ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মানের পাশাপাশি জুলাই শহীদদের ঋণ শোধে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদে আছর নগরীর মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের চেতনা চিরজাগরুক থাকবে। নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় মাথা উঁচু করে বাঁচার অনুপ্রেরণা যুগ থেকে যুগান্তরে দিয়ে যাবে এই আন্দোলন।
তিনি বলেন, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অসংখ্য ভাষা শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা আন্দোলন আত্মত্যাগের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের শিক্ষা দেয়। সর্বস্তরে বাংলা চালুর বিধান শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন বাংলাদেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ৬৫ শতাংশ কোটা আরোপের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমান্বয়ে ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই হাজার শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেও সরকার দলীয় সদস্যরা এখনো তা গ্রহণ না করে জটিলতা সৃষ্টি করছে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ ফয়সল আহমদ শান্ত ও শহীদ ফারুক হোসেনসহ জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে অবিলম্বে দ্বিতীয় শপথ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, জুলাই সনদের বিপরীতে পুরনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রেখে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র জাতি মেনে নেবে না। ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মানের পাশাপাশি চব্বিশের জুলাই শহীদদের ঋণ শোধে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ অপরিহার্য।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও চকবাজার থানা আমীর আহমদ খালেদুল আনোয়ার।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, চকবাজার থানা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ 