একদিন আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর ভেড়ার পাল চরাচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে মন্তব্য করল:
“যদি আল্লাহই রিযিক দাতা হন, তবে এত কষ্ট করে কাজ করার কী দরকার?”
লোকটির কথা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মনে গভীর ভাবনার সৃষ্টি করল। তিনি নীরবে চিন্তা করতে লাগলেন: ‘সত্যিই তো, আল্লাহই সব কিছুর রিযিক দাতা। তবে কেন মানুষকে পরিশ্রম করতে হয়?’
এইভাবে গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকাকালে একসময় তিনি একটি দৃশ্য দেখলেন।
তিনি দেখলেন, একটি পাখি তার ঠোঁটে করে একটি পোকা নিয়ে উড়ে যাচ্ছে। পাখিটি কাছেই থাকা একটি গাছের গর্তে থাকা তার ছোট ছোট বাচ্চাদের সেই পোকাটি দিয়ে খাওয়াচ্ছে।
তাওয়াক্কুলের শিক্ষা
এই দৃশ্য দেখে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মনের দ্বিধা দূর হলো এবং তাঁর অন্তর খুলে গেলো। তিনি বুঝলেন:
যেভাবে আল্লাহ্ তাঁর ছোট পাখির বাচ্চাদের কাছেও রিযিক পৌঁছে দেন, তেমনি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ্ নিজেই নিয়েছেন। তবে সেই রিযিক পেতে মানুষকে অবশ্যই চেষ্টা ও পরিশ্রম করতে হয়। আর বাকিটার জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা বা তাওয়াক্কুল করতে হয়।
তিনি আল্লাহর প্রতি নতুন করে তাওয়াক্কুল (ভরসা) স্থাপন করলেন এবং কাজের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করলেন।
শিক্ষা:
আল্লাহই চূড়ান্ত রিযিকদাতা (আল-রাযযাক)। কিন্তু আল্লাহর রিযিক পেতে হলে চেষ্টা, পরিশ্রম এবং তাওয়াক্কুল—এই তিনটির সমন্বয় ঘটাতে হয়। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কাজ করাই মুমিনের কর্তব্য।

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক