রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

মেহেদী হাসান রিপন

যশোরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম | 66 বার পড়া হয়েছে
যশোরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ

যশোরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ। আগামী ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণ করে নিতে সকাল সাড়ে আটটায় টাউন হল ময়দান থেকে জাতীয় সঙ্গীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি টাউন হল মাঠ থেকে শুরু হয়ে কালেক্টরেট মার্কেটের সামনের গেট দিয়ে বের হয়ে দড়াটানা চিত্রামোড় চৌরাস্তা কোতোয়ালী থানার সামনে দিয়ে বিবর্তণ ও কিংশুকের সামনে দিয়ে মাইকপট্টি হয়ে টাউন হল মাঠে গিয়ে শেষ হবে।

বুধবার বেলা এগারটায় যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভাকক্ষে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এ সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, শোভাযাত্রায় মুখ ঢাকা মুখোশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে মুখোশের প্রতিকৃতি হাতে বা প্লাকার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। যশোরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এ সব সংগঠনকে যশোর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে। নিরাপত্তা বিষয়ে অনুষ্ঠান করার আগে থেকে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে এবং সন্ধ্যার আগে সব ধরণের অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে।

সভায় যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “যশোরে বরাবরই নান্দনিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। তবে নতুন সরকারের নতুন নববর্ষকে আমরা আরো আনন্দঘন, উৎসবমূখর ও বর্ণিল আয়োজনে করতে চাই।” আবহমান বাংলার চিরাচরিত রূপ শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি সবাইকে উদাত্ত আহবান জানান।

যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নানা প্রস্তুতি নেয়। তাদের পাশে থেকে উৎসাহ প্রদানের জন্য যারা অনুষ্ঠান আয়োজন করছে, এমন প্রতিটি সংগঠনকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, শোভাযাত্রা ও বৈশাখের সকল অনুষ্ঠান আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে মাঠে থাকবে পুলিশ বিভাগ। যানজট নিরসনসহ নিরাপত্তা প্রদানের সব ধরণের সহায়তা করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সব সংগঠনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক ও যশোর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, সাংস্কৃতিক নেতা সানোয়ার আলম খান দুলু, দীপংকর দাস রতন, কাজী মামুনুর রশীদ, দেওয়ান মোর্শেদ আলম ও আনিসুজ্জামান পিন্টু প্রমুখ।

বৈশাখের তপ্ত রোদ আর ঘাম সইতে আপনার ত্বক তৈরি তো?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৮ পিএম
বৈশাখের তপ্ত রোদ আর ঘাম সইতে আপনার ত্বক তৈরি তো?

সামনেই আসছে খরতপ্ত গরম। আর তার হাত ধরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। উৎসবের দিনটিতে উজ্জ্বল ও সতেজ থাকতে আমরা কত কী-ই না করি! কিন্তু রোদে পোড়া ভাব, ঘাম আর তৈলাক্ত ত্বকের বিড়ম্বনায় উৎসবের আনন্দ মাটি হতে কতক্ষণ? অথচ আমাদের হাতের কাছেই, রান্নাঘরের চালের গুঁড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজার বছরের এশীয় রূপচর্চার রহস্য। চীন, জাপান বা কোরিয়ার নারীদের কাচের মতো স্বচ্ছ ত্বকের পেছনে এই চালের গুঁড়ার ভূমিকা কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সাধারণ রূপচর্চা আর ‘স্মার্ট’ রূপচর্চার মধ্যে পার্থক্য আছে।

কেন চালের গুঁড়া

গরমকালে ত্বকের প্রধান শত্রু হলো অতিরিক্ত তেল বা সিবাম এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। চালের গুঁড়ার প্রধান উপাদান হলো ‘স্টার্চ’, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল না কমিয়েই অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব শুষে নেয়। এ ছাড়া এতে থাকা ফেরুলিক অ্যাসিড এবং ফাইটিক অ্যাসিড ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে এবং রোদে পোড়া দাগ কমাতে সাহায্য করে। যদিও অনেকে মনে করেন, চালের গুঁড়া সরাসরি সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি রোদ আটকাতে না পারলেও রোদে পোড়া ত্বকের প্রদাহ কমাতে অতুলনীয়। এতে থাকা অ্যালানটোইন ত্বকের যেকোনো লালচে ভাব বা ইরিটেশন কমিয়ে প্রশান্তি দেয়। বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে নয়, বরং নিজের ত্বকের ভাষা বুঝে প্রাকৃতিকভাবে যত্ন নিন। পয়লা বৈশাখের উৎসবে রোদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আপনার ত্বকও হাসুক প্রাণবন্ত আভা নিয়ে। এই গরমে ঘরোয়া টোটকাতেই খুঁজে নিন আপনার সেরা রূপ।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী বৈশাখী ফেসপ্যাক

গরমের এই সময়ে কেবল চালের গুঁড়া ঘষলেই হবে না, বরং আপনার ত্বকের প্রয়োজন বুঝে প্যাক তৈরি করতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

যাদের মুখ কিছুক্ষণ পরপরই তেলতেলে হয়ে যায়, তারা ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি এবং পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ১০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বৈশাখের প্রচণ্ড গরমেও আপনার ত্বক থাকবে ম্যাট ও ফ্রেশ।

রোদে পোড়া দাগ বা ট্যান দূর করতে

উৎসবের সকালে ত্বকে প্রাকৃতিক আভা আনতে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং দুধ বা টক দই মিশিয়ে নিন। এই প্যাক ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে নিমেষেই উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে।

খেয়াল রাখবেন, গুঁড়ো যেন একদম মিহি হয়। সব সময় হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন এবং সপ্তাহে দুইবারের বেশি স্ক্রাবিং করবেন না। ছবি: পেক্সেলস
খেয়াল রাখবেন, গুঁড়ো যেন একদম মিহি হয়। সব সময় হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন এবং সপ্তাহে দুইবারের বেশি স্ক্রাবিং করবেন না। ছবি: পেক্সেলস

সংবেদনশীল বা সেনসিটিভ ত্বকের জন্য

রোদ থেকে আসার পর যদি ত্বক জ্বালাপোড়া করে, তবে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন। টক দইয়ের কুলিং ইফেক্ট আর চালের গুঁড়ার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বককে শান্ত করবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য

১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু এবং অল্প একটু চটকানো অ্যাভোকাডো বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এটি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করার পাশাপাশি আর্দ্রতাও বজায় রাখবে।

স্ক্রাবিংয়ে সতর্কতা

চালের গুঁড়া একটি চমৎকার ন্যাচারাল এক্সফোলিয়েটর। তবে খেয়াল রাখবেন, গুঁড়া যেন একদম মিহি হয়। খুব বেশি দানাদার গুঁড়া দিয়ে জোরে ঘষলে ত্বকের টিস্যুতে সূক্ষ্ম আঁচড় পড়তে পারে। তাই সব সময় হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন এবং সপ্তাহে দুবারের বেশি স্ক্রাবিং করবেন না।

সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ শর্টস

দুঃস্বপ্নে ঘুম হচ্ছে না?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
দুঃস্বপ্নে ঘুম হচ্ছে না?

গভীর রাত। হঠাৎ ঘামতে ঘামতে আপনার ঘুম ভেঙে গেল, বুক ধড়ফড় করছে, মনে হচ্ছে কেউ যেন আপনাকে তাড়া করছিল। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলেন, আপনি দুঃস্বপ্ন দেখেছেন! কিন্তু সমস্যাটা তখনই শুরু হয়, যখন এই ‘ভয়ংকর স্বপ্ন’ আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নেয় এবং দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ খারাপ স্বপ্ন আর নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারের মধ্যে এক সূক্ষ্ম কিন্তু ভয়ংকর দেয়াল আছে। বিষয়টি হয়তো আমরা অনেকে জানি না।

সাধারণ দুঃস্বপ্ন নাকি মস্তিষ্কের সংকেত

আমরা সবাই মাঝেসাঝে খারাপ স্বপ্ন দেখি। কিন্তু যদি এই দুঃস্বপ্ন প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বা তার বেশি দেখেন এবং আপনার মনে ভীতি জাগিয়ে তোলে ‘ঘুমালেই আবার ওই দৃশ্য দেখব’, তাহলে আপনার হয়তো নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডার হওয়ার আশঙ্কা আছে। এটি শুধু একটি ‘খারাপ স্বপ্ন’ নয়, বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য প্যারাসমনিয়া বা স্লিপ ডিসঅর্ডার। গবেষণা বলছে, আমেরিকার ২ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় জর্জরিত; বিশেষ করে যারা পিটিএসডি, বিষণ্নতা বা সামাজিক ভীতিতে ভোগে, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

ভয়ের কথা স্মরণ করা

আমাদের মস্তিষ্ক সারা দিনের ভয়ংকর বা নেতিবাচক স্মৃতিগুলোকে ঘুমের মধ্যে প্রসেস করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেয়। একে বলে ফিয়ার এক্সটিংশন। কিন্তু নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারে এই প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে মস্তিষ্ক সেই ভয়ংকর স্মৃতিগুলোকেই বারবার জীবন্ত করে তোলে। এটি অনেকটা একটি আটকে যাওয়া রেকর্ডের মতো, যা বারবার একই ভয়ংকর সুর বেজে চলেছে।

লক্ষণগুলো চিনুন

নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারের দুঃস্বপ্নগুলো সাধারণত ঘুমের দ্বিতীয় ভাগে ঘটে। এর লক্ষণগুলো শুধু মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দেখে নিন সেগুলো—

  • ঘুম থেকে ওঠার পর প্রচণ্ড ঘাম হওয়া এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
  • স্বপ্নের প্রতিটি ডিটেইল স্পষ্ট মনে থাকা।
  • দিনের বেলা ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে অমনোযোগ দেখা দেওয়া।
  • আবার ঘুমাতে যাওয়ার প্রতি একধরনের অনীহা বা আতঙ্ক তৈরি হওয়া।
দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তির পথ

অনেকে মনে করেন, ওষুধই এর একমাত্র সমাধান। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। ‘ইমেজারি রিহার্সাল থেরাপি’ বর্তমানে এর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ইমেজারি রিহার্সাল থেরাপি অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্য বদলে দেওয়ার মতো। আপনি আপনার দুঃস্বপ্নটি লিখবেন, কিন্তু এর শেষটা বদলে দেবেন একটি সুন্দর বা ইতিবাচক পরিণতি দিয়ে। প্রতিদিন জেগে থাকা অবস্থায় এই নতুন স্ক্রিপ্ট মনে মনে রিহার্সাল করলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে দুঃস্বপ্নটিকে ওভাবেই গ্রহণ করতে শুরু করে।

স্লিপ হাইজিন মেনে চলুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ রাখুন। অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা মস্তিষ্ক শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

শিশুর দুঃস্বপ্নকে উড়িয়ে দেবেন না

৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের মধ্যে দুঃস্বপ্ন খুব সাধারণ। অনেক অভিভাবক এটাকে ‘ভূত-প্রেতের গল্প’ বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু মনে রাখবেন, শিশুর কাছে সেই ভয়টি বাস্তব। তাকে আশ্বস্ত করুন, সে নিরাপদ আছে। তার ঘরে একটি হালকা নাইটলাইট জ্বালিয়ে রাখা বা তার প্রিয় কোনো খেলনা সঙ্গে রাখা তাকে মানসিক নিরাপত্তা দিতে পারে।

দুঃস্বপ্ন মানেই ভয় নয়

দুঃস্বপ্ন অনেক সময় আমাদের অবদমিত আবেগ বা মানসিক চাপের প্রতিফলন। একে ভয় না পেয়ে বরং মূল কারণ খোঁজা জরুরি। যদি আপনার দুঃস্বপ্ন আপনার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ কেড়ে নেয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার মস্তিষ্ক সাহায্য চাইছে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং সঠিক থেরাপির মাধ্যমে আপনি আপনার রাতের সেই হারানো শান্তি পুনরায় ফিরে পেতে পারেন। মনে রাখবেন, অন্ধকার যত গভীরই হোক, সকালের আলোয় তার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।

সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

ওজন কমাতে ট্রাই করুন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৪ পিএম
ওজন কমাতে ট্রাই করুন

ওজন কমানোর কথা ভাবলেই আমাদের মাথায় আসে রং-বেরঙের সালাদ, বিদেশি ফল আর নিত্যনতুন ডায়েটের লম্বা তালিকা। আমরা ভাবি, খাবারে যত বৈচিত্র্য থাকবে, ডায়েট তত আকর্ষণীয় হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই চিরচেনা ধারণাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ওজন কমানোর রহস্য হয়তো নতুন কিছুতে নয়; বরং একই খাবারে লুকিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন রুটিন ইটিং। অর্থাৎ প্রতিদিন যদি আপনি নির্দিষ্ট কিছু খাবার বারবার খান, তবে ওজন কমার গতি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

কেন একই খাবার বারবার খাওয়া কার্যকর

হেলথ সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় ১১২ জন স্থূলকায় ব্যক্তির ওপর ১২ সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। সেখানে এই চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। যাঁরা প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণ একই মাত্রায় স্থিতিশীল রেখেছিলেন এবং একই ধরনের খাবার বারবার খেয়েছেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে ১.৬ শতাংশ বেশি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন। এর পেছনে কাজ করে মূলত তিনটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ:

ডিসিশন ফ্যাটিগ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্লান্তি: ‘আজ সকালে কী খাব?’, ‘দুপুরে কী রান্না হবে?’ এ প্রশ্নগুলো আমাদের মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। যখন আমরা অনেক অপশন পাই, তখন ভুল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। একই খাবার খেলে এই বাড়তি মানসিক চাপ দূর হয় এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসটি স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক হয়ে যায়।

ক্যালরি স্থিতিশীলতা: প্রতিদিন ক্যালরির ওঠানামা কমানো গেলে শরীর মেটাবলিজম বা বিপাকপ্রক্রিয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের ক্যালরি মাত্রায় সামান্য ১০০ ক্যালরি হেরফের হলেও ওজন কমার হার প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে যায়।

অটোমেশন বনাম সেলফ-কন্ট্রোল: আধুনিক যুগে ডায়েট কন্ট্রোল করা মানেই নিজের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে একধরনের যুদ্ধ। কিন্তু যখন আপনার ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চ ফিক্সড থাকে, তখন আর সে যুদ্ধের প্রয়োজন পড়ে না।

প্রতিদিন ক্যালরির ওঠানামা কমানো গেলে শরীর মেটাবলিজম বা বিপাকপ্রক্রিয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। ছবি: পেক্সেলস
প্রতিদিন ক্যালরির ওঠানামা কমানো গেলে শরীর মেটাবলিজম বা বিপাকপ্রক্রিয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

একঘেয়েমি যেন বিপদ না হয়

তবে এই ‘একই খাবার’ ফর্মুলা নিয়ে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদ ক্রিস্টিন কার্কপ্যাট্রিক। তাঁর মতে, আপনি যদি প্রতিদিন একই খাবার খান, তবে নিশ্চিত করতে হবে সে খাবারটি পুষ্টিগুণে ভরপুর কি না। যদি সেই খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন বা মিনারেল না থাকে, তবে প্রতিদিন সেই একই খাবার আপনার শরীরে বড় ধরনের পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

কীভাবে শুরু করবেন?

হুট করে দিনে তিনবেলা একই খাবার খাওয়া শুরু করা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা কিছু কৌশল সাজেস্ট করেছেন:

একটি মিল দিয়ে শুরু করুন: শুরুতে কেবল ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চটি প্রতিদিন একই রাখুন। যেমন প্রতিদিন সকালে ওটস বা ডিম-পাউরুটির নির্দিষ্ট কোনো মিল।

২০-৩০টি প্রিয় খাবারের তালিকা: বেশির ভাগ মানুষ সপ্তাহজুড়ে ঘুরেফিরে ২০-৩০টি খাবারই খায়। সেখান থেকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো বেছে নিয়ে আপনার সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি করুন।

ব্যক্তিগত ডায়েট প্ল্যান: মনে রাখবেন, একজনের জন্য যা কার্যকর, অন্যের জন্য তা নাও হতে পারে। তাই এ ফর্মুলা শুরু করার আগে পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নিজের শরীর অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করা জরুরি।

ওজন কমানো মানেই খাবারের সঙ্গে নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়; বরং কিছু কার্যকর ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে স্থির থাকাটাই আসল। আপনি যদি প্রতিদিনের খাবারের ‘অপশন’ কমিয়ে আনেন, তবে আপনার ওজন কমানোর লক্ষ্যটি অনেক বেশি সহজ এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই জাঁকজমকপূর্ণ ডায়েট চার্ট বাদ দিয়ে এবার বরং একই খাবার প্রতিদিন এই সহজ ফর্মুলায় একবার ভরসা করে দেখতেই পারেন।

সূত্র: হেলথ লাইন, ফক্স নিউজ

error: Content is protected !!