খুলনা দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের এক উদ্যমী তরুণ রানা দাস, যিনি প্রচলিত চাকরির পথে না হেঁটে বেছে নিয়েছেন কৃষিকে—তাও আবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট কৃষি। সরকারি মুহসিন কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই তরুণ নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়ায় ছোটবেলা থেকেই মাটির সঙ্গে তার ছিল গভীর সম্পর্ক। সেই আগ্রহই পরিণত হয় বাস্তব উদ্যোগে, যখন ২০২৫ সালে তিনি শুরু করেন স্মার্ট কৃষির যাত্রা। মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের মধ্য দিয়ে তার এই পথচলা শুরু হলেও সময়ের সাথে তিনি আধুনিক ও লাভজনক চাষাবাদের দিকে অগ্রসর হন।
বর্তমানে তিনি ১২ শতক জমিতে চাষ করছেন “সাথি প্লাস” জাতের শসা। উন্নত মান, আকর্ষণীয় গঠন এবং সুস্বাদের কারণে এই শসা ইতোমধ্যেই বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে এটি এখন স্মার্ট কৃষকদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খুলনার প্রতিচ্ছবি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রানা দাস বলেন, “একজন স্থানীয় সফল কৃষকের অনুপ্রেরণায় আমি এই পথে যাত্রা শুরু করি। শুরুতে নানা সমালোচনা ছিল, তবে এখন সেই সমালোচনার জায়গায় এসেছে প্রশংসা। আমি বিশ্বাস করি, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে গ্রহণ করলে তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, “স্মার্ট কৃষিতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সেচ দেওয়া, উপযুক্ত সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে আমি এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে চাই এবং নতুনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তার এই কৃষি উদ্যোগে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বঙ্গচাষি-এর অভিজ্ঞ উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি দিঘলিয়া কৃষি অফিস নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে তাকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করছে।
স্থানীয়দের মতে, রানা দাসের মতো শিক্ষিত তরুণদের কৃষিতে সম্পৃক্ততা শুধু ব্যক্তিগত সফলতা নয়, বরং দেশের কৃষিখাতকে আধুনিক ও টেকসই করে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি-খুলনা 