প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

আল্লাহ তা‘আলা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

একদিন একজন বৃদ্ধা মা অত্যন্ত কান্নাকাটি ও আকুল অবস্থায় ইমাম বাকী বিন মাখলাদ (রহ.)-এর কাছে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন:
“হে শাইখ! আমার একমাত্র ছেলে শত্রুদের হাতে বন্দী রয়েছে। তাকে মুক্ত করার জন্য আমার কাছে কোনো মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমার আর কোনো উপায়ও নেই। আপনি যদি এমন কাউকে চেনেন যিনি আমার ছেলেকে মুক্ত করতে পারেন বা সাহায্য করতে পারেন, তাহলে আমার প্রতি খুব বড় অনুগ্রহ করা হবে।
আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে!”
ইমাম বাকী (রহ.) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নম্র কণ্ঠে বললেন:
“আপনি বাড়ি যান। আমি বিষয়টি দেখছি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।”
বৃদ্ধা মা চলে গেলেন।
তারপর ইমাম বাকী বিন মাখলাদ (রহ.) মাথা নিচু করে, অত্যন্ত একাগ্রচিত্তে ও গভীর মনোযোগের সাথে দোয়া। শুরু করলেন। তাঁর ঠোঁট নড়ছিল, চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল, কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারণ করছিলেন না—শুধু মনে মনে আল্লাহর কাছে আকুতি জানাচ্ছিলেন।
কয়েকদিন পর সেই বৃদ্ধা মা তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও বিস্মিত অবস্থায় ইমামের কাছে ফিরে এলেন।
সবাই অবাক হয়ে যুবকটিকে জিজ্ঞাসা করল:
“তুমি কীভাবে মুক্তি পেলে? কী ঘটেছিল?”
যুবকটি বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতার সুরে বলতে লাগল:
“আমি একজন বাদশাহর অধীনে অত্যন্ত কঠোর পাহারায় বন্দী ছিলাম। একদিন আমাকে কাজে লাগানো হয়েছিল। হঠাৎ আমার পায়ের শিকল নিজে নিজে খুলে মাটিতে পড়ে গেল!
পাহারাদাররা চিৎকার করে ছুটে এলো। তারা অবাক হয়ে দেখল, শিকল খোলা! তারা তৎক্ষণাৎ কামার ডেকে আনল এবং আরও মজবুত ও ভারী শিকল দিয়ে আমার পা আটকে দিল।
কিন্তু কামার চলে যাওয়ার পরপরই, যখন আমি একটু হাঁটার চেষ্টা করলাম, তখন সেই নতুন মজবুত শিকলটিও ঝনঝন শব্দ করে ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে গেল!”
পাহারাদাররা পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল। তারা তাদের ধর্মযাজকদের (পাদ্রী/পুরোহিত) ডেকে আনল।
পাদ্রীরা যুবককে জিজ্ঞাসা করল:
“তোমার কি মা আছে?”
যুবক বলল: “হ্যাঁ, আছে।”
তখন তারা পরস্পরে বলাবলি করল:
“নিশ্চয়ই তোমার মায়ের দোয়া কবুল হয়েছে। যার জন্য আসমানের দরজা খুলে গেছে, তাকে পৃথিবীর শিকল দিয়ে আটকে রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
এরপর তারা যুবককে সম্মানের সাথে কিছু পাথেয় দিয়ে মুক্ত করে দিল এবং বিদায় করল।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—
যুবক যে দিন ও যে সময়ে শিকল দুটি পরপর খুলে পড়েছিল, সেই সময়টি ছিল ঠিক সেই মুহূর্ত, যখন ইমাম বাকী বিন মাখলাদ (রহ.) মাথা নিচু করে গভীর মনোযোগে দোয়া করছিলেন।
শিক্ষা
যখন সব জাগতিক দরজা বন্ধ হয়ে যায়,
সমস্ত উপায় ও সামর্থ্য শেষ হয়ে যায়,
তখন একমাত্র দোয়ার দরজা খোলা থাকে।
আর সেই দরজা এমন এক দরজা—যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন।
সূত্র:
ধাহাবী (রহ.) রচিত “সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা” (خণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৯০) এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক গ্রন্থে এ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে—
দোয়া কখনো বৃথা যায় না।
বিশেষ করে মায়ের দোয়া, আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কবুলের মর্যাদা রাখে।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের দোয়াসমূহ কবুল করুন। আমীন। 🤲

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন নিউজ এবং ভিডিও এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন