোঃ সোহেল উদ্দিন (প্রকাশ লালু) (২৩) এবং
এহসান উল্লাহ (২৫)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক (এলজি), ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক পাচার, দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে র‍্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জব্দকৃত আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

error: Content is protected !!