৭ বছর পর ধরা পড়ল দুর্ধর্ষ খুনি নুর আলম
হাসপাতালের টয়লেট থেকে নাটকীয় গ্রেফতার, নতুন করে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য
দীর্ঘ সাত বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে আইনের আওতায় এসেছে আলোচিত কিশোর শামীম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর আলম (৪২)। মঙ্গলবার দুপুরে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টয়লেট থেকে তাকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুর আলম আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর-তিন বাড়িয়া রহমত নগর গ্রামের মৃত খায়েজ আহমদের ছেলে। ২০১৯ সালে সংঘটিত কিশোর শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের একজন তিনি। ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও এতদিন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
নৃশংস হত্যার শিকার কিশোর শামীম
নিহত শামীম (১৫) ছিলেন সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চরশাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে সোনাপুর তিন বাড়িয়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
নতুন অভিযোগে আবারও আলোচনায়
গ্রেফতারের দিনই নুর আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা না পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা রাকিব হোসেন (২২) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে অপহরণ করে নির্যাতন চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নুর আলম পালিয়ে হাসপাতালের টয়লেটে আত্মগোপন করেন। পরে সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান,
“গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়
দীর্ঘদিন পর মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারও এই গ্রেফতারকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের মতে, এই গ্রেফতার শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান এবং ন্যায়বিচারের আশার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে সোনাগাজীতে।








