এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম জেলা প্রশানের আয়োজনে ডিসি হিলে ফিরছে বর্ষবরণ
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিলে ফিরছে বাংলা নববর্ষের বর্ষবরণ আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবার ডিসি হিলে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে নগরীর সিআরবির শিরীষতলাতেও পৃথক আয়োজনে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ডিসি হিলে বর্ষবরণের আয়োজন নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম’-এর মতপার্থক্য দেখা দিলে সংস্থাটি প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেয়। তবে সেখানে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এবং কয়েক দফা আলোচনার পর তারা ডিসি হিলের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আয়োজক হিসেবে থাকছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
এদিকে সিআরবির শিরীষতলায় বরাবরের মতো বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ‘সম্মিলিত নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম’। এ আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব।
শোভাযাত্রা ও আলপনায় রঙিন হবে নগরীঃ
নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এটি গিয়ে শেষ হবে ডিসি হিলে। এরপর সেখানে সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে বর্ষবরণের দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
শোভাযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিক্ষার্থীরা শতাধিক মুখোশ, শোলার তৈরি বিভিন্ন মোটিফ এবং প্রায় দুই শতাধিক সরাচিত্র প্রস্তুত করেছেন। এতে ঢোলবাদক দলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন থিমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি কৃষক, জেলে, চা বাগানের শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতিও থাকবে শোভাযাত্রায়।
আয়োজকদের মতে, প্রায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এবার চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বৈশাখ উপলক্ষে সার্কিট হাউজ থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে আলপনা আঁকা হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, যা নগরীতে এই প্রথম এত দীর্ঘ আলপনা।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জমবে ডিসি হিলঃ
ডিসি হিলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় অর্ধশত সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেবে। দিনব্যাপী সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিকেলে চিশতি বাউল সংগীত পরিবেশন করবেন।
১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিলে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ। তবে গত বছর পহেলা বৈশাখের আগের রাতে হামলা ও মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় অনুষ্ঠানটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
শিরীষতলায়ও বর্ষবরণের আয়োজনঃ
অন্যদিকে সিআরবির শিরীষতলায় বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান শুরু হবে সোমবার বিকেল ৩টায়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেবে ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
নগরজুড়ে আরও আয়োজনঃ
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ চট্টগ্রাম দুই দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন, সংগীত পরিবেশনা ও গীতি-নৃত্য আলেখ্য।
এছাড়া বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে ‘বোধন বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’ আয়োজন করেছে। সেখানে আবৃত্তি, সংগীত, যন্ত্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেবে ২৪টি সংগঠন।
নগরীর পাথরঘাটায় সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণেও শোভাযাত্রা, প্রদীপ প্রজ্বালন, সমবেত সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে।











