রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

খুলে দেয়া হলো ৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদের দরজা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ৩:১৩ এএম | 177 বার পড়া হয়েছে
খুলে দেয়া হলো ৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদের দরজা

দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের আকসেকি জেলার সারহাসিলার পাড়ায় অবস্থিত ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক সারহাসিলার মসজিদটি অবশেষে সংস্কারের কাজ শেষে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এই মসজিদটি তুরস্কের প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন, যা আনাতোলিয়ান সেলজুক আমলে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে, তবে করোনাভাইরাস মহামারি এবং অন্যান্য কিছু প্রতিকূলতার কারণে সংস্কার কাজ দীর্ঘায়িত হয়। অবশেষে ২০২৪ সালে মসজিদটি আবারও নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

সারহাসিলার মসজিদটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর কাঠের কাজ। মসজিদের মিরহাব, মিম্বর, ছাদ, জানালা, দরজা থেকে শুরু করে নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কাঠের তৈরি। সারিহাসিলার গ্রাম সংস্কৃতি ও পর্যটন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মেহমেত ওরহান কেন জানান, মসজিদটির মিরহাব, মিম্বর এবং গম্বুজ যেগুলো ৬০০ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে। এগুলো মসজিদের মূল স্থাপত্যশৈলীর প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।

মসজিদটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এর কাঠের ছাদ ও দেয়ালগুলি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, মেঝের অবস্থাও নাজুক ছিল। মসজিদটির ভেতরে বিশ্রামের জায়গা এবং প্রার্থনার স্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই এগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংস্কার করা হয়েছে, যাতে এর ঐতিহ্যবাহী রূপ বজায় থাকে। প্রাচীন কাঠের তৈরি মসজিদটির সংস্কারকাজে বিশেষজ্ঞ কারিগরদের নিয়োগ করা হয়, যারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিটি কাঠের নিখুঁত সংস্কার সম্পন্ন করেছে। এই মসজিদটির প্রতিটি কাঠের কাজ আনাতোলিয়ান সেলজুক আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যা একে ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে স্থান করে দেয়।

এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি তুরস্কের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপরিহার্য অংশ। ৬০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি সেই সময়ের সেলজুক স্থাপত্যশৈলীর অসাধারণ উদাহরণ। মসজিদটির কাঠের নির্মাণশৈলী এবং এর স্থাপত্য কৌশল তৎকালীন সেলজুকদের নির্মাণশিল্পের প্রতি গভীর প্রশংসার সুযোগ করে দেয়। এটি তুরস্কের মুসলিম ইতিহাসের অংশ হিসেবে টিকে আছে এবং বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হয়ে থাকবে।

এসএস//

সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন ডা. মাকামে মাহমুদ

ময়মনসিংহে এনসিপি জেলা কমিটি গঠন

ডাঃ মোঃ আবুল কালাম, জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম
ময়মনসিংহে এনসিপি জেলা কমিটি গঠন

ময়মনসিংহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুক্তাগাছার কৃতি সন্তান ডা. মাকামে মাহমুদ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদনে এই আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে নবগঠিত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নবনিযুক্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাকামে মাহমুদ দায়িত্ব পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
উল্লেখ্য, এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

সীমান্তে আটক আজিজুর ১১ মাস পর ভারত থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন দেশে

মো. আরফান আলী, ঠাকূরগাঁও প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
সীমান্তে আটক আজিজুর ১১ মাস পর ভারত থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন দেশে

ঠাকূরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজূর আজিজুর রহমান সীমান্তে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর ভারত থেকে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন। তার মৃত্যু ঘিরে শোক-ক্ষোভ; নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সীমান্তবাসীর।গত শুক্রবার ৩ এপ্রিল বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সরকারী ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

মরদেহ গ্রামের বাড়ী শাহানাবাদে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পূরো এলাকা। এ সময় আজিজুরের স্ত্রী তাসকারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “বিএসএফের নির্যাতনেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাস কাটতে যাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে-না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ ভারতে মৃত্যুবরণকারী আজিজুর রহমানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা-স্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি দেশে আনা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে দুপূরে আজিজুর রহমানসহ চারজন সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যান। তারা সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এস এলাকায় পৌঁছালে ভারতের আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় অন্য তিনজন পালিয়ে এলেও আজিজুর ধরা পড়েন।

পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর তাকে নির্যাতন করা হয় এবং দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় ভারতে বন্দি রাখা হয়। পরে ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে পরিবার এ খবর জানতে পারে।

এ বিষয়ে ঠাকূরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ জানান, দেশে আনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি আরও কঠোর নজরদারি বাড়াবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে নোতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সীমান্তবাসীরা বলছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী

সুনামগঞ্জের মান্নারগাঁওয়ে দখলীয় ভূমি জবর দখলের পাঁয়তারা

মোঃরফিকুল ইসলাম সোহাগ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০০ পিএম
সুনামগঞ্জের মান্নারগাঁওয়ে দখলীয় ভূমি জবর দখলের পাঁয়তারা

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের মান্নারগাঁও গ্রামে কমর উদ্দিনের নিজ দখলীয় ভূমি জবর দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল এমন অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের হীরা লাল দাসের ছেলে ধীরেন্দ্র লাল দাসের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে ভূমির মালিকসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা এ অভিযোগ করেন।

জানা যায়, মান্নারগাঁও গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ‘কিত্তা চান্দের বাড়ি’ এলাকায় অবস্থিত একটি পুকুরের অংশ দীর্ঘদিন আগে ক্রয় করা হয়, যা একই ইউনিয়নের জুগীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কমর উদ্দিনের নিজস্ব সম্পত্তি।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৪-৫ বছর ধরে ওই পুকুরের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন মান্নারগাঁও গ্রামের মৃত হীরা লাল দাসের ছেলে শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার দাস গংরা।

এ লক্ষ্যে একাধিকবার সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করানো হলেও তারা এখন পর্যন্ত দখলের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কমর উদ্দিনের জমি তার স্ব স্ব অবস্থানেই রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মৌজা মান্নারগাঁও, সাবেক জে.এল. নং-৯৬, দাগ নং-১৫০৫-এর পুকুর শ্রেণীর জমি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিরোধ সৃষ্টি করে নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছেন জমির মালিক কমর উদ্দিন।

নাম প্রকাশে স্থানীয় এক ব‍্যক্তি জানান, শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার দাস সরলভাব নিয়ে চলেন। কিন্তু তিনি যার তার সাথে ভূমি নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত ডাকেন। পরে লজ্জা পান। এখন কয়েক বছর ধরে হাজী কমর উদ্দিন সাহেবের সাথে বিবাদ তৈরি করে রেখেছেন। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ‍্যাস।

অভিযুক্ত ধীরেন্দ্র কুমার দাস দাবি করেন, তার দখলীয় ‘অ্যানিমি’ পুকুর শ্রেণীর জমি কমর উদ্দিন ক্রয় করেছেন এবং প্রায় ১৫ শতক জমি নিজের দখলে নিয়েছেন। এ কারণে তিনি বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ ও জমি পরিমাপের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কমর উদ্দিন বলেন, আমি বৈধভাবে জমির মালিক। পুরনো পুকুরপাড়, আমার লাগানো গাছ এবং পাকা পিলার এখনো বিদ্যমান। তারপরও আমাকে হয়রানি করতে বার বার সালিশ ডাকা হয় এবং পরিমাপ করা হয়। কিন্তু কেউ আমার জমির বাইরে কিছু প্রমাণ করতে পারেননি।

সার্ভেয়ার বাবুল মিয়া জানান, পুকুরের পানি শুকানোর পর অগ্রহায়ণ মাসে জমি পুনরায় পরিমাপ করা হবে এটি গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত।

মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দীপক বলেন, শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে সঠিকভাবে জমি পরিমাপ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।##

error: Content is protected !!