গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে আসতে পারে। তবে যুদ্ধের এই সময়সীমা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেও স্থলসেনা মোতায়েনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এখনো নীরবতা বজায় রেখেছে হোয়াইট হাউস।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে ফেরার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, মার্কিন অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতাও পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি।’
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এর মেয়াদ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। কত দিন ধরে লড়াই চলবে, কোন কোন ফ্রন্টে যুদ্ধ হবে কিংবা কোন লক্ষ্য অর্জিত হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করবে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস বরাবরই ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের দেওয়া ‘৪ থেকে ৬ সপ্তাহ’ সময়সীমাটিকে প্রশাসনের নতুন অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক সাফল্যের খতিয়ান দিলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হবে কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্বে জল্পনা চললেও ট্রাম্পের পোস্টে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থল যুদ্ধ শুরু হলে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী হতে পারে, যা এড়াতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক 