শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

হাম প্রতিরোধে যা করতে হবে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম | 43 বার পড়া হয়েছে
হাম প্রতিরোধে যা করতে হবে

হাম বিষয়ে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে সামগ্রিকভাবে এ রোগ প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। তবে টিকার অভাব প্রাথমিকভাবে হাম প্রতিরোধে কিছু কাজ করা জরুরি। এগুলোর মধ্যে আছে মাস্ক পরা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং করোনা প্রতিরোধে করা কাজগুলো পুনরায় করা। তবে মনে রাখতে হবে, টিকাই নির্ভরযোগ্যভাবে হাম প্রতিরোধ করতে পারে।

মেসেলস মরবিলি ভাইরাসের কারণে হাম হয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস। দ্রুত এটি সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। ফলে এ হাম প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। হামের ভাইরাস আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ বা ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সঠিক সময়ে এমআর টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশু আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত আলাদা রাখা, বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল, পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটি হামমুক্ত সমাজ গড়তে পারি।ডা. কাকলী হালদার, সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

হাম প্রতিরোধে যা করতে পারেন—

মাস্ক পরুন

মাস্ক আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ভাইরাস ছড়ানো কমিয়ে ফেলতে পারে উল্লেখযোগ্য মাত্রা। একই সঙ্গে এটি সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করার পরিমাণও কমিয়ে দিতে পারে।

মাস্ক আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও মুখ থেকে বের হওয়া শ্বাসপ্রশ্বাস, কাশি বা হাঁচির ফোঁটাগুলো বা ড্রপলেট বাতাসে ছড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা দেয়। এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। কারণ, এ ধরনের মাস্কগুলো ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কণা ছেঁকে ফেলতে পারে। সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কও কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

কখন ব্যবহার করবেন

  • জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি হামের লক্ষণ দেখা দিলে মাস্ক পরুন।
  • চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যাওয়ার সময় বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরুন।
  • ২ বছরের বেশি বয়সী সবাই মাস্ক পরতে পারে।
  • শরীরে হামের লক্ষণ দেখা না দিলেও মাস্ক ব্যবহার করুন। এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। এ ছাড়া বায়ুজনিত অন্যান্য দূষণ থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায় মাস্ক ব্যবহারের কারণে।

হাম প্রতিরোধে এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক বেশি সবচেয়ে কার্যকর। এ ধরনের মাস্কগুলো শূন্য দশমিক ৩ মাইক্রন সূক্ষ্ম কণা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ছেঁকে ফেলে। শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির সঙ্গে হাম ভাইরাস ছড়ানো এই মাস্কগুলো ভালোভাবে প্রতিরোধ করতে পারে।

মাস্কের কার্যকারিতার তুলনা

মাস্কের মধ্যে এন৯৫ বা কেএন৯৫ সবচেয়ে ভালো ফলাফল দেয়। এ ধরনের মাস্ক ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকর। এগুলো টাইট ফিট বলে সূক্ষ্ম কণা প্রতিরোধ করে বেশি।

সার্জিক্যাল মাস্ক মাঝারি মাত্রার প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। এগুলো ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে। তবে ফাঁক থাকে বলে জীবাণু ছাড়ায়।

সাধারণ কাপড়ের মাস্ক শুধু অস্থায়ী সুরক্ষা দেয়। এগুলো ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে।

সঠিক ব্যবহারের নিয়ম

  • নাক-মুখ পুরোপুরি ঢেকে টাইট করে পরুন।
  • ২ বছরের বেশি বয়সী সবাই ব্যবহার করতে পারে।
  • লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার করতে শুরু করুন।
  • চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় এবং বেশি মানুষের মধ্যে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

মাস্ক ছাড়াও হাম প্রতিরোধে বেশ কিছু কার্যকর সুরক্ষা পদক্ষেপ রয়েছে। এগুলো বিশেষ করে হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোভিড-১৯-এ করা কাজগুলো আবারও শুরু করা জরুরি।

প্রধান প্রধান সুরক্ষা পদক্ষেপ

দূরত্ব বজায় রাখুন: আক্রান্ত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে কমপক্ষে ৬ ফুট বা ২ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন। হাম বাতাসে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে।

হাত ঘন ঘন ধুয়ে ফেলুন: সাবান ও পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন। অথবা হাত পরিষ্কারের জন্য অ্যালকোহলভিত্তিক স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার: কাশি বা হাঁচার সময় কনুই, টিস্যু, রুমাল, গামছা ইত্যাদি দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। টিস্যু নিরাপদ জায়গায় ফেলে হাত ধুয়ে নিন। রুমাল বা গামছা যখনই সুযোগ পাবেন, পরিষ্কার করে নিন।

ফুসকুড়ি দেখা দিলে আইসোলেশন: শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে ৪ দিন আইসোলেশনে থাকুন। অর্থাৎ বাড়িতে নির্দিষ্ট রুমে বন্ধ থাকুন। এ সময় স্কুল ও কর্মক্ষেত্র এড়িয়ে চলুন।

স্পর্শ এড়ান: অপরিষ্কার হাতে মুখ, নাক, চোখ স্পর্শ করবেন না। দরজার হাতল, টেবিল ইত্যাদি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর সুরক্ষায়

  • লক্ষণ দেখা দিলে শিশু, গর্ভবতী, দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন।
  • বাইরে থেকে ফিরে পোশাক-জুতা আলাদা রাখুন এবং গোসল করুন।

সুষম খাবার ও পুষ্টি

যেকোনো ধরনের রোগ প্রতিরোধে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। শরীরে সঠিক পুষ্টি থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক থাকে। তাতে যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় সহজে। সংক্রমিত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির খাবারে ভিটামিন ও প্রোটিনযুক্ত এবং পানিসহ প্রচুর তরল খাবার রাখতে হবে।

পুষ্টিবিদ লিনা আকতার জানিয়েছেন, এই রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া উচিত। কারণ, তখন ক্ষুধামান্দ্য থাকে এবং এসব ফলের রস রুচি বাড়াতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে রোগীকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় করার জন্য প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

এ ছাড়া পানিশূন্যতা রোধে পানিসহ প্রচুর পরিমাণে তরলজাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে। এর সঙ্গে দিতে হবে ভিটামিন এ, সি, প্রোটিন এবং জিংকসমৃদ্ধ খাবার। এগুলো হামের তীব্রতা কমাতে এবং শরীরের সার্বিক পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য।

হাম কিংবা হামের মতো কোনো রোগ এককভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সার্বিক সমন্বয়।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় কলেজছাত্রী নিহত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৭ পিএম
চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় কলেজছাত্রী নিহত

চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া। ৯ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন সামিয়া, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হল সামিয়ার, পরিবার বলছে ‘পরিকল্পিত হত্যা’।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা–লালখান বাজারমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান তানিশা (২২) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা দিলে গাড়ির সামনের সিটে বসা সামিয়া ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, সামিয়া জাহান তানিশা গতকাল পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে তিনি বন্ধু সাইদুল আলমের সাথে পতেঙ্গা বেড়াতে যান। ফেরার পথে সাইদুল আলম চালিত চট্টমেট্রো-গ-১১-৪০৩৪ নম্বরের একটি পুরানো প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় সামিয়া ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং চালক সাইদুল আলমও সামান্য আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাইদুল আলমও সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বন্দর থানার এসআই এরশাদ মিয়া জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান নিহত হয়েছেন। আহত চালককে পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
নিহত সামিয়ার বাসা নগরের রাহাত্তারপুল এলাকার ফুলতলীর শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটিতে। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তালেব পাটোয়ারী এবং মা নাসিমা সুলতানা। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করছেন।
নিহতের মামা গিয়াস উদ্দিন শিকদার জানান, সামিয়া তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তার বড় ভাই মাহমুদ সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত। আগামী ৩০ এপ্রিল তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে সামিয়ার অনেক পরিকল্পনা ছিল। মাত্র পাঁচদিন আগে ৪ এপ্রিল পরিবারের সাথে জন্মদিনও উদযাপন করেছিলেন তিনি।
তবে সামিয়ার পরিবার এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাইদুল আলম সামিয়াকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর পুলিশ সাইদুল আলমকে হেফাজতে নিয়েছে। তিনি নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকার বারৈপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, সাইদুল আলম বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়ই বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু প্রাইভেট কার নয়, বাইক থেকে শুরু করে, থ্রি-হুইলার সিএনজি এমন কি অনেক ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর শহর এলাকার পাবলিক বাসও ফ্লাইওভার অতিক্রম করার সময় সর্বোচ্ছ পিক়আপে বেপরোয়া গতিতে চলার ফলে যাত্রিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়। ফ্লাইওভারের উপরে এসব দেখার বা নিয়ন্ত্রন করার কেউ নেই। ফ্লাইওভারে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার লোকজন।

গোসলের টিপস

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ পিএম
গোসলের টিপস

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন এক বালতি শীতল পানিতে গোসল বা শাওয়ারের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোটাই যেন বড় স্বস্তির বিষয়। তবে আপনি কি জানেন, ভুল পদ্ধতিতে গোসল করলে তা আপনার ত্বক ও চুলের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে? গ্রীষ্মের তাপে শুধু যে আমাদের শরীর ঘামে, তা-ই নয়; বরং আমাদের বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা পানিতে খনিজ উপাদান ও লবণের মাত্রাও বেড়ে যায়। ফলে শীত বা বর্ষার গোসলের নিয়ম গরমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই এই তীব্র গরমে ত্বক ও চুল থেকে সতেজ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে আপনার গোসলের রুটিনে আনা চাই কিছু পরিবর্তন।

স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে গোসল

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই গরমকালে শীতল বা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। শীতল পানি ত্বকের চুলকানি কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনি দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভব করবেন এবং এটি আপনার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করুন

সারা দিনের ঘাম, ধুলাবালি আর ময়লা মিলে আমাদের ত্বকের রোমকূপগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে ভারী, আঠালো ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। রাতে ঘুমানোর আগে একবার গোসল করে নিলে রোমকূপগুলো উন্মুক্ত হয় এবং মাংসপেশি শিথিল হয়। এ ছাড়া হালকা স্ক্রাবিং ত্বকের মরা কোষ দূর করে আপনাকে সতেজ অনুভব করাবে, যা সারা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে দারুণ সাহায্য করবে।

গোসলের পানিতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করুন

সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে অ্যারোমাথেরাপি বা সুগন্ধি তেলের ব্যবহার খুবই চমৎকার কাজ করে। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এই সুগন্ধি আপনার মন শান্ত করার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর চাঙা করে তুলবে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

বারবার গোসল এড়িয়ে চলুন

প্রচণ্ড গরমে বারবার গোসলের ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বারবার গোসল করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিনে একবার ভালো করে গোসল করাই যথেষ্ট। যদি খুব বেশি গরম লাগে, তবে বারবার সাবান ব্যবহার না করে শুধু সাধারণ পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

পানির গুণমান নিশ্চিত করুন

গ্রীষ্মকালে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানিতে লবণ ও খনিজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হার্ড ওয়াটার বা খড় পানি চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এটি ত্বকও খসখসে করে দেয় এবং শ্যাম্পু ও সাবানের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার বা ওয়াটার সফটনার ব্যবহার করুন। পরিষ্কার পানি ত্বক ও চুলের অকালে ক্ষতি রোধে বেশি কার্যকর।

ত্বকের স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন

গরমকালে ত্বকের ওপর মৃত কোষের স্তর জমে যায়, যা থেকে ব্রণ ও র‍্যাশ হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার বা দুবার স্ক্রাব করে ত্বক পরিষ্কার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন অতিরিক্ত স্ক্রাবিং না হয়। কারণ, এতে ত্বক জ্বালাপোড়া করতে পারে। গোসলের আগে মাথার ত্বক হালকা করে ব্রাশ করে নিলে খুশকির সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। গোসল শুধু শরীর পরিষ্কার করার মাধ্যম নয়, এটি নিজেকে সতেজ রাখার প্রক্রিয়াও বটে। সঠিক নিয়মে গোসল করলে আপনি যেমন তপ্ত গরমে আরাম পাবেন, তেমনি আপনার ত্বক ও চুল সুন্দর হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, ভালো ত্বক ও চুলের শুরুটা হয় সঠিক পানির ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর গোসলের অভ্যাস থেকে। তাই এই গরমে গোসলের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। তাতে সতেজ থাকতে পারবেন দিনভর।

সূত্র: ওয়াটার সায়েন্স ও অন্যান্য

ছুটির দিনে সন্তোষপুর

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
ছুটির দিনে সন্তোষপুর

ঢাকা থেকে বেশি দূরে নয় সন্তোষপুর। হাজার হাজার রাবারগাছ আছে এখানে। সেই বনে আছে বন্য বানরের লুকোচুরি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়ন সন্তোষপুরে এই রাবার বন। এক সাংবাদিক বন্ধুর পাঠানো ছবি দেখে উৎসাহী হয়ে উঠি যাওয়ার জন্য। ঝটপট বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। ছুটির দিনে আপনারাও কিন্তু চলে যেতে পারেন।

যানজটের ভয়ে ভোর চারটায় গাড়ি ছাড়ি। তারপরও কপাল মন্দ হলে যা হয়। জটেই পড়ে রইলাম। মাওনা পার হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি মিলল। এক টানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলবাড়িয়ার কান্দানিয়া গ্রামে পৌঁছাতে পেরেছি। স্থানীয় সেই সাংবাদিক বন্ধু জানালেন, এখানে বানর দেখার মোক্ষম সময় বিকেলবেলা। তাই অনুমতি নিয়ে ঢুঁ মারি দুলমা গ্রামের দীপ্তি অর্কিডস বাগানে।

প্রধান ফটক পেরিয়ে বাগানে ঢুকতেই চোখ জুড়িয়ে যায়। শক্ত পাতার আবরণে লাল, হলুদ, সাদা, বেগুনি ইত্যাদি রঙের নানান ফুল ফুটে আছে। প্রায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে এই অর্কিড বাগান। এ ছাড়া আরও আছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গাছপালা। বাগানজুড়ে পাখির কলতান। বেশ ভালো লাগা সময় পার হলো।
নামাজ শেষে হেঁটে চলে গেলাম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামে। জায়গাটা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল জেলার সীমানায় পড়েছে। সেখানে রয়েছে একটি প্রাচীন তমালগাছ। এর সঠিক বয়স কেউই ‘সঠিক’ভাবে বলতে পারেন না। তবে শতাধিক বছর যে পেরিয়েছে, সেটা নিশ্চিত। স্থানীয় এক পুরোহিত জানালেন, তমালগাছটি নাকি একবার মারা যাওয়ার প্রায় ১২ বছর পর নতুন করে ডাল-পালা-পাতা গজিয়েছে! গাছটি দেখতেও বেশ অদ্ভুত। অনেকখানি জায়গাজুড়ে এর বিস্তৃতি। প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী মির্জা রাসেল জানালেন, এটা তমাল নয়। তবে বিরল প্রজাতির কোনো বৃক্ষ। গাছের নাম যা-ই হোক না কেন, বর্তমানে একে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনা চলে। দর্শনার্থীদের জন্যও এটি বেশ আকর্ষণীয়। গাছ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে করতে ছুটি সন্তোষপুর রাবারবাগানের পথে।
ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

সুনসান নিরিবিলি গ্রাম্য পথে গাড়ি চলছে বেশ দ্রুতগতিতে। দুই পাশে স্বপ্নময় নিসর্গ, পাকা ধানের সুগন্ধ, সিজনের পাকা আনারসের ঘ্রাণ নিতে নিতে কখন যে সন্তোষপুর পৌঁছে গিয়েছিলাম, টের পাইনি। গাড়ি থামে বনের ভেতর রাবার প্রক্রিয়াকরণ কারখানার দরজায়। ভেতরে ঢুকে রাবার তৈরির প্রক্রিয়া দেখে বনের পথ ধরে বিট অফিসের দিকে হাঁটতে থাকি।

নয়নাভিরাম সন্তোষপুর বনাঞ্চল ১০৬ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত। এই বনে রয়েছে শাল-গজারিসহ নানান জাতের গাছ। এ ছাড়া আরও আছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রাবারবাগান। বুনো ঘ্রাণ আর শেষ বিকেলে ঘরে ফেরা বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে পৌঁছে যাই বন বিট অফিসের সামনে। এই পাশটায় যেন বানরের সভা বসেছে! নানান বয়স আর আকারের বানর। দোকানিদের কাছ থেকে কলা, বাদাম কিনে আমরাও বানরের বাঁদরামিতে অংশ নিই। আশ্চর্য বিষয়, বানরগুলো আমাদের কোলে, কাঁধে একেবারে নির্ভয়ে এসে উঠে বসল! আমরা যেন ওদের কত চেনা-পরিচিত।

ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সন্তোষপুরের এই বনে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় ৫০০ বানর রয়েছে। আগে আরও অনেক ধরনের প্রাণীর দেখা মিলত। কিন্তু প্রাকৃতিক বনের বুকে আশির দশকে রাবারবাগান সৃজন আর মানুষের উৎপাতে এখন শুধু বানরকুলই কোনোরকমে টিকে আছে। বন বিভাগ থেকে বানরের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও তা অপ্রতুল। তাই বনে ঘুরতে আসা মানুষদের দেওয়া খাবারই এখন তাদের ভরসা। স্থানীয়রা এদের সামাজিক বানর হিসেবেই আখ্যায়িত করে। কারণ, এরা সাধারণত উৎপাত করে না। তবে বনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ যদি খাবার না দেয়, তাহলে খুব অসহায়ভাবে তার কাঁধে বা কোলে বসে থাকবে। অগত্যা হাড়কিপ্টে মানুষও বানরের জন্য কিছু টাকা খরচে বাধ্য হয়। ভ্রমণপিয়াসি মানুষ আর বানরের অভূতপূর্ব মিলনের মাঝেই দিনের আলো মিলিয়ে গেল। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও ফিরতি পথ ধরতে হলো।

যাবেন যেভাবে

নিজস্ব বা ভাড়ার গাড়ি নিয়ে গেলে ঘুরতে সুবিধা বেশি। তবে ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাসে উঠে নামতে হবে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অর্কিড বাগান। ইচ্ছা করলে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে একেবারে সন্তোষপুর রাবারবাগানসহ আরও আশপাশ ঘুরে আসা যায়। যাঁরা শুধু সন্তোষপুর বানরপল্লি যেতে চান, তাঁরা ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে অটোরিকশায় সরাসরি চলে যেতে পারেন।

error: Content is protected !!