প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

কর ফাঁকি ফের খতিয়ে দেখছে সরকার

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের বড় শিল্প গ্রুপগুলোর সম্ভাব্য কর ফাঁকির বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করেছে সরকার। আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট মোকাবিলা, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ—এই ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ সামলাতে রাজস্ব আহরণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি বড় শিল্প গ্রুপের কর ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, তা এখন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছুই এখন পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বেক্সিমকো, সামিট, এস আলমসহ কয়েকটি গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল এবং কিছু বকেয়া কর আদায়ও হয়েছিল।

নতুন সরকারের বাজেট প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনীতি খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, ‘একদিকে অর্থনীতিকে উদ্ধার (স্যালভেজ) করতে হবে, অন্যদিকে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এটি একটি থ্রি-ওয়ে চ্যালেঞ্জ।’

এই লক্ষ্য পূরণে ‘রিসোর্স মোবিলাইজেশন’ বা সম্পদ সচ্ছলতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যেতে চায় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে অর্থনীতি সচল রাখতে চায় না, বরং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়। আমরা চাই নীতিগুলো স্থিতিশীল থাকুক।’

চলতি বছর বাংলাদেশের সম্ভাব্য এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বিষয়টি বর্তমানে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) বিবেচনার জন্য যাবে এবং সেখান থেকে অনুমোদনের পর সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন