সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে চলাচলকারী একটি ডাম্পারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মাহির হোসেন (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বেজুয়া গ্রামে বেজুয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির হোসেন বেজুয়া গ্রামের রবিউল গাজীর ছেলে এবং বেজুয়া ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহির তার বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিল। এ সময় মাটি বহনকারী একটি ডাম্পারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাহির গুরুতর আহত হয়। তবে তার বাবা তুলনামূলকভাবে অল্প আহত হন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত মাহিরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনাকবলিত ডাম্পারটি মাটি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সেটি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সড়কে চলাচল করছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বাবুর আলী গাজীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম ওই ডাম্পারটি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক ডাম্পারটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ জাহিদ আলমের হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত মাহির হোসেনের মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতিও চলছিল বলে জানা গেছে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধ ডাম্পার চলাচল বন্ধ, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান, উজ্জ্বল বাংলাদেশ 