প্রতি মাসে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ কনটেইনার নিলামে তোলা হচ্ছে। এর বড় অংশ বিক্রি হলেও ডেলিভারি না নেওয়ায় অনেক লট পুনরায় নিলামে তুলতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ নিলামে পণ্য বিক্রিতে সাড়া মিললেও সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা অনুমোদনে দেরি এবং সময়মতো ডেলিভারি না নেওয়ায় নিলাম পণ্যের জট কমছে না। এতে বারবার নিলাম আয়োজন করতে হচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কাঙ্ক্ষিত গতিতে কমছে না নিলামযোগ্য কনটেইনারের চাপ।
নিলাম নীতিমালা ও বাস্তবতাঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী প্রথম নিলামে পণ্যের ভিত্তিমূল্যের ৬০ শতাংশ দরে বিক্রি বাধ্যতামূলক। এ দর না উঠলে একাধিকবার নিলাম দিতে হয়। তবে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত বছরের ১৪ মে বিশেষ আদেশ জারি করে এনবিআর। এতে প্রথম নিলামে ভিত্তিমূল্য ছাড়াই সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে পণ্য বিক্রির বিধান চালু হয়। এ সিদ্ধান্তে নিলামের গতি বাড়লেও সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। অনলাইনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিডাররা অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিডার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না নেওয়ায় জামানতের টাকা হারাচ্ছেন।
কাস্টমস কর্মকর্তার বক্তব্যঃ
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস-এর নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, “নিলাম সম্পন্ন করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লেগে যায়। বিডাররা প্রথম নিলামেই পণ্য ডেলিভারি নিলে পুনরায় নিলাম দিতে হতো না। আবার দ্বিতীয় নিলামে প্রথম দামের সমপরিমাণ দর নাও উঠতে পারে—এ আশঙ্কাও রয়েছে।”
বিডারদের অভিযোগঃ
বিডারদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পণ্য সরাসরি দেখার সুযোগ না থাকায় অনুমানের ভিত্তিতে দর দিতে হয়। ফলে পরে পণ্য বুঝে নেওয়ার সময় প্রকৃত অবস্থা ভিন্ন হলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতায় সময়ক্ষেপণ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, “সময়মতো পণ্য না পেলে লোকসান দ্বিগুণ হয়ে যায়। মাল আগে পেলে ক্ষতিটা অনেক কম হতো।”
পরিসংখ্যানঃ
কাস্টমস সূত্র জানায়, এনবিআরের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ কনটেইনার নিলামে তোলা হচ্ছে। এর বড় অংশ বিক্রি হলেও ডেলিভারি না নেওয়ায় অনেক লট পুনরায় নিলামে তুলতে হচ্ছে।
২০২৫ সালে নিলাম থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে আয় দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে এখনো বন্দরে নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ১০ হাজার কনটেইনার।
উপসংহারঃ
নীতিগত সংস্কার ও নিলামে গতি এলেও ডেলিভারি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সমন্বয় না হলে চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম পণ্যের জট দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ 