সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় থানা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ দুর্ধর্ষ আসামি ‘কালা মিয়া’কে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় টানা উত্তেজনা বিরাজ করছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ১০ দিন পার হলেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে কুখ্যাত কালা মিয়া ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে তাকে গ্রেফতারে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথ অভিযান চালালেও ফল মেলেনি—উল্টো অভিযান চলাকালে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ মার্চ শাহ আরফিন এলাকায় চিহ্নিত অপরাধী কালা মিয়াকে গ্রেফতার করতে যায় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল। তাকে আটক করে হাতকড়া পরানোর পরপরই বেপরোয়া হয়ে ওঠে ‘কালা বাহিনী’। সংঘবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র সহযোগীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এএসআই সাগর ও এসআই নোমান। পরে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে কালা মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয় তারা।
ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরতে একাধিক অভিযান চালায়। সর্বশেষ পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয় শাহ আরফিন ও আশপাশের এলাকায়। অভিযানের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এত কিছুর পরও মূল হোতা কালা মিয়া ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে, আসামি ধরতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে উল্টো নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কালা মিয়াকে গ্রেফতার করতে না পেরে তার ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরর্বতীতে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পরিত্যক্ত অবস্থায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ ‘অপারেশন’-এর নামে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করছে। শাহ আরফিন এলাকায় পাথরবিরোধী অভিযানের আড়ালে নিরপরাধ ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে করে পুরো এলাকায় গণগ্রেফতারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রবিবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করে। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। অবিলম্বে কালা মিয়া ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার এবং নিরীহদের মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। কালা মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যৌথ বাহিনীর সহায়তায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
সচেতন মহলের মতে, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই এবং পরবর্তীতে যৌথ অভিযানে গুলি ছোড়ার পরও মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ধরনের সমন্বয় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরীহ মানুষের ওপর হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিয়াজ খান