সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

ভ্রমণের জন্য নিরাপদ পাঁচ দেশ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম | 25 বার পড়া হয়েছে
ভ্রমণের জন্য নিরাপদ পাঁচ দেশ

বর্তমান বিশ্বের পর্যটন খাতে বড় পরিবর্তনটি এনেছেন নারীরা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এককভাবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নারীরা এখন এগিয়ে আছে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের বেশি নারীরা কোনো সঙ্গীর অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে পড়ছেন অজানার সন্ধানে। গত পাঁচ বছরে ইন্টারনেটে ‘নারীদের একা ভ্রমণ’ লিখে সার্চ করার হার বিশ্বজুড়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আগ্রহ বাড়লেও নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো নারী ভ্রমণকারীদের জন্য প্রধান চিন্তার কারণ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত একটি জরিপ বলছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ নারী রাতে একা হাঁটার বিষয়টি নিয়ে বেশি শঙ্কিত থাকেন। তবে এই শঙ্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য এখন পর্যাপ্ত তথ্য ও সূচক রয়েছে। ‘জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনডেক্স’ এবং ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’-এর সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে এ বছরের সবচেয়ে নিরাপদ পাঁচটি দেশের তালিকা পাওয়া গেছে। এই তালিকার পাঁচটি দেশের তথ্য রইল এখানে।

কোস্টারিকা: মধ্য আমেরিকার এই দেশ সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সুখী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ডব্লিউপিএস সূচকে দেশটি ৬০তম থেকে ৩৪তম স্থানে উঠে এসেছে। কোস্টারিকার শান্ত তেরেসার মতো উপকূলীয় শহরগুলো নারী ভ্রমণকারীদের জন্য একা ঘুরে বেড়ানোর দারুণ জায়গা। এখানে সার্ফিং বা যোগব্যায়ামের ক্লাসে খুব সহজেই স্থানীয় এবং অন্য পর্যটকদের সঙ্গে মেলামেশা করা যায়।

এস্তোনিয়া: ইউরোপের এই দেশ নারীর নিরাপত্তা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বিস্ময়কর উন্নতি করেছে। বর্তমানে এটি ডব্লিউপিএস সূচকে ১১তম স্থানে রয়েছে। রাজধানী তালিনের প্রাচীন স্থাপনা এবং তাবাসালু ন্যাশনাল পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। এখানকার লো ক্রাইম রেট বা অপরাধের নিম্ন হার নারীদের একক ভ্রমণে স্বস্তি দেয়।

ভিয়েতনাম: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম নারীদের একক ভ্রমণের জন্য নিরাপদ। এখানকার স্ট্রিট ফুড কালচার পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় বিষয়। তা ছাড়া ক্যাফেগুলোতে বসে খুব সহজে মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা যায়। বিশেষ করে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় হাইকিং করা বা মেকং ডেলটার মতো অঞ্চলে হোমস্টে-তে থাকা একজন ভ্রমণকারীকে স্থানীয় সংস্কৃতির আরও গভীরে নিয়ে যায়।

উরুগুয়ে: নিরাপত্তা ও ন্যায়ের মানদণ্ডে উরুগুয়ে এ বছর ব্যাপক উন্নতি করেছে। দেশটির ব্যারিও হিস্টোরিকো বা ঐতিহাসিক গলিগুলো পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানকার জীবনযাত্রা অনেক বেশি ধীরস্থির এবং মানুষ অত্যন্ত বন্ধুসুলভ। উরুগুয়ের কার্নিভালের জাঁকজমকও একা একা ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের জন্য বেশ উপভোগ্য।

নরওয়ে: নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের ক্ষেত্রে নরওয়ে সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। আর্কটিক ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে আরোরা পোলারিস বা উত্তরের আলো দেখা—সবকিছুই এখানে সম্ভব কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি ছাড়াই। এমনকি রাতে একাকী আকাশ দেখার সময় বা ফটোগ্রাফি করার সময়ও এখানকার নারীরা নিজেদের নিরাপদ বোধ করেন।

একা ভ্রমণের আগে জেনে নিন

একা ভ্রমণ একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলে। এটি নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে। একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় গাইড বা হোমস্টে বেছে নেওয়া, গ্রুপ অ্যাক্টিভিটিতে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখা নিরাপদ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য সহায়ক।

একা ভ্রমণে হোস্টেলে থাকা অনেক নারী পর্যটকের কাছে ভয়ের মনে হতে পারে। কিন্তু নতুন বন্ধু তৈরির জন্য এটি সেরা জায়গা। হোস্টেলের সামাজিক পরিবেশ আপনাকে অন্য একা একা ঘুরে বেড়ানো নারী ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে আপনি যেমন শিখতে পারবেন, তেমনি একাকিত্বের অনুভূতিও দূর হবে।

অনেকের মতে, একা ভ্রমণের একঘেয়ে অংশ হলো একা খাওয়া। হোস্টেলে কোনো গ্রুপ ডিনার বা ব্রেকফাস্টিংয়ের আয়োজন থাকলে তাতে অংশ নিন। অন্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে রেস্তোরাঁয় যেতে পারেন। মনে রাখবেন, খাবার মানুষকে খুব দ্রুত কাছাকাছি নিয়ে আসে।

কম জিনিস সঙ্গে রাখলে খরচ যেমন বাঁচে, তেমনি মালামাল হারানোর ঝুঁকিও কমে। বড় স্যুটকেসের বদলে একটি ভালো মানের ব্যাকপ্যাক ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে করে ট্রেন, বাস বা ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করা অনেক সহজ হবে।

আপনার দিনের প্রতিটি মিনিট রুটিনমাফিক না চালিয়ে কিছুটা নমনীয় রাখুন। মূল গন্তব্য ঠিক রেখে বাকি সময়টা পরিস্থিতির ওপর ছেড়ে দিন। তবে খেয়াল রাখবেন, স্বতঃস্ফূর্ত হতে গিয়ে যেন বড় কোনো ঝুঁকির মুখে না পড়েন।

কোনো দেশে যাওয়ার আগে তাদের সংস্কৃতি, পোশাক-আশাকের রীতি এবং শিষ্টাচার সম্পর্কে পড়াশোনা করে নিন। দোকানে দামাদামি করা কি তাদের রীতি? টিপস দেওয়া কি সেখানে বাধ্যতামূলক? নির্দিষ্ট কোনো স্থানে কি বিশেষ ধরনের পোশাক পরা জরুরি? এই বিষয়গুলো আগেভাগে জানলে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

আপনার অভিজ্ঞতার কথা ডায়েরিতে লিখে রাখুন এবং প্রচুর ছবি তুলুন। দীর্ঘ পথচলা বা ফ্লাইটের সময় ডায়েরি লেখা চমৎকার একটি কাজ হতে পারে।

স্থানীয় মানুষজন তথ্যের সেরা উৎস। তারা আপনাকে বলতে পারবে কোন এলাকা নিরাপদ বা কোথায় সেরা খাবার পাওয়া যায়। তবে অপরিচিত কাউকে কখনোই বলবেন না আপনি কোথায় থাকছেন। কেউ অতিরিক্ত প্রশ্ন করলে তাকে তথ্য দিতে আপনি বাধ্য নন; সব সময় নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা ইন্সটিংক্ট-কে গুরুত্ব দিন। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার বর্তমান অবস্থান সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট করা এড়িয়ে চলুন।

আপনার চারপাশে কী ঘটছে সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনার পেছনে কে হাঁটছে বা আশপাশের মানুষ কী বলাবলি করছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে স্থানীয় ভাষার কিছু সাধারণ শব্দ শিখে নিতে পারেন, যা বিপদে বা প্রয়োজনে সাহায্য করবে।

ভ্রমণকালে সব সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে না থেকে চারপাশের দৃশ্য, শব্দ আর ঘ্রাণ অনুভব করুন। মানুষ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে বা তাদের জীবনধারা কেমন, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করুন। এটি আপনার ভ্রমণকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

ভ্রমণে অনেক সময় পরিস্থিতি আপনার পরিকল্পনার বাইরে চলে যেতে পারে। ছোটখাটো সমস্যা হলে ভেঙে না পড়ে তা সমাধানের চেষ্টা করুন এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। কোনো একজন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা ছোট কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আপনার পুরো ভ্রমণের আনন্দ মাটি না করে দেয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

সূত্র: বিবিসি

কিশোরগঞ্জে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল

.এস.এম হামিদ হাসান কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি: প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম
কিশোরগঞ্জে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল

 

রবিবার (১২এপ্রিল) বিকাল ৫টায় কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার বহন করেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের “গণভোটের রায় অমান্য করা চলবে না”, “জাস্টিস ফর হাদী”, “বিচার বিভাগ স্বাধীন করতে হবে” এবং “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই”সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ঘোষিত দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচিতে নেতারা বলেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত হ্যাঁ ভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান । গণভোটের রায় অমান্য করে জনগনের সাথে প্রতারণা করছে বিএনপি সরকার। জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হ‌ওয়ার আহ্বান জানান তারা। নেতৃবৃন্দরা বলেন, গতবারই ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনে জনগণ একই তফসিলের অধীনে একই সাথে জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের রায় দিয়েছে।

জনরায় এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১১ দলের ৭৭ জন প্রতিনিধি দুটি শপথ নিলেও বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে। পরবর্তীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানানো হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে গত ১৫ ই মার্চ ২০২৬ সংসদে লোভ দেখানো সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব দেয়। আমরা বিশ্বাস করি সংবিধানের কাঠামোগত আমল সংস্কার ছাড়া নিছক সংশোধনীতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরন সম্ভব নয়।তাই সরকারের এই গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এর প্রতিবাদে ঐদিন বিরোধীদল থেকে অক আউট করেছে এবং সংসদ ও রাজপথে জনরায় বাস্তবায়নের আপোষহীন লড়াইয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বানও জানান।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ থেকে শুরু করে ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৯০ সালের আন্দোলনে ছাত্রদের অবদান বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

তারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে আমরা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।

এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, জাগপা সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন, খেলাফত মজলিস নায়েবে আমীর মজিবুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম, , রাজনৈতিক বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক আজিজুল হক, এনসিপি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মোঃ ইকরাম হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ক্বারী মাওলানা নজরুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা আ.ম.ম আব্দুল হক সহ অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশ থেকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সংগীত জগত শোকে মুহ্যমান

লুতুব আলি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সংগীত জগত শোকে মুহ্যমান

ভারতের সংগীতের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা আশা ভোঁসলে শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ১২ এপ্রিল। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ গোটা উপমহাদেশ। আট দশক ধরে যে কন্ঠ কোটি হৃদয়ের স্পন্দন তুলেছে, আজ সেই কন্ঠ চিরতরে থেমে গেল। আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৯৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে। জন্ম নাম আশা মঙ্গেশকর। বাবা ছিলেন প্রখ্যাত নাট্য শিল্পী ও শাস্ত্রীয় সংগীত দিনোনাথ মঙ্গেশকর। মা সেবন্তী মঙ্গেশকর ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু সংগীতের আবহেই সংসার গড়েছিলেন। দিনোনাথ মঙ্গেশকর মারাঠি থিয়েটারের কিংবদন্তি এবং গোয়ালিয়র ঘরানার শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই মঙ্গেশকর পরিবারের পাঁচ ভাই বোনের সঙ্গীতে হাতে খড়ি। বাবা দীননাথের অকাল প্রয়াণে মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহারা হন আশা। তারপর থেকেই বড় দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাঁধে কানস মিলিয়ে সংসারের হাল ধরে। মঙ্গেশকর পরিবার ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এক বিরল অধ্যায়। বড়দিদি লতা মঙ্গেশকর ভারতের নাইটেঙ্গেল। ভারতরত্ন সম্মান প্রাপ্ত। ছোট বোন ঊষা মঙ্গেশকর প্লেব্যাক ও ভক্তি গীতির জনপ্রিয় শিল্পী। আর এক বোন মিনা খাদিকর মারাঠি ও হিন্দি গানের জনপ্রিয় শিল্পী। একমাত্র ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর প্রখ্যাত সুরকার ও গায়ক। এই পরিবার থেকে ভারত পেয়েছে শাস্ত্রীয়, ভজন, গজল, ভাব সংগীত থেকে শুরু করে আধুনিক প্লেব্যাক সমস্ত ঘরানার দিকপাল। আশা ভোঁসলে ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে সম্রাজ্ঞী হয়েছেন। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি মাঝা বাল দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে প্লেব্যাক শুরু। হিন্দিতে প্রথম গান ১৯৪৮ সালে চুনারিয়া ছবিতে। পঞ্চাশের দশকে ওপি নায়ারের সুরে মাঙ্গ কে সাথ তুমহারা, আই ইয়ে মেহেরবান, ইয়ে হাই বোম্বে মেরি জান, তাঁকে ক্যাবারে কুইন বানায়। ৭০ থেকে ৮০ দশকে স্বামী রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দম মারো দম, পিয়া তু আব তো আজা, চুরালিয়া হাই তুমনে, মেরা কুছ সামান উপহার দেন। গজল, কাওয়ালী, পপ, ফোক, ডিস্কো সহ কুড়িটিরও বেশি ভাষায় বারো হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বয় জর্জ, বয়জোন, মাইকেল স্টাইকের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে ৯০ বছর বয়সেও দুবাইয়ে লাইভ কনসার্ট করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ২০০০ সালে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ পান ২০০৮ সালে। শ্রেষ্ঠ নারী প্লেয়ার গায়িকা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান দুইবার। সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। পরে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট নিয়ে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। গ্র্যামি মনোনয়ন দুইবার। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য , পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্য তিনি ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন। আশা ভোঁসলের পুত্র আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর সংবাদ মাধ্যমকে জানান। যদিও এর আগে আশা ভোঁসলের মৃত্যুর ব্যাপারে ভুয়া খবর পরিবেশিত হয়েছিল। আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক্স হ্যান্ডেল এ লিখেছেন, আশা ভোঁসলে অসাধারণ সংগীত যাত্রা দশকের পর দর্শক আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কন্ঠে ছিল চিরন্তন দীপ্তি। আত্মা হোক বা প্রাণবন্ত কম্পোজিশন সবেতেই তিনি অতুলনীয় ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, অসংখ্য বাংলা গান গেয়ে আশা ভোঁসলে বাংলাকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপিত করেছেন। বাংলার সঙ্গে তাঁর নিবিড় টান ছিল। এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল, সনু নিগম, শংকর মহাদেবন সহ অগণিত শিল্পী। শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রেটলিও শোক প্রকাশ করেছেন। ব্রেট লি ২০০৭ সালে তাঁর সঙ্গে ইউ আর দি ওয়ান ফর মি গান করেছিলেন। আশা ভোঁসলে শুধু গায়িকা ছিলেন না, তিনি নিজেই এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের আলাদা সাম্রাজ্য গড়া, পুরুষতান্ত্রিক ইন্ডাস্ট্রিতে সাহসী গান গাওয়া, ৯০ বছর বয়সেও মঞ্চ কাপানো সবেতেই তিনি ছিলেন এক অনন্যা। পিয়া তু, দম মারো দম, চুরা লিয়া, দিল চিজ কয়া হাই, এই গানগুলি যতদিন বাজবে, যতদিন কোন নায়িকা পর্দায় ঠোঁট মেলাবে, যতদিন কোন কিশোরী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার গান গাইবে-আশা ভোঁসলে ততদিন পৃথিবীর বুকে অমর হয়ে থাকবেন, চিরন্তন হয়ে থাকবেন।

লামা রূপসীপাড়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বললেন সাবেক মেম্বার বারেক

(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:- মোঃ নুরুল আলম) প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩১ এএম
লামা রূপসীপাড়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বললেন সাবেক মেম্বার বারেক

 

আজ ১২ ই এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি রোজ রবিবার। রূপসীপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ – বললেন সাবেক মেম্বার বারেক
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী পাড়া ইউনিয়নের দরদরী এলাকায় অবস্থিত একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আব্দুল বারেক সরকারি ওই জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা ও নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত জমির একটি অংশে সম্প্রতি বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জমি দখল হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল বারেক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট”। তিনি দাবি করেন, আমি কোনো সরকারি জমি দখল করিনি। আমি যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছি, তার অর্ধেক আমার নিজস্ব খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এবং বাকি অংশ পিংকিনু মার্রমার নামীয় ব্যক্তির মালিকানাধীন।”

error: Content is protected !!