গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়ব
এই সংসদ মানুক আর না-মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব, আদায় করেই ছাড়ব বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, যেদিন গণভোটের গণ রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমরা এই কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব, ইনশা আল্লাহ। আমরা আগাতে দেব না।
সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
অতীতের কথা উল্লেখ করে তাঁদের আনা বিল ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বলেছিলাম, চেয়েছিলাম সংসদে অধিকার দিয়ে আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। আমরা জনগণকে নিয়েই দাবি আদায় করব এবং দাবি আদায় হয়েছে। এবারও আমরা চেয়েছিলাম সংসদের ভেতরে ইতিবাচক গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়ে তার অবসান হোক। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হোক। কিন্তু না! এই সংসদ আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি করতে, সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা তাই বলেছি, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য এখন আমরা সংসদ থেকে জনগণের কাছেই ফিরে যাচ্ছি। গত পরশুদিন জনগণকে সাথে নিয়ে প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। এটা শুরু। এর ভেতর দিয়ে ইনশা আল্লাহ যে আন্দোলন গড়ে উঠবে, সেটা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য হবে না। এটা হবে ১৮ কোটি মানুষের জন্য।
বর্তমান সংসদে সদস্য হিসেবে যাঁরা ঢোকার সুযোগ পেয়েছেন বা প্রবেশ করেছেন এদের সবাইকেই ‘মজলুম’ বলে উল্লেখ করে এই বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সংসদ সদস্যের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ কুখ্যাত আয়না ঘরে ছিলেন, কেউ ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসেছেন। আবার এর মধ্যে কেউ নির্বাসন থেকেও দেশে ফিরে এসেছেন। এ রকম লোকদেরকে নিয়েই আমাদের বর্তমান সংসদ। এই সংসদ যদি মজলুম জনগণের দুঃখ না বোঝে, তাহলে কোন দিনের কোন সংসদ বুঝবে? এটি হবে চরম লজ্জার।
৫৪ বছরের দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশি জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ৫৪ বছরের সেই ফ্যাসিবাদকে ২৪-এর বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরে। নালায়-নর্দমায় ফেলে দিয়েছিল। এখন সেই নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায় কারা? মনে রাখা দরকার এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এ প্রজন্ম যখন জেগে উঠে তখন মাসের পর মাস, আর বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তখন ওদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

















