‘তারপর একদিন: ভরা জ্যোৎস্নায় আমিও চলে যাবো একমাত্র নিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে চির নবান্নের দেশে। জেনে যাবো—”সবকিছুই বড় দেরিতে আসে, বড় দেরিতে ধরা দেয়; হারিয়ে যায় সেও হঠাৎ করেই”।’
১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চুর তুমুল জনপ্রিয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সেই অ্যালবামের কভারে লেখা ছিলো এই কথাগুলো। লিখেছিলেন নিয়াজ আহমেদ অংশু।
এর আগে আশির দশকে আইয়ুব বাচ্চুর দুটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হলেও এলআরবি গঠনের পর এটিই ছিল তার প্রথম একক অ্যালবাম৷ এই অ্যালবামই বাচ্চুকে বাংলা ব্যান্ড বা রকগানের সিংহাসনে বসিয়ে দেয়।
কিন্তু কেন এত জনপ্রিয় হলো ‘কষ্ট’? এখানে আইয়ুব বাচ্চুর চমৎকার গায়কী ও গানগুলোর কথার যেমন ভূমিকা ছিল, তেমনিভাবে ভূমিকা ছিল আইয়ুব বাচ্চুর জাদুকরি সুরের। যদিও নিজ নাম ব্যবহার না করে তিনি সুর ও সংগীতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন ডাকনাম ‘রবিন’।
অ্যালবামটির সব গানের কম্পোজিশন অত্যন্ত চমৎকার। ‘কষ্ট’ নিয়ে গান ছিল তিনটি, সবগুলোই অসাধারণ। ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’-তে মেলোডি ও রকের এক অনবদ্য সমন্বয় ঘটান বাচ্চু। কি-বোর্ড ও গিটারের দুর্দান্ত মেলবন্ধন, মিনিমাল ড্রাম আর বেজ গানটির ভারসাম্য রক্ষা করেছেন দারুণভাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাচ্চুর ন্যাচারাল প্যাথোসে পূর্ণ কণ্ঠ।
‘কষ্ট আমার এই বুকে’ গানে হার্ড রকের সঙ্গে মেলোডির মেলবন্ধন পাওয়া যায়। এই গানটিতে বাচ্চুর গিটার বাদন আন্তর্জাতিক মানের। গানটি হার্ড রক ও মেলোডিক রকের মাঝামাঝি পথ ধরে চলেছে।
‘কষ্ট কাকে বলে’ একদম মেলো রক গান। এখানে শুরুতেই আমরা শুনতে পাই কি-বোর্ডের দুর্দান্ত একটি ইন্ট্রো। এই গানটির পুরোটাজুড়েই এই কি-বোর্ডটাই প্রধান। আর তার সঙ্গে যুক্ত হয় বাচ্চুর উদাত্ত কণ্ঠে প্রকাশিত হাহাকার, যা ছড়িয়ে পড়ে আমাদের মনোজগতের চরাচরে।
‘অবাক হৃদয়’ গানটিতে হালকা ব্লুজ নোটের প্রয়োগ আছে। এই গানে যে অনুভূতিশূন্যতা বা নাম্বনেস আমরা পাই, সেটিকে আরও মূর্ত করেছে এই ব্লুজ নোটের প্রয়োগ।

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক 