বাঁশখালীতে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, ডাম্পার ট্রাক জব্দ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করেছে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর বিকল করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা এনএসআই চট্টগ্রামের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি এলাকায় গড়ে ওঠা জেবিএম ও এএসসি নামের দুটি ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি আকন।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার একাধিক আলামত পাওয়া গেলেও জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয় এবং পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর বিকল করে দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন বলেন, “ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি পাহাড় কাটার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে জেলা এনএসআই চট্টগ্রামের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এবং বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনা কালে উপজেলা সহকারী প্রশাসন(ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি ়়আকন পাহাড় কাটা সহ জমির টপ সয়েল কাটা এবং মাদক, জুয়া, ইভটিজিং সহ সামাজিক যেকোন অপরাধের বিরোদ্ধে সাধারন জনগণের সচেতনতা কামনা করে বলেন, যেকোন সামাজিক অপরাধ নাগরিকদের দৃষ্ঠিগোচর হওয়ার সাথে সাথে প্রশাসনকে অবহিত করা উচিত। জনগনের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া সামাজিক অপরাধ কমিয়ে ়আনা দুরহ ব্যাপার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে এবং স্থানীয় পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ে।
এছাড়া পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে আশপাশের বসতি ও সড়ক অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং বৃষ্টিপাতের সময় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সম্ভাবনাও বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে।











