মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

(নীলফামারী) প্রতিনিধি

ডিমলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম | 40 বার পড়া হয়েছে
ডিমলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন

আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। দিনব্যাপী বৈচিত্র্যময় কর্মসূচিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা, ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে নববর্ষকে বরণ করে নেয় উপজেলা প্রশাসন। এ আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে নববর্ষের উদ্বোধন করেন। এরপর বের হয় চোখধাঁধানো বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। রঙিন পোশাক, মুখোশ, গ্রামীণ জীবনচিত্রের প্রতীক, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে বসে প্রাণবন্ত বৈশাখী মেলা। মেলায় পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি, মিষ্টান্নসহ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাহারি স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পাশাপাশি হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, গ্রামীণ খেলনা ও নান্দনিক পণ্যের স্টলগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মেলায় ঘুরতে আসা পরিবারগুলো উৎসবের আনন্দ উপভোগ করে সময় কাটায়।

বৈশাখী উৎসবে বিশেষ মাত্রা যোগ করে গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত খেলা হাডুডু। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই খেলায় মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, চিৎকার আর করতালিতে প্রাণ ফিরে পায় গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য।

এরপর সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং ‘জাসাস’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা বৈশাখী গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। বৈচিত্র্যময় পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নিজস্ব আয়োজনে দিনব্যাপী নববর্ষ উদযাপন করা হয়। বিকেলে হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের বাঙালি খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয় সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে।

দিনব্যাপী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা, নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ব্যানবেস কর্মকর্তা শাহিনুরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

উৎসবের এ আয়োজনে নতুন বছরের প্রত্যাশা, সাম্যের বার্তা এবং বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির গর্ব একসূত্রে গাঁথা হয়ে ধরা দেয় ডিমলার মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাসে।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সেনবাগ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সেনবাগ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে সেনবাগ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ বৈশাখী মেলা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম বৈশাখী মেলায় উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী লোকজ বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী চলতে থাকে নববর্ষের আনন্দ আয়োজন।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সেনবাগে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন বছরের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সুলেখা আক্তার শান্তা

নব উদ্যম

সুলেখা আক্তার শান্তা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
নব উদ্যম

ওই ডাকে কে যায় বৈশাখী সকালে,
আলো মেখে বাতাসে নাচে পলাশ-পাতার ঢেউ।
ঘরের কোণে জমে থাকা আবিলতা সরিয়ে,
আজ নতুন বরণে বুক বাঁধি
আনন্দের রঙে আজ রাঙাব সব দিক।
যা ছিলাম গত বছর, সে আমি আছি জাগ্রত,
নেই কোনো আফসোস, নেই পুরোনো ক্ষত।
নতুন পথ দেখায় হাতে ধরা রোদ্দুরের শপথ
কালের চাকা চিনি, তবু সৃষ্টির আহ্বান মিথ্যে নয়।
হে বৈশাখ, তোমারই লাগি সাজাই হৃদয় মাঠ
আশার বীজ ছড়াই চারদিকে ফসল উঠুক।
এবারের গান যেন নিঃশব্দ ব্যথা নয়
বরং সম্ভাবনার ঝলক যেন চোখে লাগে স্পষ্ট।
এসো হে বৈশাখ।

কামরুল ইসলাম

টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কামরুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক চোরাচালান চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৫।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর কাঞ্জরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ওই এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হাতবদলের উদ্দেশ্যে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মোঃ রাশেদ (প্রকাশ রাসেল) (২৫),
মোঃ সোহেল উদ্দিন (প্রকাশ লালু) (২৩) এবং
এহসান উল্লাহ (২৫)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক (এলজি), ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক পাচার, দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে র‍্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জব্দকৃত আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

error: Content is protected !!