ভারতের ইতিহাসে যাঁকে বলা হয় ‘ভারতের নেপোলিয়ন’—সেই হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য, ইতিহাসে বেশি পরিচিত হিমু নামে। আফগান শাসক শের শাহের সেনাপতি থেকে শুরু করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ—সবকিছুই হয়েছিল তাঁর অসাধারণ সামরিক দক্ষতায়। কিন্তু ভাগ্যের এক ছোট ভুলই তাঁকে হার মানতে বাধ্য করেছিল মাত্র ১৪ বছরের কিশোর সম্রাট আকবরের কাছে।
১৫৫৬ সালে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমু প্রায় জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন। মুঘল সেনা তখন চাপে, অনেকেই পিছু হটছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে যায় ভয়ংকর ঘটনা—
🎯 হঠাৎ একটি তীর এসে লাগে হিমুর চোখে।
রক্তে ভেসে যায় মুখ, হাতছাড়া হয় যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ। সেনাপতি আহত ও অচেতন—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিমুর বিশাল বাহিনীতে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। নেতৃত্বহীন সেনারা ভেঙে পড়ে, আর সেই সুযোগটাই নেয় মুঘল বাহিনী।
⚔️ আহত হিমুকে জীবিত অবস্থায় বন্দি করা হয়। কিশোর আকবরের সামনে হাজির করা হলে, তৎকালীন রিজেন্ট বৈরাম খানের নির্দেশে হিমুর শিরচ্ছেদ করা হয়।
একটি তীর, একটি মুহূর্তের দুর্ঘটনা—আর সেখানেই শেষ হয়ে যায় দিল্লির হিন্দু সম্রাট হওয়ার স্বপ্ন।
📌 ইতিহাস বলে, শক্তি আর বীরত্বই সব নয়—যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ছোট ভুল, এক সেকেন্ডের দুর্ভাগ্যও ইতিহাস বদলে দিতে পারে।
হিমু আজও স্মরণীয় তাঁর উত্থানের জন্য, যেমন স্মরণীয় তাঁর করুণ পতনের জন্য।
✨ ইতিহাসের পাতায় হিমু—এক সাহসী যোদ্ধা, যাঁকে হার মানতে হয়েছিল ভাগ্যের কাছে।

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক 