প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

গামছা পোশাক ও অলংকারে দেশীয় আইকন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। দিনটি ঘিরে কত পরিকল্পনা, কত-না আয়োজন! পরিকল্পনার অনেকটা জুড়েই রয়েছে পোশাক ও বিভিন্ন অনুষঙ্গ। এখন নববর্ষ উৎসবের ফ্যাশনে আইকনে পরিণত হয়েছে গামছা প্রিন্ট বা গামছা ডিজাইনের নকশা করা পোশাক ও অনুষঙ্গ। এ যেন আশ্চর্য সমাপতন।

আজ থেকে তিন শ বছরের বেশি সময় আগে লিখিত কবি নারায়ণ দেবের ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে গামছার উল্লেখ পাওয়া যায়। এ কারণে গামছা যে বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন পোশাক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই প্রাচীন পোশাক কালক্রমে আমাদের নববর্ষ উৎসবের অন্যতম আইকন হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের।

তাই বর্তমান কালের ফ্যাশন ডিজাইনাররা ধন্যবাদ পেতে পারেন। শুধু পোশাকেই নয়, গামছা এবং তার চৌখোপা নকশা এখন ফ্যাশনের বিভিন্ন অনুষঙ্গেও প্রাধান্য পাচ্ছে একেবারে নিজেদের মোটিফ হিসেবে।

নববর্ষে ঝলমলে পোশাক যতই থাকুক, লাল-সাদা জুটির যেন কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু গরমের শুরু এখান থেকেই, তাই নববর্ষের পোশাক যেন সুতিই হয়, সেদিকে মন থাকে সবার। আরামের জন্য সুতি কাপড়ের বিকল্প নেই। তবে সুতির মধ্য়ে বর্তমানে গামছার কাপড় এবং গামছা প্রিন্টের সুতির শাড়ি ও পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কাটিংয়েই শুধু নয়, ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে গামছার কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলো হয়ে উঠছে অনেক বেশি যুগোপযোগী।
মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা
মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা

নববর্ষের সাজে নতুন মাত্রা

ফ্যাশনে প্রতিনিয়ত যোগ হতে থাকে নতুন মাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় এক অনন্য সংযোজন গামছার তৈরি পোশাক। গামছা শুধু শরীর মোছার কাজে ব্যবহারের দিন বহু পেছনে ফেলে এসেছি। বর্তমানে গামছা দিয়ে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ থেকে শুরু করে ওড়না, টপস, শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি—সবই তৈরি হচ্ছে। তরুণ ডিজাইনারদের অনেকে গামছা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন এর বিভিন্ন সুবিধার কারণে। গামছার কাপড় বেশ পাতলা এবং আরামদায়ক। সুতরাং গরম আবহাওয়ায় বেশ আরামদায়ক গামছার তৈরি পোশাক। তাই পয়লা বৈশাখের সারা দিন গামছার পোশাক পরে আরাম

পাওয়া যাবে—এই ভাবনা থেকে অনেকে গামছা প্রিন্টের পোশাক কেনেন। দেশীয় বিভিন্ন উৎসবের পোশাক হিসেবে সহজে মানিয়ে যায় এটি। লাল ও সাদার মিশ্রণে কিংবা যেকোনো রঙে তৈরি গামছার শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া পরতে যেমন আরাম, তেমনি একেবারে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো।

মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা
মডেল: বিথী পোশাক: টাঙ্গাইল শাড়ি হাউস মেকআপ: নিউ রেড। ছবি: হাসান রাজা

গামছার কাপড়ের বাহার

গামছার কাপড়ের নজরকাড়া দিক হলো, এর ব্যতিক্রমী চেক মোটিফ আর ঝলমলে রং। ঐতিহ্যবাহী গামছার এই মৌলিক দুই বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা হচ্ছে এ থেকে তৈরি পোশাকে। তবে পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গামছার কাপড়ের মান স্বাভাবিকভাবে নৈমিত্তিক ব্যবহারের গামছার তুলনায় উন্নত। সেই সঙ্গে আধুনিক প্রজন্মের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে গামছার কাপড়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অনেক ডিজাইনার আবার ভিন্ন ধরনের কাপড়ের সঙ্গে গামছার কাপড় যোগ করে তৈরি করছেন ফিউশন। গামছার পোশাকের ক্ষেত্রেও ফিউশন ধরনের ডিজাইন বেশ জনপ্রিয়। মেয়েদের লেহেঙ্গা কিংবা ছেলেদের ফতুয়া—সবই হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে ফিউশন ডিজাইনে।

গামছা চেকের পোশাক

এখন সুতির পাশাপাশি সিল্ক ও হাফসিল্ক শাড়িতেও গামছার চেক দেখা যায়। তবে তাঁতের শাড়ির মধ্যে গামছার চেক বেশি। অনেকে গামছা কাপড়ের ব্লাউজ ব্যবহার করছেন। কিছু শাড়ির পাড়ে আবার গামছার প্যাচওয়ার্কও করা হচ্ছে ইদানীং। গামছার কুর্তিও রয়েছে। এ ছাড়া কটি, কাফতান, টপস, ফতুয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে গামছার ব্যবহার রয়েছে। ভিন্নতা আনার জন্য কড়ি কিংবা কাঠের তৈরি পুঁতির ব্যবহার করা হচ্ছে এসব পোশাকে। গামছা কিংবা এর ডিজাইনে তৈরি এসব পোশাকে কিছুটা হাতে করা সুতার কাজ দেখা যায়। এসব দিয়ে এখন নারীদের পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের জন্যও তৈরি করা হচ্ছে শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে গামছার ব্লেজার ও কটি। কটিগুলো সাধারণত একরঙা পাঞ্জাবির ওপর পরা হয়।

ছবি: জাদুর বাক্স
ছবি: জাদুর বাক্স

গামছার অলংকার

শুধু পোশাকই নয়, এখন বিভিন্ন অলংকারও তৈরি হয় গামছার নকশাকে কেন্দ্র করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চুড়ি, কানের দুল, নেকলেস, আংটি, হেয়ার স্ট্রিং ইত্যাদি। মূলত গামছার সঙ্গে পুঁতি, মেটাল কিংবা পাথর বা কড়ি বসিয়ে ভ্যালু অ্যাড করে এসব অলংকার তৈরি করা হয়। এককভাবে তো পাওয়া যায়ই, তা ছাড়া এসব অলংকার এখন পাওয়া যায় সেট হিসেবেও।

দরদাম এবং কোথায় পাবেন

গামছার পোশাকের দাম নির্ভর করে ডিজাইন এবং ফ্যাশন হাউসের ওপর। পণ্য ও ধরনভেদে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে এই পোশাক পাওয়া যায়। বিবিআনা, নিপুণ, যাত্রা, টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির, তাঁতি ছাড়াও দেশীয় অনেক ফ্যাশন হাউস গামছার বিভিন্ন ফিউশনধর্মী পোশাক তৈরি করছে।

এ ছাড়া জাদুর বাক্সসহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজেও গামছার কাপড়ে তৈরি পোশাক পাওয়া যায়। গামছার অলংকার পাওয়া যায় ৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক বা দেড় হাজার টাকায়। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস এবং অনলাইন পেজ থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন এসব অলংকার।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন