প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে আগুন

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

লেবু, কাঁচা মরিচ, শষা, খিরা, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, গাঁজর, বেগুনের মত গুরুত্বপুর্ন কিছু সব্জিপণ্যের দামে আগুন লেগেছে।

চট্টগ্রামে রোজার প্রথম দিন থেকেই কাঁচাবাজারে দামের আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ। সবজি ও ইফতারের নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।
১ম রমজানের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর সবচেয়ে বড় সবজি বাজার রেয়াজুদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজি আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ভালো মানের টমেটো বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। ছোট আকারের টমেটো পাওয়া গেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। অথচ দুই দিন আগেও ভালো মানের টমেটো কেজি ৪০ টাকায় মিলছিল, আর ছোট টমেটো পাওয়া যাচ্ছিল ৪ কেজি ১০০ টাকায়।
খিরা ১০০ টাকা, ছোট শসা ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০-১৮০ টাকা, ধনে পাতা ৬০-৮০ টাকা, ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাঁজর ৬০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা এবং বড় শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব সবজি দুই দিন আগেও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে পাওয়া গেছে বলে জানান ক্রেতারা।
ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় লেবু, পুদিনা ও শসার দামও বেড়েছে। বড় আকারের প্রতি জোড়া লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৪০-৫০ টাকায়। এক ডজন লেবু কিনতে লাগছে ২০০-২৫০ টাকা। পুদিনা পাতার কেজি ১১০ টাকা এবং এক আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।
রেয়াজুদ্দিন বাজারের কয়েকজন সবজি বিক্রেতা বললেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই দাম বাড়ছে। রোজার অজুহাতে দাম বাড়ানোর কথা ঠিক নয় বলে দাবী করলেন তারা। আড়তে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
তারা আরও বলেন, নগরীর মোমিন রোড, আন্দরকিল্লা, আগ্রাবাদের এক্সেস রোড, দেওয়ান হাট ও হালিশহর বড়পোল, ইপিজেডের নিউমুরিং রোড ও চকবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছে সবজি রেয়াজুদ্দিন বাজারের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
আগ্রাবাদের ক্রেতা চট্টগ্রাম বেতারের স্টাফ রিদোয়ান বলেন, “শীতকালীন সবজি শেষের দিকে, এখন দাম কমার কথা। কিন্তু এবছর উল্টো হচ্ছে। রোজা শুরু হওয়ায় বিক্রেতারা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়েছেন।”
বন্দরের গৃহকর্মি মুন্নি বিশ্বাষ বাজারে এসে আক্ষেপের সূরে বললেন, রমজান মাস মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র মাস, এমাসে সৃষ্ঠিকর্তার কল্যান লাভের আশায় মানুষের অন্তর ধর্মীয় আবহে পুত পবিত্র থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে সৃষ্ঠিকর্তার পূণ্যের ছেয়ে পণ্যের মুনাফাই মুখ্য মনে হচ্ছে। যে যেভাবেই পারে পণ্যের দাম আদায় করে নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতি নাগরিকদের অস্বস্থিতে ফেলে দিয়েছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ১৬০ টাকা। দেশি মুরগি কেজি ৬২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা।
ডিমের দাম অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে। রেয়াজুদ্দিন বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, নগরীর খুচরা দোকানে ১২০ টাকা।
মুরগি বিক্রেতা সাবির উদ্দিন বলেন, “পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। ফার্ম মালিকরা বলছেন উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে।”

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন নিউজ এবং ভিডিও এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন