রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশের ধারাবাহিক ও কঠোর পরিশ্রমে অবশেষে অপহরণকারীকে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর-০৫, তারিখ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (ধারা-৭) এবং দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮ ধারায় এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ শাফায়েত হোসেন (২৩), চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, অপহৃত ভিকটিম রোশনি নামের এক তরুণীকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। ঘটনার পরপরই বোয়ালিয়া থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান ট্র্যাক করে দ্রুত অভিযান শুরু করে।
বোয়ালিয়া থানার পুলিশের তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর তৎপরতায় প্রথমে আসামির অবস্থান ঢাকায় শনাক্ত হয়।
ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই মাসুদ কবিরের নেতৃত্বে একটি টিম ঢাকায় অভিযান চালায়। সেখানে আসামিকে না পেয়ে তার এক সহযোগীকে শনাক্ত করা হয় এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সহযোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান চালানো হয় চট্টগ্রামে।
পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতারকৃত শাফায়েত ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রভাবশালী ও স্বচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে বিভিন্ন কৌশলে অপহরণ করে অর্থ আদায় করত।
এছাড়াও এলাকাবাসীর অভিযোগ, আসামির পিতা কালোজাদু বা তন্ত্র-মন্ত্রের সঙ্গে জড়িত এবং সেটিকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করত—তবে এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বোয়ালিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।