বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। বিসিবির নতুন কমিটির প্রধান হয়েছেন তামিম ইকবাল। তাঁর এই কমিটিতে ১১ জনের ৩ সদস্য বিএনপির তিন শীর্ষস্থানীয় নেতার ছেলে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ অধিবেশন বিসিবিকে অবহিত করেছেন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে।
বিসিবির ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। কমিটিতে আছেন মির্জা ইয়াসির আব্বাস, যিনি প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে এবং ইসরাফিল খসরু অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরুর ছেলে। রাশনা ইমাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। তামিমের কমিটির ১১ সদস্যের পাঁচজনই চট্টগ্রামের। যে অ্যাডহক কমিটির সদস্য তাঁরা হয়েছেন, বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্রে (২০২৪ সংশোধিত) অবশ্য নির্বাচন আয়োজনে এমন কমিটি করার কথা উল্লেখও নেই।
সংসদ অধিবেশনে আজ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত বলেন, ‘আমরা যদি দেখি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে দখল করা হয়েছে, যেভাবে বিসিবিকে দখল করা হয়েছে, তাতে এটা বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড পরিণত হয়েছে।’ হাসনাত এই কথা বলার সময় টেবিল চাপড়েছেন তাঁর সমমনা সাংসদরা। মুচকি হাসতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
হাসনাতের ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছে। আমরা এখানে কোনো বাপের দোয়া মায়ের দোয়া করি নাই। এখন এতদিন পর্যন্ত শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে। আজকে মাননীয় সদস্যের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটিও আছে।’ কিন্তু অ্যাডহক কমিটিতে তাঁর ছেলেও যে আছেন, সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেননি।
রাজনীতির দুষ্টচক্রে দেশের ক্রিকেট ঘুরপাক খাচ্ছে বহু আগে থেকেই। সেটিরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক অপব্যবহারের সর্বোচ্চ চিত্রই যেন দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘শাম এন্টনি’ বা ভুয়া সত্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সর্বশেষ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় ও বর্তমান অস্থিতিশীলতা কাটাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বুলবুল।
















