প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

সিরাজগঞ্জে জব্দ পেট্রোলের হিসাব না মেলায় আজ তদন্ত

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ ওঠে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে। তবে রবিবার (২৯ মার্চ) জব্দ করা পেট্রোল বিক্রির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে সরকারি কোষাগারে।

এদিকে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২ টায় সরেজমিনে তদন্ত কার্য অনুষ্ঠিত হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. নুর নাহার বেগম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চত হওয়া গেছে।
অপরদিকে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েব করা হয়েছে দাবি করে প্রত্যক্ষদর্শী মো. মোরছালিন খান নামে এক যুবক রবিবার (২৯ মার্চ) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অনুলিপি দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয়।
প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিনসাড়া বাজারে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। পরে বিক্রির জন্য খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। সেদিনই জব্দ করা দুই ড্রাম পেট্রোল থেকে এক ড্রাম বিক্রির পর আরেকটি ড্রামের পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ উঠে ইউএনও নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে।
খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী শরিফ ও সুজন বলেন, জব্দকৃত পেট্রোল আমরা দুইজন বিক্রি করে দিয়েছি। ২৫০ লিটারের কিছু কমই হবে, বিক্রি করা হয়েছে। বাকি পেট্রোল ইউএনও নিয়ে গেছেন।
এ দুইজন কর্মচারী আরও বলেন, আমরা শুনেছি মান্নান নগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনে এক ড্রাম তেল বিক্রি করা হয়েছে।
আলমগীর হোসেন ও রিফাত হোসেন নামে মান্নান নগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারী বলেন, জব্দ করা পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রি করা হয়েছে। আমাদের মান্নান নগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশন থেকে জব্দ করা কোন তেল বিক্রি করা হয়নি।
লিখিত অভিযোগ সূত্র বলছে, অভিযোগকারী উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে মো. মোরছালিন খান একজন প্রত্যক্ষদর্শী। জব্দ করা পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রির সময় তিনি সেখানে ছিলেন। দুই ড্রাম পেট্রোলের মধ্যে এক ড্রাম বিক্রি করা হয়। আরেক ড্রাম ইউএনও নুসরাত জাহান নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তখন তিনি (ইউএনও) বলেন ডিসি অফিসের নির্দেশ, “ এক ড্রাম পেট্রোল ফেরত নিয়ে যেতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারি রয়েছেন, তাদের দিতে হবে। ” এ ঘটনার ভিডিও ধারন করেন লিখিত অভিযোগকারী।
রবিবার (২৯ মার্চ) জব্দ করা তেলের আরেকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, “ অটোভ্যানের উপর দুইটি ড্রাম। এক ব্যক্তি ড্রামে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন ড্রাম ভর্তি পেট্রোল আছে কি না। তাকে বলতে শোনা যায়, এই ড্রাম ভরা নাকি। এটা কি নিয়ে যাওয়া হবে। এটা কি ইউএনও সাহেবের খাদ্য !
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজের ছাত্র ও নওগাঁ ইউনিয়নের মাটিয়া গ্রামের আলামিন হোসেনের ছেলে রাসেল বলেন, ইউএনও নুসরাত দুই ড্রাম তেলের মধ্যে এক ড্রাম নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আমরা বাধা দেই। ইউএনওকে বলি, জব্দকৃত সব তেল বিক্রি করে যেতে হবে।
বিনসাড়া বাজারের মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী শাহ আলম মোল্লা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন ইউএনও। অথচ, শুধু জরিমানা আদায়ের রশিদ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত পেট্রোলের কোন কাগজ দেওয়া হয়নি। রাত ১১ দিকে তেলের খালি ড্রাম ফেরত দিয়ে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান দৈনিক উজ্জ্বল বাংলাদেশ কে বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জব্দকৃত দুই ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে ১ লিটার করে জন প্রতি বিক্রি করা হয়েছে। রবিবার সরকারি কোষাগারে জব্দ করা পেট্রোল বিক্রির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগকারী সম্ভাবত পাঁচটার পরে অভিযোগ দিয়েছেন। কালকে হয়তো ডাক ফাইলে পাবো।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন