প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

আসমানের ওপারে যাত্রা: শবে মেরাজের এক মহিমান্বিত ভ্রমণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

🌙 মক্কার আকাশ সেদিন অজস্র তারার মেলায় ঝলমল করছিল। চারিদিকে এক গভীর নিস্তব্ধতা। ঠিক এমন এক রাতে, উম্মে হানির ঘরে তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ। হঠাৎ এক অপার্থিব আলোয় পুরো ঘরটি আলোকিত হয়ে উঠল।
১. জান্নাতি বাহন ও বাইতুল মুকাদ্দাস
নবীজি ﷺ-এর সামনে হাজির হলেন ফেরেশতাদের সর্দার জিবরাইল (আ.)। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এক অদ্ভুত জান্নাতি প্রাণী, যার নাম ‘বুরাক’। এটি ঘোড়ার মতো দেখতে হলেও এর গতি ছিল অকল্পনীয়; প্রতিটি কদম পড়ছিল দৃষ্টির শেষ সীমানায়।
মুহূর্তের মধ্যে বুরাক নবীজিকে মক্কা থেকে ফিলিস্তিনের পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেল। সেখানে পূর্ববর্তী সকল নবীগণ উপস্থিত ছিলেন। নবীজি ﷺ সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সকল নবীদের ইমামতি করলেন।
২. সাত আসমান ও নবীদের সাথে সাক্ষাৎ
বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে শুরু হলো ঊর্ধ্বাকাশের সেই মহাভ্রমণ। এক এক করে তিনি সাতটি আসমান অতিক্রম করতে লাগলেন:
প্রথম আসমান: সেখানে দেখা হলো আদি পিতা আদম (আ.)-এর সাথে। তিনি নবীজিকে প্রাণঢালা স্বাগত জানালেন।
দ্বিতীয় আসমান: সেখানে উপস্থিত ছিলেন হযরত ইয়াহয়া (আ.) ও ঈসা (আ.)।
তৃতীয় আসমান: দুনিয়ার অর্ধেক সৌন্দর্যের অধিকারী হযরত ইউসুফ (আ.) নবীজিকে অভিবাদন জানালেন।
চতুর্থ ও পঞ্চম আসমান: যথাক্রমে হযরত হারুন (আ.) ও হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো।
ষষ্ঠ ও সপ্তম আসমান: সেখানে হযরত মূসা (আ.) ও হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দেখা মিলল। ইব্রাহিম (আ.)-কে দেখা গেল তিনি বাইতুল মামুরে হেলান দিয়ে বসে আছেন।
৩. সিদরাতুল মুনতাহা ও আরশে আজিম
সপ্তম আসমান ছাড়িয়ে নবীজি ﷺ এমন এক স্থানে পৌঁছালেন যেখানে জিবরাইল (আ.)-ও আর এগোতে পারলেন না। সেই সীমানার নাম ‘সিদরাতুল মুনতাহা’। এরপর এক নূরানী বাহনের মাধ্যমে নবীজি ﷺ আল্লাহর অতি কাছে—অর্থাৎ আরশে আজিমে পৌঁছালেন।
সেখানে মহান রবের সাথে তাঁর সরাসরি কথোপকথন হলো। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য একটি বিশেষ উপহার দিলেন— প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ। পরে ফেরার পথে হযরত মূসা (আ.)-এর পরামর্শে কয়েকবার আল্লাহর কাছে আবেদন করার পর তা কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত করা হলো। তবে আল্লাহ ওয়াদা করলেন, কেউ যদি এই ৫ ওয়াক্ত ঠিকমতো আদায় করে, তবে তাকে ৫০ ওয়াক্তেরই সওয়াব দেওয়া হবে।
৪. ফিরে আসা ও সত্যের ঘোষণা
নবীজি ﷺ জান্নাত ও জাহান্নামের বিচিত্র দৃশ্য দেখলেন এবং আসমানের রহস্যগুলো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলেন। এরপর বুরাকের সাহায্যে তিনি আবার মক্কায় ফিরে আসলেন। অবাক করার বিষয় হলো, এত দীর্ঘ যাত্রা শেষ করে আসার পরও তাঁর বিছানা তখনও গরম ছিল এবং দরজার শেকল নড়ছিল।
সকালে যখন তিনি এই ঘটনা মক্কাবাসীদের কাছে বর্ণনা করলেন, কাফেররা তাঁকে উপহাস করতে লাগল। কিন্তু হযরত আবু বকর (রা.) এক মুহূর্ত দেরি না করে বললেন, “মুহাম্মদ ﷺ যদি বলে থাকেন, তবে তা ধ্রুব সত্য।” এই বিশ্বাসের কারণেই সেদিন তিনি ‘সিদ্দীক’ উপাধি পেলেন।
গল্পের শিক্ষা:
নামাজের গুরুত্ব: মেরাজের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো নামাজ, যা মুমিনের জন্য মেরাজ স্বরূপ।
অটল বিশ্বাস: আল্লাহ চাইলে সময়ের গতি থামিয়ে দিয়ে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন।
নবীর মর্যাদা: এই ভ্রমণ প্রমাণ করে যে হযরত মুহাম্মদ ﷺ সৃষ্টি জগতের সমস্ত মানুষের ও ফেরেশতাদের উর্ধ্বে এবং আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন নিউজ এবং ভিডিও এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন