আর মাত্র সাত-আট দিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে ইতিমধ্যে শহর ছাড়তে শুরু করেছে অনেক মানুষ। মূল ঈদযাত্রার সময় কাউন্টারে টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট ও নানা ভোগান্তি এড়াতেই অনেকে আগেভাগে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পুরুষ যাত্রীর তুলনায় নারী, বৃদ্ধ ও শিশুর সংখ্যা বেশি। যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে অনেক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আগে নারী ও শিশুদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা অফিস ছুটি শুরু হলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, মৌচাক, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকার বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
সাইনবোর্ড বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের সঙ্গে আসা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি শুরু হলে মানুষের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পথে যানজট ও ভোগান্তিও থাকে। তাই পরিবারের সদস্যদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ছুটি শুরু হলে আমি পরে চলে যাব।’
ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমাদের ছুটি শুরু হবে আরও তিন দিন পর। তখন সড়কে ভিড় অনেক বেড়ে যাবে। তাই এখনই স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ছুটি শুরু হলে আমি রাতে কোনো এক সময় চলে যাব।’
সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যবসা করা চাঁদপুরের বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমি সাধারণত ঈদের দিন সকালে বাড়ি যাই। কারণ, চাঁদরাতে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়। তাই যানজট এড়াতে পরিবারকে আগে পাঠিয়ে দিই। এবার বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, তাই পরিবারের সবাইকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।’
বাসচালক মতিন বলেন, ‘মানুষ এখন থেকেই বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে। যাত্রীর চাপও বাড়ছে। তবে এখনো কোথাও বড় ধরনের যানজট নেই।’
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছি। মহাসড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আশা করছি, নারায়ণগঞ্জ অংশে যাত্রীদের যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।’

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক 