কিশোরগঞ্জে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল
রবিবার (১২এপ্রিল) বিকাল ৫টায় কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার বহন করেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের “গণভোটের রায় অমান্য করা চলবে না”, “জাস্টিস ফর হাদী”, “বিচার বিভাগ স্বাধীন করতে হবে” এবং “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই”সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ঘোষিত দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে নেতারা বলেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত হ্যাঁ ভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান । গণভোটের রায় অমান্য করে জনগনের সাথে প্রতারণা করছে বিএনপি সরকার। জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। নেতৃবৃন্দরা বলেন, গতবারই ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনে জনগণ একই তফসিলের অধীনে একই সাথে জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের রায় দিয়েছে।
জনরায় এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১১ দলের ৭৭ জন প্রতিনিধি দুটি শপথ নিলেও বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে। পরবর্তীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানানো হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে গত ১৫ ই মার্চ ২০২৬ সংসদে লোভ দেখানো সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব দেয়। আমরা বিশ্বাস করি সংবিধানের কাঠামোগত আমল সংস্কার ছাড়া নিছক সংশোধনীতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরন সম্ভব নয়।তাই সরকারের এই গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এর প্রতিবাদে ঐদিন বিরোধীদল থেকে অক আউট করেছে এবং সংসদ ও রাজপথে জনরায় বাস্তবায়নের আপোষহীন লড়াইয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বানও জানান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ থেকে শুরু করে ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৯০ সালের আন্দোলনে ছাত্রদের অবদান বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
তারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে আমরা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, জাগপা সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন, খেলাফত মজলিস নায়েবে আমীর মজিবুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম, , রাজনৈতিক বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক আজিজুল হক, এনসিপি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মোঃ ইকরাম হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ক্বারী মাওলানা নজরুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা আ.ম.ম আব্দুল হক সহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
সমাবেশ থেকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।








