প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

লেমুয়ায় অযোগ্য পরিচালকের হাতে মাদ্রাসা পরিচালনা

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

নেওয়াজপুর নাজমুন ওয়ালিয়া নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এক দশক ধরে আর্থিক অ透明তা—প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবক–এলাকাবাসী।
ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর গ্রামে অবস্থিত নেওয়াজপুর নাজমুন ওয়ালিয়া নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা, যা দীর্ঘদিন সুশৃঙ্খল ধর্মীয় শিক্ষার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল—সেই প্রতিষ্ঠান আজ চরম সংকটের মুখে।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে বহুমুখী অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রবল হয়ে উঠেছে। অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: দাতাদের অকৃত্রিম সহযোগিতায় গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
১৯৯৫ সালে লন্ডন প্রবাসী জুলফিকার হায়দার তাঁর বাবা ওয়ালি আহম্মদ ও মেয়ে নাজমুন হায়দারের নামে মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হলে স্ত্রী সাজেদা হায়দার ও দুই মেয়ে জোসনা ও জবা হায়দার বহু বছর বিদেশ থেকে অর্থায়ন চালিয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি—এই উদার দাতাদের অর্থায়নই মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রেখেছে; কিন্তু পরিচালনায় ভুল সিদ্ধান্ত, শিক্ষক বদলি ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আরিফুল ইসলাম ধীরে ধীরে ক্ষমতা দখলের পথ তৈরি করেন।

যোগ্যতা প্রশ্নে ঘোর সন্দেহ
অভিযোগ রয়েছে—আরিফুল ইসলামের প্রধান শিক্ষক হওয়ার মতো কোনো শিক্ষাগত বা ধর্মীয় যোগ্যতা নেই।
তথ্যমতে, তিনি পূর্বে নেওয়াজপুর জামে মসজিদ ও পাজেগানা মসজিদে মোয়াজ্জেম পদে দায়িত্ব নিলেও সুরা-কেরাত ও ধর্মীয় জ্ঞানে দুর্বলতার কারণে দুই স্থান থেকেই বিদায় নিতে হয়।

২০১৫ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা রাকিব হোসেন প্রবাসে গেলে সাময়িক দায়িত্ব পান আরিফুল ইসলাম।
অভিযোগ, পরে তিনি পরিচালনা কমিটির কয়েকজনকে প্রভাবিত করে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করেন।

হিসাব–নিকাশে অ透明তা: আয়ে গরমিল, ব্যয়ে অতিরঞ্জন
দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশের হাতে আসা বিভিন্ন বছরের হিসাবের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়—

২০১৮ সালের অনিয়ম
ছাত্রপ্রতি মাসিক ২০ টাকা বিদ্যুৎ বিল নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো আয়ের হিসাব নেই
কিন্তু ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২,১৬৩ টাকা
বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি যাতায়াত খরচ ১০,৫৫৮ টাকা
গরিব ছাত্রদের সাহায্যের নামে দেখানো ১৪,০০০ টাকা কোনো ছাত্র পাননি
গ্যাস বিল দেখানো ৮,৮০০ টাকা, অথচ স্থানীয় প্রবাসীর দেওয়া লাইনের গ্যাস ছিল বিনামূল্যে
২০১৯ সালের অনিয়ম
কোচিং ফি আয় হিসাবে ৬,১০০ টাকা, কিন্তু ২০০ টাকা করে ৭০ জন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বার্ষিক আয় হওয়া উচিত প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা
বিদ্যুৎ বিল আয়ে মাত্র ১,১৩০ টাকা দেখানো
গরিব ছাত্রদের সাহায্য ৯,২৫০ টাকা দেখানো হলেও কেউ পায়নি
পূর্ব বছরের উদ্বৃত্ত ৩২,২৩৬ টাকা থাকা সত্ত্বেও নতুন হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৬,৯০৩ টাকা কর্জ
২০২৪ সালের অনিয়ম
ছাত্র সংখ্যা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল আসার কথা থাকলেও দেখানো হয়েছে মাত্র ৩,৯১০ টাকা
ঘর মেরামতের খরচ প্রতিবছর একইভাবে ৫৭,০০০ টাকা—যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন
গোরাবা ফাউন্ডে “ছাগল দান” নামে খরচ দেখানো হয়েছে ১,১৪,৭০০ টাকা, কিন্তু বাস্তবে দাতাদের দেওয়া ছাগল ছাত্রদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি—আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন উৎস থেকে বার্ষিক লক্ষাধিক টাকা আসলেও প্রতি বছর হিসাবের খাতায় ‘কর্জ’ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছেন।

অবৈধ অনলাইন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ
একাধিক সূত্রের দাবি—
প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বাইনান্স, লিভ গুডসহ অননুমোদিত ক্রিপ্টো, জুয়া এবং সফটওয়্যারভিত্তিক লেনদেনে জড়িত।
এছাড়া তিনি অনলাইনে “পুরনো পণ্য–লেনদেন” নামে আর্থিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেন।

অভিযোগ রয়েছে—এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ছাত্রদের জন্য নেতিবাচক উদাহরণ।

অস্বাভাবিক বিনিয়োগ: “প্রাণ কড়ি”, “আলফা ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স”
সূত্র জানায়—আরিফুল ইসলাম

“প্রাণ কড়ি” নামে অবৈধ সমবায় সমিতিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন
“আলফা ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স”-এ তাঁর মোটা বিনিয়োগ রয়েছে
অভিযোগ—এই অর্থের বড় অংশ মাদ্রাসা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে
এতে এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

শিক্ষকের দায়িত্ব ফেলে ব্যক্তিগত ব্যবসা–বানিজ্য
অভিযোগ রয়েছে—প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম প্রতিদিন দুপুরে মাদ্রাসা ছেড়ে ফেনী শহরে নিজস্ব ব্যবসা দেখতে যান এবং রাত ১০টার দিকে ফেরেন।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন