প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

লোভের বিষাক্ত পরিণতি

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

একবার রুহুল্লাহ হযরত ঈসা (আঃ) এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে সফরে বের হলেন। তাঁদের সাথে খাবারের সম্বল ছিল মাত্র তিনটি রুটি। পথের এক নদীর তীরে বসে তাঁরা দুটি রুটি খেয়ে নিলেন। এরপর ঈসা (আঃ) পানি পান করতে নদীর কিনারে গেলেন। ফিরে এসে দেখলেন ঝুড়িতে থাকা অবশিষ্ট একটি রুটি উধাও!
তিনি সাথীকে জিজ্ঞেস করলেন, “তৃতীয় রুটিটি কে নিয়েছে?” লোকটি নির্বিকার চিত্তে উত্তর দিল, “আমি জানি না।” ঈসা (আঃ) চুপ থাকলেন এবং পুনরায় পথ চলা শুরু করলেন।
অলৌকিক নিদর্শন ও একগুঁয়ে মিথ্যা
পথে যেতে যেতে তাঁরা একটি হরিণী ও তার দুটি বাচ্চা দেখতে পেলেন। ঈসা (আঃ) একটি বাচ্চাকে ডাক দিলেন। বাচ্চাটি কাছে এলে তিনি সেটিকে জবাই করে তার গোশত ভুনা করলেন এবং দুজনে মিলে আহার করলেন। খাওয়া শেষে তিনি হাড়গুলো একত্র করে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে জীবিত হয়ে যাও!” মুহূর্তেই হরিণটি জীবিত হয়ে দৌড়ে পালাল।
ঈসা (আঃ) লোকটিকে বললেন, “যিনি হরিণটি জীবিত করার মোজেজা দেখালেন তাঁর কসম! বলো রুটিটি কে নিয়েছে?” লোকটি এবারও বলল, “আমি জানি না।” কিছুদূর পর সামনে পড়ল এক উত্তাল নদী। কোনো নৌকা নেই। ঈসা (আঃ) লোকটির হাত ধরে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হলেন। ওপাড়ে পৌঁছে তিনি বললেন, “যিনি পানির ওপর দিয়ে হাঁটার শক্তি দিলেন তাঁর কসম! বলো রুটিটি কে নিয়েছে?” লোকটি একইভাবে বলল, “আমি জানি না।”
সোনার পাহাড় ও মিথ্যার অবসান
এক বনের কাছে পৌঁছে ঈসা (আঃ) অনেকগুলো বালি স্তূপ করলেন এবং বললেন, “হে বালি! আল্লাহর হুকুমে সোনা হয়ে যাও।” অমনি বালির স্তূপটি খাঁটি সোনায় পরিণত হলো। ঈসা (আঃ) সোনাগুলোকে সমান তিন ভাগ করে বললেন:
“এক ভাগ আমার, এক ভাগ তোমার; আর তৃতীয় ভাগটি তার—যে ওই রুটিটি নিয়েছিল।”
সোনা দেখে লোকটির চোখ চকচক করে উঠল। সে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বলে উঠল, “হে আল্লাহর নবী! রুটি তো আমিই নিয়েছিলাম!” ঈসা (আঃ) দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “তবে এই সব সোনাই তোমার। তুমি এগুলো নিয়ে থাকো, আমি চললাম।” এই বলে তিনি লোভী লোকটিকে বনের ধারে রেখে চলে গেলেন।
লোভের বিষাক্ত শেষ অঙ্ক
লোকটি এখন অগাধ সোনার মালিক। সে যখন সেই সম্পদ সরাবে, এমন সময় সেখানে আরও দুই পথচারী উপস্থিত হলো। তারা সোনার লোভে লোকটিকে হত্যার হুমকি দিল। লোকটি চালাকি করে বলল, “মারামারি না করে চলো আমরা তিন ভাগে সোনা ভাগ করে নিই। তবে তার আগে আমাদের খাওয়া দরকার। একজন বাজারে গিয়ে খাবার নিয়ে এসো।”
একজন বাজারে গেল। তার মনে কুচিন্তা এল— “খাবারে বিষ মিশিয়ে দিলে ওরা দুজন মারা যাবে আর সব সোনা আমার হবে।” সে খাবারে বিষ মিশিয়ে দিল। ওদিকে বাকি দুজন বনের ধারে বসে পরামর্শ করল— “ও বাজার থেকে ফিরলেই আমরা ওকে মেরে ফেলব, তাহলে সোনা দুভাগে ভাগ হবে এবং আমরা বেশি পাব।”
বাজার থেকে লোকটি খাবার নিয়ে আসামাত্রই বাকি দুজন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে হত্যা করল। এরপর তারা মনের আনন্দে বিষ মেশানো সেই খাবার খেতে বসল। কয়েক গ্রাস খাওয়ার পরই বিষক্রিয়ায় তারা দুজনও ছটফট করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।
সম্পদ ও বাস্তবতার শিক্ষা
কিছুদিন পর ঈসা (আঃ) আবার সেই পথ দিয়ে ফিরছিলেন। তিনি দেখলেন, সোনার তিনটি স্তূপ নিঝুম বনে অযত্নে পড়ে আছে, আর তার পাশে পড়ে আছে তিনটি পচা লাশ। তিনি সাথীদের ডেকে বললেন:
“দেখো! এটাই হলো দুনিয়ার সম্পদের হাকীকত। এটি মানুষের মাঝে লোভের জন্ম দেয় এবং শেষে কাউকেই সুখী হতে দেয় না। তাই সম্পদের এই বিধ্বংসী লোভ থেকে নিজেদের বাঁচাও।”
গল্পের শিক্ষা:
১. লোভের পরিণতি: লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং চূড়ান্ত লাঞ্ছনা ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। ২. মিথ্যার ধ্বংস: মিথ্যা বলে পার্থিব সম্পদ পাওয়া গেলেও তা কখনো বরকত বা স্থায়ী সুখ আনে না। ৩. দুনিয়ার অসারতা: মানুষ সম্পদের পেছনে দৌড়ায়, কিন্তু শেষে সম্পদ পড়ে থাকে আর মানুষ শূন্য হাতে বিদায় নেয়।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন