প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

দীর্ঘ ক্যানভাসের নারী খালেদা জিয়া

এস এম শিমুল (লেখক ও ফিচার কলামিস্ট)

উপমহাদেশের কণ্টকময় রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু চরিত্রের জন্ম হয়, যাঁরা নিছক ক্ষমতার কাঠামোয় আবদ্ধ নন; বরং নিজেরাই এক একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন নিছক কোনো রাজনৈতিক জীবন ছিল না—তা ছিল শোক, সংঘাত আর অদম্য সংগ্রামের এক বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র। আজ তাঁর বিদায়ে পুরো দেশে বিষাদের সুর। ধ্রুবতারার মতো উদয় হয়ে তিনি এক মহাকাব্যের ধ্রুবতারা হয়েই বিদায় নিলেন। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও জনজীবনের সংগ্রামে তিনি ছিলেন নিভৃতচারী গৃহবধূ, ইতিহাসের এক অনিবার্য বাঁকে তিনিই পরিণত হলেন এক ‘আপোষহীন’ রাজনৈতিক পরিচয়ে। যৌবনেই স্বামী হারানো, কুৎসার ঢেউ আর ব্যক্তিগত শোককে জয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা আর সন্তানের বিয়োগব্যথা তাঁকে দুর্বল করেনি, বরং এক অদম্য নীরব শক্তিতে পরিণত করেছিল। তাঁর সেই প্রাজ্ঞ নীরবতাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ঢাল।রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও এক অনন্য উচ্চতায়- রাজনীতিতে শালীনতা ছিল তাঁর কবচ, আর গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল তাঁর অস্ত্র। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে। আজ তাঁর এই মহাপ্রয়াণে বাংলার আকাশ-বাতাস স্তব্ধ। দেশনেত্রীর বিদায়ে শোকাচ্ছন্ন জনপদ আজ অনুভব করছে এক বিশাল শূন্যতা। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, চারিত্রিক দৃঢ়তা আর দেশপ্রেম থাকলে হিমালয়সম প্রতিকূলতাও জয় করা সম্ভব। মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়-নক্ষত্রের পথে যাত্রা-দীর্ঘ রোগভোগের পর এই মহীয়সী নারীর জীবনপ্রদীপ আজ নিভে গেছে। কৃতিমানের মৃত্যু নেই; তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সামনে ইতিহাসের বাতাস আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। নক্ষত্রের মতো আলোকময় এই উপস্থিতি আজ অনন্ত নক্ষত্রবীথির দিকে উড়াল দিয়েছে। দূর ভবিষ্যতে হাজারো তরুণ তাঁর জীবনগাথা পড়ে অনুভব করবে—একদিন বাংলাদেশে এক নারী এসেছিলেন, যিনি জাতির বুকে ঢেলে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা, দৃঢ়তা আর অটল সাহসের আশ্রয়। আজ তাঁর প্রস্থানে দেশজুড়ে যে হাহাকার, তা প্রমাণ করে তিনি কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন কোটি মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা। তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে চিরকাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর উপস্থিতি যেমন ছিল নক্ষত্রের মতো দীপ্তিময়, তাঁর প্রস্থানও হলো মহাকাব্যের এক অটুট দীপ্তি ছড়িয়ে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন