আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৪ সিরাজগঞ্জ-৩ নারী সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিশাত তাসনীম। তার এই মনোনয়ন প্রত্যাশা ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ সদর) এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
নিশাত তাসনীম একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তৎকালীন থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি এলাকায় নেতৃত্ব, সততা ও জনসেবার জন্য সুনাম অর্জন করেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নিশাত তাসনীমের বাবা ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে পরবর্তীতে বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব ও সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
পরিবারটির দাবি, গত প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে তারা রাজনৈতিক নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রতিকূল পরিবেশে বড় হওয়া নিশাত তাসনীমের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে গভীর রাতে তার বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মনোবলকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে নিশাত তাসনীম বলেন, “আমাদের পরিবার সবসময় মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেছে। দাদা ও বাবার আদর্শকে ধারণ করেই আমি নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। নারীর ক্ষমতায়ন ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা—সব মিলিয়ে নিশাত তাসনীম নারী সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশায় একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ সদর) অঞ্চলে নারী নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে নিশাত তাসনীমের নাম এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

খালিদ হাসান,স্টাফ রিপোর্টার