পোলা তো নয় যেন আগুনের গোলা—নাহিদ রানার বোলিং দেখে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজের এই গান অনেকের মনে পড়তেই পারে। উচ্চগতির পাশাপাশি লেংথের পরিবর্তন ও নিচের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে বাউন্সারে ব্যাটারদের ঘায়েল করতে ওস্তাদ রানা। বাংলাদেশের এই গতিতারকাকে ট্রাম্পকার্ড মনে করেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ জয়ে নাহিদ রানা অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর আগুনে বোলিংয়ে চোখে রীতিমতো সর্ষেফুল দেখেছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরা। যার মধ্যে প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছেন। ক্যারিয়ারসেরা ওয়ানডে বোলিংয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন।
সিমন্সের মতে রানার মতো পেসার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘নাহিদ রানার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই তার ওয়ার্কলোড এবং অন্যান্য বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। সে আমাদের অন্যতম ট্রাম্প কার্ড এবং তাকে আগলে রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যখনই সে মাঠে নামবে, যেন বাংলাদেশের জন্য নিজের সেরাটা দিতে পারে।’
পাকিস্তান সিরিজের পর পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) কাঁপিয়ে এসেছেন রানা। পেশোয়ার জালমির হয়ে ৪ ম্যাচে ৫.৪২ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৭ উইকেট। যার মধ্যে এক ম্যাচে ৪ ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে। আজ সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টারের কাছে এসেছে নাহিদ রানাকে নিয়ে প্রশ্ন। উত্তরে কিউই কোচ বলেন, ‘শুরুতেই বলতে হয় সে একজন চমৎকার ফাস্ট বোলার। আমার মতে কন্ডিশন তাকে সাহায্য করবে। বাংলাদেশে একজন পেসারকে খেলতে দেখাটা দারুণ ব্যাপার। তার সামর্থ্যকে ছোট করে দেখছি না। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলারকে মোকাবিলা করার মতো দক্ষতা অর্জন করা এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে নিজেদের প্রস্তুত রাখাই আসল কথা।’
পেস আক্রমণে নাহিদ রানার সঙ্গে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদরা। বাংলাদেশের পেসারদের প্রশংসায় ভাসিয়ে নিউজিল্যান্ড কোচ ওয়াল্টার বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, তার (রানা) পাশাপাশি আরও কয়েকজন ভালো পেসার আছে। কিন্তু আমাদের জন্য পেসারদের মোকাবিলা করা নতুন কিছু নয়। আমাদেরও পেসার আছে। কিন্তু আবারও বলছি, সবকিছু নির্ভর করে একটা নির্দিষ্ট দিনের ওপর।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ খেলেছে ফ্লাডলাইটের আলোয়। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজও দিবারাত্রির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ বাঁচাতে সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় শুরু হবে তিনটি ওয়ানডে। ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনুশীলনও দিনের আলোয় করছে বাংলাদেশ। সিমন্স বলেন, ‘কিছুটা পার্থক্য তো তৈরি করেই (উইকেটের আচরণ)। দিনের বেলা উইকেটে গ্রিপ ভালো পাওয়া যায়। হয়তো কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। তবে আমাদের অনুশীলন সেশনগুলো সকালেই হচ্ছে। আমরা সেভাবেই নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
মার্চে পাকিস্তান সিরিজে ১৭৫ রান করে সিরিজসেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিমও। যার মধ্যে ১৫ মার্চ সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে পেয়েছেন সিরিজসেরার পুরস্কারও। তবে উদ্বোধনী জুটিতে তাঁর আরেক সঙ্গী সাইফ হাসান রীতিমতো ব্যর্থ। উদ্বোধনী জুটি বারবার বদলানোর পরও বেশির ভাগ সময়ই দ্রুত জুটি ভেঙে যাচ্ছে। তবে সিমন্স এটা নিয়ে চিন্তিত নন। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা এখন অনেকটাই থিতু। কারণ, গত কয়েকটা ম্যাচে আমাদের জুটি ভালো ছিল এবং সাইফ প্রস্তুতি ম্যাচেও দেখিয়েছে যে সে ছন্দে ফিরছে। আপাতত তাই উদ্বোধনী জুটি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’
সাইফ ব্যর্থ হলেও পাকিস্তান সিরিজের দলে থাকা আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার তিনটা ম্যাচ কাটিয়েছেন বেঞ্চে বসে। অথচ ঠিক তার আগের সিরিজে (অক্টোবরে ওয়ানডে সিরিজ) সৌম্য দুর্দান্ত খেলেছেন। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটা ওয়ানডে একই একাদশ নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। সেই সিরিজের দল নিয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।