প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

কাঁপছে ইজরায়েল: ঘাম ছুটছে ট্রাম্পের

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

যে আমেরিকা আর ইজরায়েল সারাজীবন বিশ্বজুড়ে দাদাগিরি করে এসেছে, আজ তাদেরই গলায় ফাঁস পরিয়ে দিয়েছে ইরান! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যারা ফিলিস্তিনের নিরীহ শিশু, হাসপাতাল আর স্কুল গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ‘হিরো’ ভাবে, আজ ইরানের সামনে তারা রীতিমতো লেজ গুটিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে!
আপনারা তো টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন গাজার বুকে ইজরায়েলের নারকীয় ধ্বংসলীলা। স্কুলের ভেতর ঢুকে ১৫০ জন নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা, হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া, পথে-ঘাটে লাশের স্তূপ—কী করেনি নেতানিয়াহুর ঘাতক বাহিনী? আর তাদের নির্লজ্জের মতো অস্ত্র ও মদদ জুগিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু এবার তারা বড্ড ভুল জায়গায় হাত দিয়ে ফেলেছে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ইরানে হামলা করতে গিয়ে এখন নিজেদের পাতা ফাঁদেই আটকে গেছে বিশ্বমোড়লেরা!
ইরান তো ফিলিস্তিন নয় যে মার খাবে আর চুপ থাকবে! ইসরাইলের হামলার পর থেকে পাল্টা মারের চোটে এখন ইজরায়েল ও আমেরিকার হাড়হিম অবস্থা। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে পশ্চিমা জাহাজ চলাচল কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে ইরান। আমেরিকার সেনাঘাঁটি থেকে শুরু করে মিত্র দেশগুলোর অর্থনীতি—সবকিছুতেই মারাত্মক ধাক্কা লেগেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এখন যুদ্ধ থামাতে চাইছে আমেরিকা। আর ঠিক এই মোক্ষম সুযোগেই দাবার ছক উল্টে দিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতির নামে আমেরিকার ভণ্ডামি আর চলবে না। সংঘাত থামানোর জন্য ইজরায়েল ও আমেরিকার সামনে এবার ৩টি চরম ও কড়া শর্ত ছুঁড়ে দিয়েছে নাছোড়বান্দা ইরান:
🔥 . কড়ায়-গন্ডায় ক্ষতিপূরণ চাই: ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের যে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, পরিকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটির যে ক্ষতি হয়েছে—তার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সাধারণ মানুষের রক্তের দাম পশ্চিমা বিশ্বকে চোকাতেই হবে!
🔥 ২. ভবিষ্যতে চোখ তুলে তাকানোর সাহস নয়: আমেরিকাকে লিখিত গ্যারান্টি দিতে হবে যে তারা বা তাদের পোষা কুকুর ইজরায়েল ভবিষ্যতে আর কখনও ইরানের দিকে চোখ তুলে তাকানোর বা হামলা করার সাহস দেখাবে না।
🔥 ৩. ন্যায্য অধিকার ও পরমাণু শক্তি: ইরানকে তার নিজস্ব পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ন্যায্য অধিকার থেকে কিছুতেই বঞ্চিত করা যাবে না। ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যা খুশি করবে, সেখানে নাক গলানোর কোনো অধিকার আমেরিকার নেই।
শর্ত শুনেই হোয়াইট হাউস ও তেল আভিভের ঘুম উড়েছে! নিজেকে বিশ্বের ‘দাদা’ দাবি করা ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ঘাম মুছতে মুছতে প্রকাশ্যেই বলছেন, “আর যুদ্ধ টানা সম্ভব নয়, এক মাসের মধ্যে সব শেষ করতে হবে।” কেন জানেন? কারণ, তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে।
এই তো কয়েকদিন আগের ঘটনা। আমেরিকা চোখ রাঙিয়ে বলেছিল তারা জ্বালানি সরবরাহ আটকে দেবে। কিন্তু তাদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, হরমুজ প্রণালীর বুক চিরে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বিশাল জাহাজ সটান পৌঁছে গেল মুম্বাইয়ে! অর্থাৎ, সাগরের বুকেও আমেরিকার দাদাগিরি আজ স্রেফ কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে।
যে ইজরায়েল কয়েকদিন আগেও বড় বড় কথা বলছিল, আজ তারা ইরানের পরমাণু শক্তির ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে। আমেরিকা বুঝতে পারছে, এই যুদ্ধ বেশিদিন টানলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের কফিনের শেষ পেরেক পোঁতা হয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন