রমজান মাসের অন্যতম বরকত হল, এ মাসে ভাল কাজের প্রতিদান বহু গুণে বেড়ে যায়। রোযা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর রোযার প্রতিদান স্বয়ং পরম করুণাময় দয়ালু মেহেরবান মহান আল্লাহ্ তাআলা নিজে দিবেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, দৈনিক উজ্জল বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, রাজিবুল করিম রোমিও।
পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, শুধু আল্লাহর ভয়েই বান্দা পানাহার, যাবতীয় যৌন কামনা বাসনা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকে। অন্যথায়, পৃথিবীর এমন কোন শক্তি কি, যা তাকে গোপনে এক ঢোক পানি পান করা থেকে বিরত রাখতে পারে। রোযাদার পিপাসায় কাতর অবস্থায় ওযু করার জন্য মুখে পানি নেন, কুলি করে মুখভর্তি পানি আবার ফেলে দেন, কিন্তু এক ঢোক পানি কন্ঠনালীর নিচে নামতে দেন না। কার ভয়ে, কার প্রেমে, কার ভালোবাসায়, কোন সত্তার প্রেমে মুগ্ধ হয়ে কুরবানির এই নজরানা কার মুহাব্বতে ত্যাগের এই উপস্থাপনা, কার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্ষুধা পিপাসার এই কষ্ট সহ্য করা, বস্তুত একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার ভয়ে, আল্লাহ তাআলার মুহাব্বতে, আল্লাহ তা’য়ালার ভালোবাসায় বিগলিত হৃদয়ই রোযার কষ্ট সহ্য করে করে তাঁর প্রিয়পাত্র হওয়ার যোগ্য। কেউ দেখছে না, কিন্তু আল্লাহ তায়া’লা তো দেখছেন। কেউ জানছে না, কিন্তু আল্লাহ তায়া’লা তো জানছেন। আহা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি এই অনুভূতি লাভ করতে পারতাম, এজন্যই তো রোযার প্রতিদান দিবেন স্বয়ং পরম করুণাময় দয়ালু মেহেরবান মহান আল্লাহ্ তাআলা। বান্দার চাহিদা মাফিক নয়, বরং মহান রব্বে কারিম নিজের শান অনুযায়ী দিবেন।
রাজিবুল করিম রোমিও আরও বলেন, হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী আদমের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি হতে থাকে, ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ, এমনকি আল্লাহ চাইলে তার চেয়েও বেশি দেন। আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, তবে রোযার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোযা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দিব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দ, এক ইফতারের মুহূর্তে, দুই রবের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে। আর রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম।
জান্নাতে রোযাদার ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। রোযাদারগণ ছাড়া অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। যখন সর্বশেষ রোযাদার ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে, তখন সেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে (জান্নাতের পানীয়) পান করবে। আর যে পান করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না।
রাজিবুল করিম রোমিও আরও বলেন,
মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন, রোযা আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব। কেয়ামতের দিন রোযাদারদের জন্য একটি বিশেষ পানির হাউজ থাকবে, যেখানে রোযাদার ব্যতীত অন্য কারো আগমন ঘটবে না।
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বুকের সাথে মিলিয়ে নিলাম, তারপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি লা’ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোযা রাখবে, পরে তার মৃত্যু হয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করে তারপর তার মৃত্যু হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগমন করে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তখন তিনি বলেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই। আমি পুনরায় তার নিকট এসে একই কথা বললাম। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ।
হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন ওই দরজা দিয়ে কেবল মাত্র রোযাদার ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে- কোথায় সেই সৌভাগ্যবান রোযাদারগণ, তখন তারা উঠে দাড়াবে। তারা ব্যতীত কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর রোযাদারগণ যখন প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
আসুন আমরা পরম করুণাময় দয়ালু মেহেরবান মহান আল্লাহ্ তা’য়ালার সন্তুষ্টির জন্য, আমরা কতোইনা গুনাহ্ করেছি নিজের পরিবার জানেনা আত্তিয় স্বজন জানেনা, নিজের ভুল নিজের গুনাহ্ মাফের জন্য মহান আল্লাহ্ তা’য়ালাকে খুশি করার জন্য, রহমতের জন্য, মাগফিরাতের জন্য, নাজাতের জন্য, সিয়াম পালন করি।
দৈনিক উজ্জল বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই, পবিত্র মাহে রমজানের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
রাজিবুল করিম রোমিও
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
দৈনিক উজ্জল বাংলাদেশ।

শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, চিফ রিপোর্টার 