প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ঈশ্বরদী বড়ইচারাই রাইস মিলের বিষাক্ত ছাইয়ে পরিবেশ দূষণ দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মোঃ ওমরফারুক(সানি), স্টাফ রিপোর্টার

রাইস মিলের তুষ ও ঝুট পোড়ানো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং স্তুপ করে রাখা ছাইয়ে অতিষ্ঠ হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বরইচারা এলাকায় মেসার্স বিশ্বাস অটো রাইস মিলের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মিল থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ ও জনভোগান্তির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. জিল্লু বিশ্বাস ও তার ভাই সামসুল বিশ্বাস মিলের কার্যক্রম পরিচালনায় তুষ ও ঝুট পোড়াচ্ছেন। এতে উৎপন্ন কালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে মিলের পাশে সড়কের ধারে ফেলে রাখা ছাই বাতাসে উড়ে পথচারী ও আশপাশের বসতবাড়িতে গিয়ে পড়ছে। এতে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা এবং বসতবাড়ির চালা ও খাবারের ওপরও ছাই জমে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
‎
‎এ পরিস্থিতিতে ভোগান্তির কথা জানাতে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর শুক্রবার রাতে মামুন মন্ডলসহ এলাকার কয়েকজন মিলটিতে গিয়ে ছাই বাইরে না ফেলার জন্য মিল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
‎
‎এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মিল কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাটিকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এর প্রতিবাদ এবং ধোঁয়া ও ছাইয়ের দূষণ থেকে পরিত্রাণের দাবিতে রবিবার মিলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
‎
‎বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, জিল্লু বিশ্বাসের মিল থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও উড়ন্ত ছাইয়ে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি। বাতাস হলেই ছাই চোখেমুখে ঢুকে যাচ্ছে, বাড়িঘরের ওপর পড়ে খাবারদাবারও নষ্ট হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে মামুন মন্ডলকে গালিগালাজ করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজির অপবাদ দিয়ে ঘটনাটিকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছি।
‎
‎মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে মামুন মন্ডল বলেন, আমি নিজেও এই এলাকার বাসিন্দা। এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা জানিয়ে আমাকে নিয়ে মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা গালিগালাজ ও হট্টগোল শুরু করেন। সেই ঘটনার একটি অংশ সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‎
‎অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স বিশ্বাস অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী জিল্লু বিশ্বাস ও তার ভাই সামসুল বিশ্বাস বলেন, আমাদের মিল থেকে ছাই বা কালো ধোঁয়ার কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বরং মামুন মন্ডল ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমার ভাইকে আহত করেছে। বিষয়টি আমরা সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলকে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
‎
‎এ বিষয়ে পাবনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল গফুর বলেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কোনো কারখানার ছাই যত্রতত্র ফেলে রাখা যাবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন